সিলেটে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা : একমাসেও গ্রেফতার নেই

0
299

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেটে নিরীহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলার একমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও সন্ত্রাসী চক্রের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গুম ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ফলে প্রাণভয়ে মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলী পরিবার ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর সিলেট সদরের জালালাবাদ থানার ইসলামগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। বাজারে আসার পথে থানার পুরাণ কালারুকা লামাপাড়ার কমর আলীর নেতৃত্বে জামায়াত সমর্থিত একদল সন্ত্রাসী সিলেট সদর কমান্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলী ও তার পুত্র মুশতাক আহমদের উপর হামলা চালায়।

হামলায় মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলী ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মুশতাক গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুশতাক আহমদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে গুরুতর ও গভীরতর জখম করে এবং তার দুটি দাঁত ও দাঁতের চোয়ালী ভেঙ্গে ফেলে। আশংকাজনক অবস্থায় তাদেরকে সিলেট ওসামনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দাঁতের চিকিৎসার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মুশতাক আহমদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। সেখানে তার ডেন্টাল সার্জারীও করা হয়। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলীর অপর পুত্র মুজির আহমদ গত ৭সেপ্টেম্বর ৯জনকে এজাহারভুক্ত করে এসএমপির জালালাবাদ থানায় একটি মামলা{নং-০৩(৯)১৭}করেন।

মামলার আসামীরা হচ্ছে সিলেট সদর জালালাবাদ থানার পুরাণ কঅরারুকা লামাপাড়ার কমর আলী, কমর আলীর পুত্র রুবেল। অন্য আসামীরা হচ্ছে একইগ্রামের রুমেল, ফজর আলী, দুলাল,জাহেদ, ইসলাম উদ্দিন, ফুল মিয়া ও মুদ্দিন। মামলাটি তদন্ত করছেন তানার এসআই অঞ্জন কুমার দাস। হামলা ও মামলার একমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোন একজন আসামীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলী পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্রের ছাত্রছায়ায় হামলাকারীরা গ্রেফতার এড়িয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নিরীহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে নানাভাবে হয়রানসী ও হেনস্থা করে চলেছে। প্রাণভয়ে মুক্তিযোদ্ধা তজমুল পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্নস্থানে দিনযাপন করছেন।

পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলীর মেয়ে নেহার বেগম বুধবার (৪অক্টোবর) এসএমপি কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন। লিখিত আবেদনে তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ ও দ্রুততর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

এসএমপি কমিশনার কার্যালয়ের ডেসপাস শাখা নেহার বেগমের আবেদন প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসএমপির জালালাবাদ থানসার এসআই অঞ্জন কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান, মামলার তদন্ত চলছে। আসামীরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতারে পুলিশের তল­াশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here