বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল : বিপাকে গ্রাহকরা

0
426

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: আব্দুল মন্নান কয়েসের বাসা নগরীর বালুচর এলাকায়। জুলাই মাসে তিনি ৭৬১ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছিলেন।

কিন্তু আগস্ট মাসে তাকে ১৪ হাজার ৮০৬টাকার বিলের কাগজ ধরিয়ে দেন বিদ্যুৎ বিভাগের বিল বিতরণকারী। একই ভাবে ইসলামপুরের চামেলীবাগের সামিয়া সুলতানা জুন-জুলাই দুই মাসের ২ হাজার ৩৬টাকার বিল পরিশোধ করেন। আর আগস্ট মাসের বিলে তাকে সাড়ে ১৯ হাজার টাকা পরিশোধের কথা বলা হয়েছে। অস্বাভাবিক বিল আসায় হয়রানিতে পড়ছেন তিনি।

শুধু কয়েস কিংবা সুলতানা নয়; নগরীর জেলরোড এলাকার বাসিন্দা সিকন্দর আলীও পড়েছেন একই সমস্যায়। প্রতিমাসে তার বাসায় বিদ্যুৎ বিল দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা আসলে আগস্টে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২৮ হাজার ৫৭৬ টাকা। আর মধুশহীদের বাসিন্দা আবৃত্তিশিল্পী মোকাদ্দেস বাবুলের বাসার মিটারের বিপরীতে ১৩ হাজার ৪২৮ টাকার বিল ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।

যেখানে এর আগের মাসগুলোতে এক থেকে দেড় হাজার টাকার বেশি বিল আসেনি। একই সমস্যার কথা জানান টিলাগড়ের বাসিন্দা আফজাল শরীফও। তিনি জানান, ‘তার বাসায় এমনিতে বিল হয় সাত থেকে আটশ টাকার মধ্যে। কিন্তু আগস্ট মাসের বিলে লেখা হয়েছে ২২শ’ টাকা। অথচ এই মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার গত মাসের মতোই হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রায়নগরের বাসিন্দা শাহজাহান জানান, জুন মাসে তার বাসায় ১৭০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয় মর্মে বিল প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু পরের মাসে (জুলাই) ৯৮৭ ইউনিটের বিল প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি বিদ্যুৎ অফিসে অবগত করলেও কোন সমাধান পাননি। চলতি মাসে (আগস্ট) বিলেও এমন অতিরিক্ত ইউনিট এসেছে বলেও জানান তিনি।

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, তিন-চার মাস ধরে মিটারের রিডিংয়ের সাথে কোন মিল না রেখেই অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি এনালগ মিটার পরিবর্তন করে ডিজিটাল মিটার স্থাপনের পরেও অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। তাছাড়া মিটার রিডাররা বাসায় না এসে ইচ্ছেমত রিডিং বসিয়ে বিল প্রস্তুত করার কারণে এমন বাড়তি বিলের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের-এমন মন্তব্য করেন।

গ্রাহকরা অস্বাভাবিক বিলকে ভুতুড়ে বিল দাবি করলেও বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, মিটার রিডারদের যথাযথ তদারকি ও গাফিলতির কারণে এমনটি হয়েছে। এ কারণে প্রায় পাঁচশ’ মিটার রিডারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে সিলেটের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মিটার রিডাররা ৩০ ভাগ গ্রাহকের বাসা-বাড়িতে না গিয়ে মিটার রিডিং করেছে। ঘরে বসেই আনুমানিক বিল তৈরি করেছেন। ফলে রিডিং জমা থাকায় একসঙ্গে অধিক বিল এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে গত আগস্ট মাস থেকে গ্রাহকের মিটারের রিডিংয়ের ছবি মোবাইলে তুলে ঢাকায় প্রেরণ করা হচ্ছে।

এ রিডিং অনুযায়ী বিল প্রস্তুতের পর তা সিলেটে প্রসেস করা হয়। এরপর সিলেট কম্পিউটার সেন্টার থেকে তা কেবল প্রিন্ট দেয়া হয়। এখানে কারো হাতের ছোঁয়া নেই বলেও মন্তব্য করেন এ প্রকৌশলী। নতুন প্রযুক্তির কারণে বিলের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে এটা স্বীকার করে তিনি বলেন, কোন কোন সব সময় মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

এক মাস পর পর পর ঢাকায় রিডিং প্রেরণের কথা থাকলেও অনেক জায়গায় ৪০ দিনের রিডিং মোবাইলে ধারণ করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ কারণে গ্রাহকদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। যাদের বিল বেশি এসেছে, তাদেরকে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমদ বলেন, আমরা গ্রাহদের প্রতি আন্তরিক আছি।

আমরা চাই না গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্থ হোক। রিডারদের ভুলের কারণে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা একমাসের মধ্যে সমাধান করে দেওয়া হবে। গ্রাহকদের আর এমন পরিস্থিতির সম্মূখীন হতে হবে না। গ্রাহকরা যাতে স্বাছন্দে বিল পরিশোধ করতে পারে সেভাবে বিলগুলোকে কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ডেইলি সিলেট ডট কম

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here