মৌলভীবাজার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার বাঁশ ও বেত শিল্প

0
661

খালেদ মিয়া,(মৌলভীবাজার): গ্রামীণ জনপদে একসময় বাঁশঝাড় ছিল না এমনটা কল্পনাও করা যেত না। যেখানে গ্রাম সেখানে বাঁশঝাড় এমনটিই ছিল স্বাভাবিক। বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় বেত বনের ঐতিহ্য গ্রাম বাংলার চিরায়িত রূপ।

কিন্তু বনাঞ্চলের বাইরেও এখন যেভাবে গ্রামীণ বৃক্ষরাজি উজাড় হচ্ছে তাতে হারিয়ে যাচ্ছে এ জাতীয় অজস্র গাছপালা। আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প। এক সময় গ্রামীণ জনপদে বাংলার ঘরে ঘরে তৈরী হতো হাজারো পণ্য সামগ্রী।

ঘরের কাছের ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ কেটে গৃহিনীরা তৈরী করতো হরেক রকম জিনিস। অনেকে এ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। দরিদ্র পরিবারের অনেকের উর্পাজনের একমাত্র অবলম্বন ছিলো বাঁশ ও বেতের কাজ। কিন্তু বর্তমানে এ হস্তশিল্পটি উর্পাজনের পেশা হিসেবে বেঁচে আছে তা ভাবনার বিষয়।

এ শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার আমলের পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। কয়েক বছর এদেশের বাঁশ ও বেতের তৈরী জিনিসের কদর ছিল। যেমন- চেয়ার, টেবিল, বইয়ের সেলফ, মোড়া, কুলা, ঝুড়ি, ডোল, চাটাই থেকে শুরু করে ড্রইং রুমের আসবাবপত্র তৈরীতেও বাঁশ ও বেত প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার হতো।

এছাড়া মাছ ধরার পলো, হাঁস-মুরগীর খাঁচা, শিশুদের ঘুম পাড়ানোর দোলনা এখনো গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। একসময় গ্রামাঞ্চলে বিপুল পরিমাণে এসব বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হতো। এখন সচরাচর গ্রামীণ উৎসব বা মেলাতেও বাঁশ ও বেতজাত শিল্পের তৈরী উন্নতমানের খোল, চাটাই, খালুই, ধামা, দোয়াড়, আড়ি, টোনা, আড়, হাপটা, পাল্লা, মোড়া, বুকসেলফ চোখে পড়ে খুব কম।

যেখানে তালপাতার পাখারই কদর নেই, সেখানে অন্যগুলো তো পরের কথা। প্রান্তিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সুবিধা যেমন হাত পাখার চাহিদা কমিয়েছে তেমনি মৎস্য শিকার, চাষাবাদ, ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্রসহ সকল ক্ষেত্রেই কমেছে বাঁশ ও বেত জাতীয় হস্তশিল্পের ব্যাবহার। প্রকৃতপক্ষে এখন বাঁশ ও বেতের স্থান অনেকটাই প্লাষ্টিক সামগ্রী দখল করে নিয়েছে।

তাছাড়া এখন বাঁশ ও বেতের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এর দাম বেড়েছে। ফলে বাঁশ ও বেতের সামগ্রীর তৈরিতে ব্যয়ও বেশী হচ্ছে। বাংলার ঐতিহ্য বাঁশ ও বেতের সামগ্রীকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর পেছনের মানুষগুলোকে আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে তাদের পেশাকে বাঁচাতে হবে। অন্যথায় এসব সুন্দর বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প একদিন বিলুপ্তি হয়ে যাবে। তাই বাঁশ ও বেত শিল্পকে বাঁচাতে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here