লাফনাউটে ৫ মৌজাবাসীর জরুরী বৈঠক পুলিশের উপর হামলার অনুসন্ধান

0
129

শোয়েব উদ্দিন, গোয়াইনঘাট থেকে ফিরে: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লাফনাউট বাজারে পুলিশ কর্তৃক মদ উদ্ধার এবং হামলার ঘটনায় কারন অনুসন্ধানে ৫মৌজাবাসীর দফায় দফায় বৈঠক।

পুলিশের সোর্স ফয়সল রেজার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের তথ্য ফাঁস। সরেজমিন অনুসন্ধানে এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়- পূর্ব শত্র“তার জের ধরে নিরিহ সিএনজি চালককে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে গত ২২ জুলাই শনিবার রাত ৯ ঘটিকার সময় লাফনাউট বাজারে বন্ধ করে রাখা সিএনজি অটোরিক্সায় পরিকল্পিত ভাবে মদ রেখে পুলিশকে সংবাদ দেয় স্থানীয় বাজারের পুলিশের সোর্স নামে পরিচিত উপর কুটাপাড়া গ্রামের তৈয়মুর রেজার ছেলে ফয়ছল রেজা(৩৮)।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পেয়ে সাদা পোশাকে গোয়াইনঘাট থানার এসআই সমিরন চন্দ্র দাস সঙ্গীয় ফৌস নিয়ে তারা লাফনাইট বাজারে অবস্থান করে। সোর্স এর নির্দেশনা মোতাবেক বাজারে বন্ধ করে রাখা সিএনজিতে (সিলেট-থ-১১-৩৯৩৪) বসা আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র লাফনাউট গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে ফয়সল আহমদকে আটক করে এবং সিএনজি‘র পিছন হতে একটি পলিথিন ব্যাগ বাহির করে এবং তারা শরিফ নামে গাড়ী চালককে খুঁজে।

এরই মধ্যে শরিফ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বাজার হতে ক্রয় করে বাড়ী ফেরার উদ্দেশ্যে সিএনজি‘র নিকট আসে। এসময় সাদা পোশাকের পুলিশ শরিফকে হাত কড়া পরিয়ে দেয়। তাৎক্ষনিক ভাবে শরিফ ও ফয়সল সাদা পোশাকের পুলিশ চিনতে না পারায় ডাকাত বলে চিৎকার করলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে তাদের পরিচয় জানতে চায়।

এলাকাবাসীর সাথে সাদা পোশাকের পুলিশের কথা কাটা কাটি হয় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে এবং শরিফ ও ফয়সল চলে যায়। এদিকে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ ঘটনায় সংবাদ পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ লাফনাউট বাজারে শক্তি বৃদ্ধি করে ২জনকে আটক করে পরের দিন অপর একজনকে আটক করে। যে কারনে লাফনাউট বাজার সহ ৫ মৌজা পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ে।

অপরদিকে এঘটনার সংবাদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ এমপি‘র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পুলিশের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীর সাথে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৩১জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে এ মামলার সকল আসামী জামিনে রয়েছে।

সৃষ্ট ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এবং নিরিহ মানুষকে হয়রানি করার অনুসন্ধানে ৫মৌজার সর্বসাধারণ দফায় দফায় বৈঠকে বসেছে। বৈঠক সূত্রে জানাযায় লাফনাউট বাজার সিলেট-৪ সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি উত্তম এবং ধর্মীয় শাসনের মাধ্যমে পরিচালিত বাজার। ছত্রপুরি(রহঃ) স্মৃতি বিজড়িত বাজারে কখনো অপকর্মের কোন ছোয়া লাগেনি।

২শতাধিকের উপর দোকানগৃহ তথা স্থায়ী ব্যবসায়ী থাকা সত্ত্বেও সমাজ, দেশের প্রচলিত আইন ও ধর্মীয় আইন পরিপন্থি মদ, জুয়া, ভারতীয় শিলং তীরের মত কোন অপকর্মের জন্ম হয়নি। সমাজে নিরপরাধ পিতৃহীন সিএনজি চালক এবং স্কুল ছাত্রকে সাদা পোশাকের লোক ধরে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ডাকাত সন্দেহে অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে।

এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারন অনুসন্ধানে গত সোমবার রাত ৭টায় লাফনাউট বাজারে মুহিবুর রহমানের সভাপতিত্বে দফায় দফায় বৈঠক করে এলাকাবাসী। বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য আতাউর রহমান, ৪নংওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মহি উদ্দিন, ইসমাইল আলী, ৫নংওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি অলি উল্লাহ, সাবেক ইউপি সদস্য ময়নু উদ্দিন, আলীরগাঁও কলেজের প্রিন্সিপাল আতাউর রহমান, ইমদাদ উল্লাহ, আলা উদ্দিন, আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন লাফনাউট, উপর কোটাপাড়া, পূর্ব দিঘিরপাড়, পূর্ণগাও, নয়াগ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণ। মৌজাবাসীর অনুসন্ধানে রেরিয়ে আসে মদ দিয়ে আটক এবং সাদা পোশাকের পুলিশের উপর হামলার প্রকৃত রহস্য। সিএনজি চালক শরিফের জমি জমা নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলে আসছে উপর কোটাপাড়া গ্রামের তৈয়মুর রেজা ছেলে ফয়সল রেজার সাথে।

সিএনজি চালক শরিফ কিছু জমি পুলিশের সোর্স নামে এলাকায় পরিচিত ফয়সল রেজার কাছে বিক্রয় না করে অন্যত্র বিক্রয় করে। এনিয়ে ফয়সল রেজা ক্ষেপে উঠেন সিএনজি চালক শরিফের উপর এবং উচিৎ শিক্ষা দিবেন বলেও হুমকী দেন। তিনি পুলিশের সোর্স হওয়ার কারনে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শরিফের মালিকানাধীন সিএনজি গাড়ীতে মদ রেখে পুলিশকে সংবাদ দেয়।

সোর্সের সংবাদের ভিত্তিত্বে পুলিশ সিএনজি খোঁজে এবং সিএনজির চালক সহ স্কুল ছাত্রকে আটক করে। এনিয়ে সাদা পোশাকের পুলিশের সাথে বাজারবাসীর অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে। বাজারবাসী ফয়সল রেজার প্রতি আরও অভিযোগ তুলে প্রতিবেদককে জানান- পুলিশের সোর্স হওয়ার সুবাধে বাজারের এক ব্যবসায়ীর দোকানে গোপনে ২মুটা (প্যাকেট) ভারতীয় বিড়ি রেখে দোকানের মালিকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।

৫০হাজার টাকার বিনিময়ে সোর্স ফয়সল রেজার মধ্যস্থতায় দোকানদারকে মুক্ত করা হয়। এভাবে দিঘিরপাড় গ্রামের মাওঃ গিয়াছ উদ্দিন এর মালিকানাধিন এম. আর টেলিকম পর্ণোগ্রাফি ফ্লিম বিক্রয় করার অভিযোগ এনে কম্পিউটার জব্দ করে মেকানিক নিজাম উদ্দিনকে ধরিয়ে নেয় পুলিশ। ১লক্ষ টাকার বিনিময়ে সোর্স ফয়সল রেজার মধ্যস্থতায় মেকানিককে মুক্ত করা হয়।

ফয়সল রেজা লাফনাউট বাজারে দাদন (সুধ) ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। চড়া সুধে ঋণ দিয়ে বিভিন্ন সময় পুলিশের সহযোগিতায় নিরিহ লোকজনদের হয়রানির মাধ্যমে টাকা উদ্ধার করে। ঔষধের আড়ালে সে মাদকের ব্যবসা করছে বলে বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেন। ফয়সল রেজার বিরুদ্ধে সামাজিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহনের বাদী জানান ৫মৌজার সর্ব স্থরের জনসাধারন।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here