শ্রীমঙ্গলে উচ্ছেদ আতঙ্কে ৫০টি পরিবার

0
132

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসা শ্রীমঙ্গলের সরকারি ডিসি খতিয়ানের খাস ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে ৫০টি পরিবারকে। চা বাগানের ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে তাদের উচ্ছেদের পায়তারা চলছে বলে জানা যায়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাহাড় ঘেরা প্রত্যন্ত গ্রাম ভবানপুর। ১৯৫২ সালে ছরিম উল্লা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মৌখিকভাবে প্রায় ১৫ একর জমি ক্রয় করে বসতি গড়ে তোলে ২৪টি পরিবার।

পরবর্তীকালে পরিবারগুলি সেই জমির খাজনা দিয়ে বংশানুক্রমে এই গ্রামে বসবাস করে আসছে। ১৯৬৫ সালে এই গ্রামের পাশের একটি চা বাগান গড়ে উঠলে ২০০৭ সালে হঠাৎ বাগান কর্তৃপক্ষ ভূমিটির মালিকানা দাবী করে ৫৫ বছরের পুরনো গ্রামটি দখলে নিতে গ্রামবাসীকে উচ্ছেদ নোটিশ দেয়।

দিনারপুর টি এস্টেট নামে এই বাগান কর্তৃপক্ষ দাবী করছে- বাগান সম্প্রসারণের লক্ষে তারা বিবদমান জমিটিসহ কিছু ভূমি সরকারের কাছ থেকে ৩৬ বছরের লিজ বন্দোবস্ত নিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে ছাতির মিয়া গং আদালতে মামলা করে হেরে যায়। এরপর গ্রামবাসীরা আপিল করলে এ পর্যন্ত মামলাটি স্থিতিবস্থায় রয়ে যায়।

এ অবস্থায় দিনারপুর টি এস্টেট কর্তৃপক্ষ মামলার রায়ের জোরে গ্রামটি উচ্ছেদের চেষ্টা করায় এই ৫০টি পরিবারের সাড়ে ৪ শতাধিক মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সোমবার দুপুরে সরেজমিন সেখানে গেলে, এলাকার অবাল বৃদ্ধ নারী-পুরুষ সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন। চোখে মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে ৭৫ বছর বয়সী খোদেজা বিবি জানান, ৬০ বছর আগে তিনি এই গ্রামে এসেছিলেন নববধূর পোষাকে।

এরপর একে একে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী মারা গেছেন এখানেই। নাতি নাতনি নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত গ্রামটির চারিদিকে দরিদ্রতার ছাপ। ৫০টি পরিবারের সবগুলি ঘর মাটির তৈরি। বিদ্যুতের আলোহীন গ্রামে কোনো কৃষিজমি নেই। উঠানে সবজি, বাঁশ চাষাবাদ ও দিন মজুরি গ্রামবাসীদের আয়ের উৎস।

৬৫ বছর বয়সী গ্রামের আব্রু মিয়া বলেন, ‘চা বাগান মালিকদের টাকা আছে। আমরা দরিদ্র মানুষ। এ ভিটে নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। ওরা আমাদের গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করলে কোথায় যাব, আমাদের তো যাবার কোনো জায়গা নেই। মছদ্দর আলী বলেন, ‘ওরা জোর করে উচ্ছেদ করতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।

গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই এক অজানা আতঙ্কে আছে। তাদের সবার মনে ভয় কখন জানি বাগান কর্তৃপক্ষ দলবল নিয়ে আসে। মির্জাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, ‘একদিকে উচ্ছেদ অন্যদিকে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় গ্রামের দরিদ্র মানুষেরা তাদের নারী শিশুদের নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

জানতে চাইলে দিনারপুর চা বাগানের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, ‘জোর করে গ্রামবাসীদের জমি থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগ সত্য নয়। বিবদমান ভূমির মালিকানা প্রশ্নে কোর্ট বাগানের পক্ষে যে রায় দিয়েছে আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোর্ট আবার যদি গ্রামবাসীদের পক্ষে রায় দেয় তবে তারা থাকবে। তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসী ভাড়াটে দিয়ে গ্রামবাসীদের উচ্ছেদের অভিযোগ মিথ্যা।

আদালতের রায় পাওয়ার পর সন্ত্রাসী দিয়ে ভূমি দখল নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনা। আর আমরা উচ্ছেদের কোনো হুমকিও দিচ্ছি না। ওই জমি আমাদের লিজভুক্ত। ১৯৬৫ সালে আমরা সরকার থেকে লীজ নিয়েছি। এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। ২০১৩ সালে আমরা রায় পেয়েছি। তারা আবার আপিল করেছে। তাই আদালত এখন যে রায় দেবে আমরা তা মেনে নেব।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here