ফিরছেন মানবতার বাতিঘর হয়ে

0
207

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমানা হাসি-কান্নার কাঁটাতারে আজ বিবেচিত। নির্মম নিষ্ঠুরতার দুঃসহ অভিজ্ঞতা আর সব হারানোর বেদনায় কাঁটাতারের ওপারে রোহিঙ্গাদের চোখে অশ্রু।

আর সীমানা পেরিয়ে এপারে আসতেই বেঁচে থাকার হাসি ফুটেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গার মুখে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন এক বাংলাদেশকে দেখছে বিশ্ব।

দেখছে মানবিক বাংলাদেশের মানবিক নেত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতাও। মানবতার প্রশ্নে শেখ হাসিনা যেমন আজ বরফের মতো গলছেন, আবার অটল থাকছেন পর্বতের ন্যায়। মিয়ানমার থেকে খেদিয়ে দেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গেল ১২ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পে গিয়ে রোহিঙ্গাদের কান্নায় কেঁদেছেন নিজেও। আপ্লুত হৃদয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছ থেকে অত্যাচার-নির্যাতনের কথা শোনেন। নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা কেঁদে ফেলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দিয়ে আশ্রয়ের আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে হাসি ফোটে লাখ লাখ রোহিঙ্গার মুখে।

ওইদিন শেখ হাসিনার পাশে থেকে বোনকে সাহস জুগিয়েছেন শেখ রেহানাও। বলেছিলেন, ‘তুমি তো ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব নিয়েছ। ১৬ কোটি মানুষ খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারলে রোহিঙ্গাদেরও খাওয়াতে পারবে।‘ প্রধানমন্ত্রী গেল ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে ছোট বোন শেখ রেহানার এমন আশ্বাস বাণীর কথা শুনিয়েছেন সাংবাদিকদেরও।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে মন নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিলেন, সে মন নিয়ে জাতিসংঘের সম্মেলনে যাননি প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘে গিয়ে তিনি কান্না করেননি। মানবতা দলিত হচ্ছে, তা বিশ্বনেতাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন সাহসিকতার সঙ্গে। বলিষ্ঠ কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন এমন অত্যাচার মেনে নেয়া যায় না।

বিশ্ব মানবতাকে উচ্চতর জায়গায় নিয়ে নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগের দাবি জানান শেখ হাসিনা। ২২ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের কান্নার কাহিনি শোনাতে জাতিসংঘের সম্মেলনে শেখ হাসিনা থামিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও। ট্রাম্প। সে কান্না শোনার ধৈর্য রাখেননি। তবে শেখ হাসিনা তাতে বিচলিতও হননি।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘এরই মধ্যে আমেরিকা ঘোষণা দিয়েছে, তারা কোনো শরণার্থীকে সে দেশে ঢুকতে দেবে না। আমি তাদের কাছ থেকে কী আশা করতে পারি, বিশেষ করে সে দেশের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে। তিনি (ট্রাম্প) এরই মধ্যে তার মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

তাহলে আর কেন সাহায্য চাইব? এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, একজন মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু মানবিক গুণাবলি রয়েছে। তিনি বলেন, অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বাংলাদেশে সাত লাখ মিয়ানমারের শরণার্থী বসবাস করছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, একজন রিফিউজির দুঃখ, কষ্ট তিনি বোঝেন। কারণ ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা রিফিউজি হিসেবে ছয় বছর বিদেশে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে আজ লন্ডনে ফিরছেন শেখ হাসিনা। আগামী ৭ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বাংলাদেশ আর বাঙালির বিবেককে। মানবতার পক্ষে অটল থাকায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রশংসিত হয়েছেন বিশ্ব দরবারে।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here