নগরীতে চলছে অবৈধভাবে লটারি বানিজ্য!

0
569

সিলেটের সংবাদ: একটি রিকশা, রিকশার পিছনে একটি ছোট ড্রাম, সামনে একটি মাইক, রিক্সার পিছনে রয়েছে একটি ব্যানার। তাতে লেখা রয়েছে ‘দৈনিক প্রভাত সুরমা’ র‌্যাফেল ড্র এবং মটর সাইকেল, কার, টিভি ও গরুর ছবি? এভাবেই সিলেট শহর ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘দৈনিক প্রভাত সুরমা’র নামে লটারি বানিজ্য।

‘দৈনিক প্রভাত সুরমা’ এটি কি কোন পত্রিকা, দাতব্য চিকিৎসালয়, কোন এনজিও নাকি প্রতারনার ফাঁদ তা নিয়েও চলছে আলোচনা। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সিলেট সদর উপজেলার লাক্কাতুরা মাঠে তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটির উদ্যেগে মাস ব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়।

আর এ মেলাতেই চলছে লটারি বাণিজ্য। আমরা যতটুকু জানি সিলেট শহরে বানিজ্য মেলায় নির্দিষ্ট একটি লটারি প্রতিবছর হয়ে থাকে। আর সে কারনে তাদেরকেও প্রশাসন থেকে অনুমতি নিতে হয়। সিলেট চেম্বার অব কমার্সের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে যদি অনুমতি নিতে হয় তাহলে এরা কারা?

কি বা তাদের খূটির জোর?? সবচেয়ে অবাক বিষয় এই ‘দৈনিক প্রভাত সুরমা’ লটারি চলে প্রতিদিন। সে কারনে ২০ টাকা দিয়ে লটারি কিনছেন সবাই। আর এতেই ভাগ্য যাচাইয়ের নামে আয়ের বেশীর ভাগ অংশ বিলিয়ে দিচ্ছেন এসব লটারি মালিকদের হাতে।

অপরদিকে লাক্কাতুরা এলাকাটি হচ্ছে নিন্ম আয়ের জনবসতি। এই জনবসতির পাশেই এ ধরণের লাকি কূপন র‌্যাফেল ড্র আয়োজন করায় ভাগ্য যাচাই করতে গিয়ে নিস্ব হচ্ছেন বাসিন্দারা। জানা গেছে, প্রতিদিন এসব বাম্পার পুরষ্কারের লোভ দেখিয়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার লটারি কূপন।

শুধু মেলা প্রাঙ্গনে নয় এসব লটারি রিকশায় করে বিক্রি করা হচ্ছে সিলেটের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও প্রধান সড়ক গুলোতে। নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে লাকি কূপন বুথ। এছাড়াও প্রায় দুই শতাধিক রিকশা ও অটোরিকশা সিএনজিতে মাইক বেঁধে লটারি কূপন নিয়ে ছুটছে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলাতেও। রাত ১০টায় স্থানীয় ক্যাবল অপারেটর এসসিএস এর মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করা হচ্ছে এই র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান।

মেলা পরিচালনা কর্তৃপক্ষ এই লটারি কিংবা র‌্যাফেল ড্র প্রশাসনের যথাযথ অনুমতি নিয়ে পরিচালনা করছে দাবী করলেও প্রশাসন বলছে মেলায় কোন প্রকার জুয়া খেলা/র‌্যাফেল ড্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরিচালনা নিষিদ্ধ। প্রশাসনের অনুমতি পত্রে স্পষ্ট ভাবে র‌্যাফেল ড্র বা জুয়া হিসেবে গণ্য এসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলেও ‘দৈনিক প্রভাত সুরমা’ র‌্যাফেল ড্র নামের এ বাণিজ্য সরকার দলীয় কিছু নেতার ছত্রছায়ায় পরিচালনা করা হচ্ছে বলে এশটি সুত্র নিশ্চিত করেছে।

এসব লটারি কূপন নিয়ন্ত্রন করছেন এম এম মঈন খাঁন বাবলু। এই এম এম মঈন খাঁন বাবুল এর পূর্বেও সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মেলা আয়োজন করে অংশীদারদের সাথে প্রতারণার কারনে আলোচিত ও সমালোচিত হন। সিলেট মহানগর পুলিশের নগর বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়, মেলার অনুমতি পত্রে স্পষ্ট লেখা রয়েছে কোন প্রকার জুয়া খেলা/র‌্যাফেল ড্র আয়োজন নিষিদ্ধ।

তাহলে কিভাবে এ র‌্যাফেল ড্র আয়োজন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সিলেট বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মতর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। সিলেট বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

(Visited 46 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here