‘অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার কবলে ওসমানী মেডিকেল’

0
1455

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে দূর্নীতি আর অনিয়ম শিকড় গেড়ে বসেছে নার্স কর্মচারীদের মাঝে কোন্দল আর রেষারেষিতে সেবা কার্যক্রম প্রায় স্থবির।

কর্তৃপক্ষের আশির্বাদপুষ্ট একদল প্রতিনিয়ত প্রতিপক্ষ ঘায়েলে ব্যস্থ। সরকারী নিয়মনীতি বা নির্দেশনামার তোয়াক্কা না করে অবৈধ পন্থায় নার্স কর্মচারীদের বদলী ও পদায়ন এখন নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার।

সে সাথে সুবিধাভোগী একটি সিন্ডিকেট কর্তৃপক্ষের কাছে বন্ধুক রেখে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের পাশপাশি নিজেদের সার্বিক অবৈধ সুযোগ সুবিধাদি আদায় করে নিচ্ছে।

সরকারী নির্দেশনামায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এবং নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নির্দেশ ব্যতিরেকে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট কাজের (নার্সিং) বাহিরে নার্সিং সংশ্লিষ্ট নহে এমন কোন কাজে কোন নার্সিং কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে নিয়োজিত বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বাহিরে অন্যত্র পদায়ন করা হতে বিরত থাকার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারটি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর হতে গত ২৪ জানুয়ারী মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব কাজী মোস্তফা সারোয়ার স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনামা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরিত হয় (স্মারক নং-ডিজিএনএম/শাখা-৩/৪টি-১৪/২০১৪/৬২৮/ ১(৫০০) কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উক্ত নির্দেশনামাকে পাত্তা না দিয়ে গত ২২ মার্চ সিনিয়র ষ্টাফ নার্সকে হাসপাতালের হিসাব শাখায় নিয়োজিত করেন (স্মারক নং-ওমেক হাসি/ই-১/২০১৭/১৩৬৩/৪) হাসপাতালের উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক বা ডেপুটি মেট্রোন পদটি বিএসসি ডিগ্রীধারি একজন সিনিয়র নার্সের জন্য নির্ধারিত।

হাসপাতালে এরূপ ডিগ্রীধারি নার্স থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মোসাহেবী করনের উপহর স্বরূপ গত ২৭ মে এক নিদের্শনামায় সাধারণ ডিপ্লোমা নার্স পরিমল বনিককে উক্ত পদে পদায়ন করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও সরকারি নিয়োগবিধি পরিপন্থি। তদ্রুপ অরবিন্দ চন্দ্র দাস একজন সিনিয়র ষ্টাফ নার্স হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র মাথার উপর কর্তৃপক্ষের সুশীতল হাত থাকায় সে রেকর্ড শাখায় দায়িত্ব পালন করছে।

এভাবে সিনিয়র ষ্টাফ নার্স কবির আহমদকে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের পদায়ন করা হয়েছে। অথচ উক্ত সম্পর্শকাতর পদটি একজন দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট এর জন্য নির্ধারিত। অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একাধিক টেকনোলজিষ্ট হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও শুধুমাত্র “সুনজর” এর অভাবে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

সম্প্রতি ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাচারিতার এক নগ্ন উদাহরণ প্রণয়ন করেছেন। জনৈক এক ফটোগ্রাফারকে সরকারি সকল নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘এও’ বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদায়ন করেন। অথচ উক্ত ফটোগ্রাফারের কাজ ছিল এক্সরে বিভাগের ফিল্ম ধোয়া মোছা করা।

পক্ষান্তরে আব্দুর রহমান, নাজির আলম, আমিনুল ইসলাম গংকে সিনিয়র নার্স হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালের ঔষধ বিতরণ বিভাগে পিয়নের কাজ করতে হচ্ছে। ওসমানী হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স সংকট বিদ্যমান। কর্তৃপক্ষের ‘সুনজর’ বঞ্চিত হওয়ায় দক্ষ নার্সদের নন নার্সিং কাজে নিয়োজিত রাখায় এ সংকট এখন প্রকট আকারে।

যারদরুন রোগীরা যথাযথ সেবা প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত। এরূপ অচলাবস্থা সত্ত্বেও সরকারি নির্দেশনামা লঙ্গন করে গত ১১ এপ্রিল হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র ষ্টাফ নার্স তৃপ্তি রানী দত্তকে নর্সিং সুপারভাইজার পদে ‘পদোন্নতি’ দিয়ে শহরাভ্যন্তরের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বদলী করা হয়েছে (স্মারক নং-সিওমেকহা/ই-১/২০১৭/১৩৩৫/৮)। অথচ কোন নার্স বা কর্মচারীকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পদোন্নতি বা বদলী করার এখতিয়ার নেই। এরূপ নির্দেশনামা প্রণয়ন ক্ষমতা একমাত্র ডিজি নার্সিং অথবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here