ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে আরো ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুত জাতীয় গ্রীডে যাচ্ছে

0
124

সিলেটের সংবাদ ডটকম: বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় নির্মিত বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড।

এটি দেশী প্রকৌশল, প্রকিউরমেন্ট ও নির্মাণ (ইপিসি) ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্মিত প্রথম কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। চলতি মাসে এ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশী প্রথম ইপিসি ঠিকাদার হিসেবে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। ‘কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের’ এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৬৩ মেগাওয়াট। ২০১৭ সালের শেষ দিকে এটি পূর্ণ উত্পাদনে যাবে।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশে এই প্রথম বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করতে সমর্থ হলো দেশীয় কোনো কোম্পানি। বাংলাদেশি প্রথম ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট এন্ড কন্সট্রাকশন) কন্ট্রাকটার হিসেবে কম্বাইন্ড সাইকেল এই বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করল ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রথম দেশীয় প্রকৌশলীরা সিম্পল সাইকেল চালু করে।

এই পাওয়ার প্ল্যান্টটি ফ্রেম ৯ ই গ্যাস টারবাইন দ্বারা পরিচালিত। সাড়ে চার কিলোমিটার ২৩০ কেভি বিদ্যুত্ সরবরাহ লাইন নির্মাণ করে ফেঞ্চুগঞ্জ সাব স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হলো। সিলেটের কুশিয়ারা নদীর তীরে ‘কুশিয়ারা বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র’টি নির্মাণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ২৭ একর জায়গা জুড়ে।

৮০ জন প্রকৌশলীসহ মোট ৯শ ৫০ জন কর্মী কাজ করছেন। প্রকল্পের ইপিসি ব্যয় ১ হাজার ৮০ কোটি টাকা। দিন-রাত কাজ চলে এখানে। ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে, কর্মীদের নিরাপত্তা ও আশপাশের পরিবেশের বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।

নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর ১৭ মাসের মধ্যে সিঙ্গেল সাইকেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। আগস্টের প্রথম থেকে এ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে কম্বাইন্ড সাইকেলের উৎপাদন শুরু হবে বলে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তখন উৎপাদন ৫৪ মেগাওয়াট বাড়বে বলে তারা জানান। এ নিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও এলাকা থেকে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৪০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানির পাশেই রয়েছে পিডিবির দুটি কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ২০১ মেগাওয়াট। এর পাশে রয়েছে এনার্জিপ্রিমা ও বারাকাতুল্লাহ নামে দুটি বেসরকারি বিদুৎকেন্দ্র।

এ দুটির উৎপাদন সক্ষমতা ৯৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে বারাকাতুল্লাহ ২০০৯ সালে ও এনার্জিপ্রিমা ২০১২ সালে চালু হয়। তবে উৎপাদনক্ষমতার দিক থেকে নবনির্মিত কুশিয়ারাই সর্ববৃহৎ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও ইউনিয়নের মইনপুর এলাকায় ১৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ২০১৩ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি করে।

সরকারের সঙ্গে ২৫ বছরের এ চুক্তি অনুযায়ী ২২ মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। আর এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে ২২ বছর। ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে অনেক দ্রুততম সময়েই এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।

ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম দেশীয় ইপিসি ঠিকাদারের মাধ্যমে একটি কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এ দেশের প্রকৌশলীরা সিঙ্গেল সাইকেল চালু করলেন। এছাড়া দেশে এই প্রথম এত অল্প সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলো।

পাশাপাশি আমরা দেশে প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত গ্যাস ইন্সুলেটেড সুইচইয়ার্ড (জিআইএস) ও ইন্সুলেটেড ফেসবাসডাক্টের (আইপিবিডি) সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। তিনি বলেন, দেশী ইপিসি ঠিকাদারের বদলে বিদেশী প্রতিষ্ঠান এ কাজ করলে নির্মাণ ব্যয় ও সময় অনেক বেড়ে যেত। এছাড়া জবাবদিহিতারও তেমন সুযোগ থাকত না।

দেশীয় প্রতিষ্ঠান কাজ করায় ব্যয় প্রায় তিন ভাগ কমে গেছে। সময়ও কম লেগেছে। আগামীতে আরো দেশী প্রতিষ্ঠান এ কাজে এগিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জানা যায়, গ্যাসভিত্তিক কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানিতে গ্যাস সরবরাহ করছে জালালাবাদ গ্যাস। প্রতিদিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ২ কোটি ৮০ লাখ ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হয়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেয়ার জন্য সাড়ে চার কিলোমিটার ২৩০ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনও নির্মাণ করেছে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

নবনির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঘুরে দেখা যায়, সিঙ্গেল সাইকেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। পাশাপাশি চলছে কম্বাইন্ড সাইকেলের নির্মাণকাজ। ৮০ জন প্রকৌশলীসহ মোট ৯৫০ জন কর্মী এখানে কাজ করছেন।

প্রকল্পের ইপিসি ব্যয় ১ হাজার ৮০ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের সিলেট কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানি থেকে নতুন করে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে সিলেটের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সিলেটে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে বলে তিনি জানান।

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here