মৌলভীবাজারে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কলেজ অধ্যক্ষ বরখাস্ত

0
162

খালেদ আহমদ,(মৌলভীবাজার প্রতিনিধি): মৌলভীবাজার কাশীনাথ আলাউদ্দিন হাই স্কুল এন্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ আইয়ুব আলীকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০ আগষ্ট একটি স্বারকলিপিতে তার এই স্থায়ী বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সৈয়দ মস্তাক আলীর স্বাক্ষরিত এই স্বারকে জানানো হয়, স্কুলের পাঁচজন ছাত্রের যৌন নির্যাতনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় এই স্থায়ী বরখাস্তের আদেশ দেয় স্কুল ম্যানেজিং কমিটি।

জানা যায়, গত ২৯-১১-২০১৬ইং তারিখে শিক্ষার্থী আফিকুল ইসলাম, জয় চক্রবর্তী, ২৮-১১-২০১৬ইং রাজিব দাশ ও, ২৭-১১-২০১৬ ইং মিজানুর রহমান এবং, ২৬-১১-২০১৬ইং তারিখে ফারুক মিয়া লিখিত অভিযোগে জানায়, অধ্যক্ষ কর্তৃক তারা যৌন নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। অধ্যক্ষ তাদেরকে নানা ধরণের শাস্তি বা পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় কিংবা পরীক্ষার প্রশ্ন বলে দেওয়া, মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড বা নগদ টাকার প্রলোবন দেখিয়ে তাদের সাথে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে সঙ্গম করেন।

অধ্যক্ষের এ হেন কু-কর্মে অতিষ্ঠ হয়ে তারা শ্রেণী শিক্ষক, অভিভাবককে জানায়। তারা স্কুলের শিক্ষক মো: মুহিবুল হাসান, মো: সুমন মিয়া, বাবু লক্ষীকান্ত দেব, বাবু সুব্রত পাল, শিক্ষকগণকে বিষয়টি অবহিত করে অধক্ষের বিরুদ্ধে সভাপতি বরাবর দরখাস্ত জমা দেয়। পাঁচজন ছাত্রের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ০৬-১২-২০১৬ইং তারিখে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন হইতে বিরত রাখা আইয়ুব আলীকে।

এবং কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য ৭(সাত) দিনের মধ্যে বলা হয়। তিনি গত ০৪-১২-২০১৬ইং তারিখ অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন হইতে বিরত থাকা ও সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশে জবাব প্রধান করেন। কারন দর্শানোর নোটিশের জবাবে অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত শুনানীর অভিপ্রায় ব্যক্ত করলে গত ১৭-১২-২০১৬ইং তারিখ তাকে গভর্নিংবডির সদস্যদের উপস্থিতিতে  ২০-১২-২০১৬ইং তারিখে শুনানীর দিন ধার্য করা হয়।

গত ২০-১২-২০১৬ইং শুনানীর পর গভর্নিংবডি তাকে লিখিত কারন দর্শানোর নোটিশের জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানীতে দেওয়া বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তার বিরোদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে ঐ অধ্যক্ষ দোষী প্রমানিত হন। গভনিংবডি তদন্ত কমিটির বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে। যা অধ্যক্ষকে ০৪-০৬-২০১৭ তারিখে তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ফটোকপি দিয়ে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি ১১-০৬-২০১৭ তারিখে একটি জবাব দেন।

যার পেক্ষিতে গভনিংবডি অপরাধ থেকে অব্যহতির দেওয়ার মত কোন কারণ খুজে পাওয়া যায়নি। কলেজ অধ্যক্ষ হয়ে যৌন হয়রানীর মত নোংরা অভিযোগ অত্যান্ত দু:খজনক যাহা স্কুলের প্রত্যেক ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক এবং জেলার সুশীল সমাজকে মর্মাহত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর পাশাপশি বলা হয় স্কুল একটি পবিত্র স্থান।

আর তিনি স্কুলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে স্কুল চলাকলীন সময়ে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকের ভূমিকা পালন তো দূরে থাক, ছাত্রদের সাথে অনৈতিক কাজে জড়িত হন। যার ফলে ২০-০৮-২০১৭ইং তারিখে গভনিংবডির সভায় ঐ অধক্ষকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং বলা হয় যাহা অধ্য তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here