জগন্নাথপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি : গুলিবিদ্ধ ৫ জন : আহত ১২

0
136

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। ডাকাতদের হামলায় মহিলা ও শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে ডাকাতদের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে ৫জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহতদের আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার রাত ২টায় এ দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ডাকাতদের হামলায় আহতদের বৃহস্পতিবার সকালে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে, এদের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর জরুরী বিভাগের ডিউটিরত ডাক্তার জামিল ও ডাক্তার রুবেল বলেন, গুলিবিদ্ধ আব্দুল হেকিম (৩৫), সাহেব আলী (৪০) ও আব্দুর রব (৪৫) এই ৩ জনের শরীরে ১৫-২০টি করে গুলি রয়েছে। রামদার আঘাতে গুরুত্বর আহত লাল মিয়াসহ ৪ জনকে  আশংকা জনক অবস্থায় সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।

ডাকাতদের মারধরে অন্যান্য আহতরা হচ্ছে গৃহকর্তা লাল মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৫), নিকট আত্মীয় সাহেদা বেগম (৪০), ছেলে লিফাস উদ্দিন (২২), মেয়ে মনি বেগম (১৫), ছেলে নাঈম (১০), সেরুয়ান (৯)। ডাকাতের হামলার শিকার পরিবারের লোকদের চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন।

এসময় ডাকাতদের হাত থেকে ২টি পাইপগান আটক করতে সক্ষম হলেও ডাকাতরা গরুসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে ইঞ্জিন নৌকা ছেড়ে মই হাওর দিয়ে পালিয়ে যায়। ডাকাতদের রামদার আঘাতে গুরুত্বর আহত গৃহকর্তা লাল মিয়ার ছেলে লিফাছ উদ্দিন (২২) । (সে নিজেও রামদার আঘাতে আহত) জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে বড় ১টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে ১৫/২০ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল আমাদের বাড়ীতে হানা দেয়।

এ সময় তারা গরু ঘরের মাঠির বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করে ১০টি গরু বের করে নৌকায় তুলে নেয়। আমরা ডাকাতদের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে, ডাকাত দল আমাদের সবাইকে বেঁধে বেদম প্রহার করে এবং পাইপগান টেকিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। এসময় বাড়ীতে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা, ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২টি মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজনসহ গ্রামবাসী জড়ো হয়ে ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। এসময় ৫টি গরু নৌকা থেকে আমরা নামিয়ে আনতে সক্ষম হই। এসময় ডাকাতরা আমাদের উপর গুলি চালায়। গুলিতে আব্দুল হেকিম (৩৫), সাহেব আলী (৪০) আব্দুর রব (৪৫) এই ৩জনকে গুলিতে ঝাজরা করে দেয় ডাকাতরা।

এছাড়া আমার বাবাকে তারা রমদা দিয়ে মুখের মধ্যে আঘাত করে গুরুত্বর আহত করেছে। এই ৪ জনকে আংশকাজনক অবস্থায় সিলেজ এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনান্য আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজন জানান, ডাকাতদল অস্ত্র ঠেকিয়ে আমাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, ৫টি গরু ও মূল্যবান মালামালসহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

ডাকাত দলের লোকজন ঘরে থাকা মহিলাদের কানের সোনার দুল ও গলার চেইন ছিড়ে নেয়। নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে আসলে ডাকাত দল গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হন ৩ জন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে ডাকাতি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ডাকাতির শিকার লিফাস উদ্দিন।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, এটা ডাকাতি নয়, দুঃসাহসিক চুরি সংঘঠিত হয়েছে। ডাকাতরা কখনও গরু চুরি করতে আসে না। তাই এখানে কোন ডাকাতি হয়নি, এটি চুরিমাত্র। খবর পেয়ে আমাদের পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরদের ধরতে  আমরা অভিযান চালাব।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here