আখালিয়ায় রাতে আধারে চলছে টিলা কাটা উৎসব : পুলিশ নিরব

0
143

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট নগরীর ৮নং ওয়ার্ড সিটি আখালিয়া হাওলদার পাড়া এলাকায় যেন শুরু হয়েছে টিলা কাটা উৎসব। টিলা কেটে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছেই বটে তার সাথে তৈরি করা হচ্ছে আবাসন প্রকল্প।

এরই মধ্যে কয়েকশ’ একর টিলা কেটে সাফ করা হয়েছে। যেগুলো বাকি আছে সেগুলোও কেটে ফেলার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চলছে, সেগুলো কেটে ফেলার জন্য নানান কৌশল উদঘাটন করছে ভূমিদস্যুরা।

প্রাকৃতিক ছায়াঘেরা বৃহত্তর আখালিয়া এলাকার আগের চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। এখন তাকালেই দেখা যায় ন্যাড়া মাথার মতো লাল মাটি। টিলা কেটে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য আবাসন প্রকল্প। সরেজমিন আখালিয়া হাওলদার পাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টিলার মাটি কেটে সেখানে তৈরি করা হয়েছে প্লট, বাসা, বাড়ি সহ নানান হাউজিং প্রকল্প।

স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বী ব্যক্তি জানান, এক সময় তারা ওই টিলায় বনমোরগ শিকার করতেন। অজিত দাস নামের এক ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচায় দিয়ে টিলা কেটে এখান আবাসিক এলাকা গড়ে তোলে। প্রায় কয়ক একর জমির ওই টিলার গাছপালা কেটে উজাড় করার পর প্লট তৈরি করে বিক্রি করা হয়। হাওলদার পাড়ায় আবাসিক এলাকায় শত শত ভবন তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সিলেট জুড়ে যেভাবে টিলা ও পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে তাতে মনে হয় আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে সিলেটকে টিলামুক্ত করে ফেলবে ভুমিদস্যুরা, অতীতে এরকম আর কাটা হয়নি। গত রবিবার রাতে নগরীর আখালিয়া হাওলদার পাড়ায় টিলায় গিয়ে দেখা যায়, এখন আর আগের মতো টিলা নেই।

টিলা কেটে তৈরি হয়েছে বাসাবাড়ি। এখনও বেশ কিছু টিলা বেঁচে আছে ক্ষত নিয়ে। কিছু কিছু টিলার অবস্থা ভালো থাকলেও সেগুলোও গিলে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কৌশলে টিলার পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে খুপড়ি ঘর। সামান্য টাকায় এসব ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে স্বল্প আয়ের মানুষজন। এরপর কৌশল হিসেবে সংস্কারের নামে টিলা কাটা শুরু হয়।

সংস্কারে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য মালিকরা যান পরিবেশ অধিদফতরে। সেখানে গিয়ে টিলার মাটি ধসে পড়ছে, সংস্কার করতে হবে এমন আবেদন জানান তারা। এরপর কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই পরিবেশ অধিদফতর সংস্কারের অনুমতি নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাওলদার পাড়ার এক মুরব্বী জানান, এসব টিলা কাটার বিষয়টি এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনের নজরে দিয়েছেন।

পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে প্রকাশ্যেই এবং রাতে আধারে টিলা কাটা হয়েছে। প্রতি রাতে প্রশাসনে কর্মকর্তা অজিত দাসে‘র কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে টিলার মালিক অজিত দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনুমোদন নেওয়া হয়েছে এবং সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিলেট জেলা প্রশাসক‘র কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

হাওলদার পাড়া মৃত্য অমূল তালুকদার পুত্র অজিত দাস তালুকদার । টিলা কাটা সাথে জড়িত বা টিকাদার বলে আছকর আলী সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, টিলার মালিক প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তাদের সাথে আলা-আলোচনা করে তিনি টিলা কাটছে, এতে আমাদের কিছু হবে না। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য টানানো সাইনবোর্ডে বলা হয়েছে- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬ খ ধারা মোতাবেক কোন বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যাক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা যাবে না।

যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য সাইনবোর্ডটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কোতোয়ালী থানার ওসির মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে টানানো এই সাইনবোর্ডে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ আদেশ দেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা জানান, সিলেটের টিলা কাটা বন্ধে তারা অনেকবার পরিবেশ অধিদফতর, সিটি কর্পোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তব্যরত ব্যক্তিদের চিঠি দিয়েছেন তিনি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলামের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর অথবা কোন ব্যক্তি অভিযোগ দিলে পুলিশের পক্ষে থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here