পরিবহন জটিলতায় গোলাপগঞ্জ কৈলাশটিলা ফ্যাকশনেশন প্লাান্ট বন্ধ : ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকা

0
174

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৈলাশটিলা ফ্যাকশনেশন প্লান্ট ১ সপ্তাহ ধরে পরিবহন জটিলতার কারণে বন্ধ রয়েছে। সপ্তাহখানেক ধরে অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানী পদার্থ পৃথকীকরণ এ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এক পক্ষ অন্য পক্ষের উপর দোষ চাপিয়ে দায় এড়াতে গিয়ে উৎপাদনমুখী এ প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থার সৃস্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কোম্পানীকে। বিষয়টি মিডিয়ায় ফলাও করে প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি কোন পক্ষকে। ফলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারন করে।

এতে শুধু প্লান্ট বন্ধ হয়নি ৩/৪শ’ পরিবহন শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছে। দেশের অপরিশোধিত জ্বালানী পদার্থ থেকে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন সহ বিভিন্ন ধরনের পদার্থ পৃথকীকরণের জন্য যে ক’টি (ফ্যাকশনেশন) প্লান্ট রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গোলাপগঞ্জ কৈলাশটিলা ফ্যাকশনেশন প্লান্ট। বিগত প্রায় দু’যুগ ধরে এ প্লান্টটির উৎপাদিত পণ্য সিলেট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মাঝে-মধ্যে যান্ত্রিক ত্র“টি দেখা দিলে সাময়িক বন্ধ করতে হয়েছে প্লান্টটি। পরিবহন জটিলতার কারণে কখনো তা দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা হয়নি। এতদিন এই প্লান্টের উৎপাদিত জ্বালানী পদার্থ পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নামক কোম্পানী বিপিসির মাধ্যমে ৩টি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ নামীয় ট্যাংকলরী দ্বারা পরিবহন করছিল।

৯ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকলরী দ্বারা এতদিন মালামাল পরিবহন করলে কোন সমস্যা হয়নি। সম্প্রতি আলাদা একটি মালিক পক্ষ ১৩ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকলরী দ্বারা জ্বালানী পদার্থ পরিবহন করতে চাইলে বিরোধ বাঁধে।  এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সদস্যরা তাদের স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠে নামে।

তাদের বক্তব্য হচ্ছে গ্যাস ফিল্ডগুলোর পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানী পদার্থ বহনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত চালকরা ৯ হাজার লিটার ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকলরী দ্বারা পরিবহন করে আসছেন। তাদের ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত প্রায় তিন’শ শ্রমিক ট্যাংকলরী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।

এখন ১৩ হাজার লিটারের ট্যাংকলরী চলাচল শুরু করলে আগের কয়েক’শ ট্যাংকলরীর পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনযাত্রাও অচল হয়ে পড়বে। এ বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করার পরও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এখন কঠোর অবস্থানে যেতে তারা বাধ্য হয়েছেন। এদিকে সিলেট বিভাগ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং-২১৭৪ এর পক্ষ থেকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে তাদের  অবস্থান তুলে ধরেছেন।

বিষয়টি তারা সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ-সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারগণকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রিপন প্রতিবেদককে জানান- একটি বিশেষ মহল শ্রমিকদের অস্তিত্বকে বিলীন করে দিতে চায়।

আমরা এতদিন জ্বালানী পদার্থ পরিবহন করে আসছি, আমাদের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কোন দিনই কেহ অভিযোগ করার সুযোগ পায়নি। কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কারণে আজ এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও জানান দু’এক দিনের মধ্যে বিষয়টির নিরসন না হলে রশিদপুর সহ অন্যান্য প্লান্টও বন্ধ করে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের ডিজিএম প্রকৌশলী আব্দুল জলীল প্রমানিক প্রতিবেদককে জানান তাদের উৎপাদিত জ্বালানী পদার্থ পরিবহন না করায় নির্ধারিত ট্যাংকগুলো লোড হয়ে গেছে।

এতে গত ১৫ আগষ্ট থেকে ফ্যাকশনেশন প্লান্টের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন ৩’শ ব্যারেল জ্বালানী পদার্থ উৎপাদন হচ্ছে না। একটি সূত্রে জানা যায় ফ্যাকশনেশন প্লান্ট বন্ধ হওয়ায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ।

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here