সম্পত্তির লোভে শাশুড়িসহ ৫ জনকে হত্যার চেষ্টা করে সাহেদা!

0
970

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের আল-মদিনা এলাকার যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহিনুর রহমানের মা সোনামালা বেগম স্বজনদের টানে সম্প্রতি ছুটে আসেন বাংলাদেশে।

সোনামালাকে দেখতে মেয়েসহ অন্যান্য স্বজনরা ছুটে যান খাদিমপাড়ায়। স্বজনদের পেয়ে মানুষশূণ্য বাড়িতে ফিরে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। বাড়িতে বেশ আয়োজন করেই করা হয় বিশেষ রান্না-বান্নার।

রাতের বেলা প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্য একসাথে খাবার টেবিলে বসেন। সেদিনের রাতের খাবারই হতে পারতো তাদের জীবনের শেষ খাবার। সেই খাবারে মেশানো ছিলো বিষ। বিষ মেশানোর কারিগর হলেন সেদিনের রান্নার কারিগর প্রবাসী শাহিনুরের স্ত্রী সাহেদা বেগম।

ওই প্রবাসী পরিবারের লোকজন বাড়ির পুত্রবধু সাহেদাকে বিষাক্ত ও লোভী নারী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। প্রবাসীর শাহিনুরের ভাগ্না আতাউর রহমান এমনই অভিযোগে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানাতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- (১২(৯)১৭)। গত ২০ সেপ্টেম্বর এ মামলা দায়ের করেন আতাউর।

আতাউর জানান- ‘মামলা দায়েরের পর সাহেদা তার ভাই নাসির উদ্দিন, চাচা আহাদ তার সহযোগী আব্দুর রহমান ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তালুকদার মকবুলকে নিয়ে আতাউরকে প্রকাশ্যে হত্যা ও মামলা তুলে নেয়ার হুমকী প্রদান করেছেন। এ নিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কাছেও পৃথক আরেকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আল-মদিনা আবাসিক এলাকার প্রবাসী শাহিনুরের বাড়িতে কথা হয় আতাউরের সাথে। এসময় তিনি জানান- ‘সম্পত্তির লোভে লন্ডনপ্রবাসী শাশুড়িসহ ৫ জনকে ভাত ও তরকারীর সাথে বিষ মিশিয়ে হত্যার চেষ্টা করে ছেলের বউ সাহেদা বেগম। ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর ব্রিটেন প্রবাসী শাহিনুর রহমান বিয়ে করেন সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার সমসপুর গ্রামের সৈয়দ আলীর মেয়ে সাহেদা বেগমকে।

বিয়ের কয়েকমাস পর শাহিন চলে যান যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মা ও স্বজনের কাছে। তাদের বাসায় রেখে যান সাহেদা বেগম ও সাহেদার পরিবারের স্বজনদের। শাহিন চলে যাবার পর তাদের সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য উঠে পড়ে লাগেন সাহেদা ও তার স্বজনরা। আতাউর বলেন- ‘এ লোভেই সে তার ভাই সৈয়দ নাসির উদ্দিন, চাচা আব্দুল আহাদ, চাচার সহযোগী আব্দুর রহমানকে নিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ করার পায়তারা করেন।

এরই সূত্রধরে কয়েকবার সাহেদা তার ভাইদের দিয়ে সোনামালা ও তাদের পরিবারকে হুমকি সহ নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখান। যার জন্য সোনামালা বেগম শাহপরাণ (রহ.) থানায় চলতি বছরের ২৩ মার্চ ও ১৬ জুলাই পৃথক অভিযোগ দাখিল করেন। ‘ওই দুটি অভিযোগের পর কিন্তু তাতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সাহেদা ও তার স্বজনরা।

সেই ক্ষিপ্ততার রেশেই ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সাহেদা ভাত ও তরকারির সাথে বিষ মিশিয়ে দেন। জানান আতাউর। ওইরাতে খাবার খেয়ে সবাইকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সে সময় সাহেদা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। আর অন্যরা ৩ দিন চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে যান’- বলেন সোনামালা নাতি আতাউর।

মামলার এজাহার সূত্রে উল্লেখ আছে, যুক্তরাজ্য প্রবাসীর স্ত্রী সাহেদার ভাই সৈয়দ নাসির উদ্দিন ও চাচা আব্দুল আহাদ এর প্ররোচনায় স্বামীর সহায় সম্পত্তি নিজ নামে লিখে নেয়ার জন্য পরিকল্পনা ছিল অনেকদিনের। এ নিয়ে সাহেদার শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ির লোকজনের মধ্যে একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়।

ঘটনার দিনের ২ মাস পূর্বে সাহেদার শাশুড়ি যুক্তরাজ্যে থেকে দেশে আসেন বেড়ানোর জন্য। কিন্তু ১২ সেপ্টেম্বর শাশুরিকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করা হয়। এ সময় বাসায় ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সোনামালার নাতি আতাউর রহমান, আতাউরের বোন মিছবাহ বেগম (১৭), ভাই আজিজুর রহমান (১৩), বোন সাইদা বেগম (১১) ও ভাগনি মহিমা বেগম (৯)।

তারা সবাই রাতের খাবার খান। এ সময় আতাউর রহমান বাসার বাহিরে ছিলেন। তিনি বাসায় ফিরেন রাত ১১টায়। ঘরে এসে দেখেন দরজা খোলা। নানি, ভাই, বোন, ভাগনি সবাই অজ্ঞান ও অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। তখন সাহেদা সুস্থ ছিলেন ও আতাউরকে দেখে অসুস্থতার ভান করেন।

আতাউরের শোর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সবাইকে অজ্ঞান ও অচেতন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। এ নিয়ে আতাউর রহমান এসএমপি’র শাহপরাণ (রহ.) থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার সমসপুর গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে সৈয়দ নাসির উদ্দিন, সমসু মিয়ার ছেলে আহাদ মিয়া, জালালাবাদ থানার পাঠানটুলার চাঁন মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান ও সাহেদা বেগমকে আসামী করা হয়।

এ ব্যাপারে শাহপরাণ (রহ.) থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আক্তার হোসেন জানান- ‘আল-মদিনা আবাসিক এলাকায় যুক্তরাজ্য বৃদ্ধা মহিলা সহ ৫ জনকে খাদ্যে বিষ জাতীয় বস্তু মিশিয়ে হত্যার অভিযোগে ৪ জনের নামে মামলা হয়েছে।

এজাহারনামীয়দের গ্রেফতারের ব্যাপারে অভিযান চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে সাহেদার স্বজন তালুকদার মকবুল হোসেন বলেন- এ ঘটনাটি ষড়যন্ত্রমূলক। আমাদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। সুত্র:- সিলেট নিউজ টাইমস

(Visited 8 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here