শাহ আরেফিন টিলায় ফের প্রাণ গেল শ্রমিকের

0
76

সিলেটের সংবাদ ডটকম: কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় পাথর উত্তোলনের সময় ফের পাথরশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত শ্রমিকের নাম সুরুজ আলী ওরফে বুদাই (৫০)।

তিনি ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের মৃত সিদ্দিক আলীর ছেলে। গত সোমবার বিকাল ৫টার সময় এ ঘটনা ঘটে। শাহ আরেফিন টিলায় আইয়ুব আলীর পাথরের গর্তে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবগত না করেই লাশ গুমের চেষ্টা করেন পাথরখেকোরা। কিন্তু খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নিহতের ছাতকের বনগাঁওস্থ নিহতের বাড়িতে। সেখানে নেয়ার পরও রাতেই লাশ দাফনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন পাথরখেকোরা।

কিন্তু পাথর কোয়ারিতে মাটিচাপা পড়ে সুরুজ আলী বুদাই নিহত হয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়ার পর পঞ্চায়েত ও গ্রামবাসী রাতে লাশ দাফনে রাজি হননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য লাল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইউপি সদস্য লাল মিয়া বলেন, গ্রামবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সোমবার রাতে বিষয়টি অবগত হন।

তাই রাতে লাশ দাফন করতে দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকে ফোন করেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকালে টিলা ধসে ৫ শ্রমিক নিহত হন। পুলিশ নেত্রকোনোর পূর্বধলা ও সদর এলাকা থেকে ৫ শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়।

ঘটনার দিনই সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াতকে দিয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই তরিকুল ইসলাম ঘটনার পর দিন কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, শাহ আরেফিন টিলার পার্শ্ববর্তী নারাইপুর চিকাডহর গ্রামের মৃত মনফর আলীর চার ছেলে আইয়ুব আলী, সোহরাব হোসেন, আঞ্জু মিয়া ও চেরাগ আলী ও শ্রমিক সর্দার নেত্রকোনার পূর্বধলার জাহাঙ্গীর। গত ২ ফেব্রুয়ারি বেলা তিনটায় শাহ আরেফিন টিলায় মাটি ধসে আরো এক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।

নিহত সুহেল আহমদ (২৭) সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার রঙারচর ইউনিয়নের ছমদ নগর গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের পুত্র। শাহ আরেফিন টিলার আবুল বশরের পাথরের গর্তে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরই সোহেল আহমদের লাশ গুম করা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি বিকালে পুলিশ উপস্থিত থাকাকালেই হঠাৎ টিলা ধ্বসে কয়েকজন শ্রমিক চাপা পড়েন।

এ সময় স্থানীয়রা মাটিচাপা অবস্থায় এক পাথর শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেন। নিহত শ্রমিকের নাম আনিস মিয়া। তিনি সুনামগঞ্জ সদরের আহমদাবাদ শ্রামের কমর উদ্দিনের ছেলে। আর আহত অপর দুজনকে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কম্পেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন, আব্দুল গফুর ও মিজানুর রহমান।

পুলিশ জানায়, চিকাঢর গ্রামের করিম আহমদের গর্তের অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ গর্তের মালিকের ভাই আব্দুল কাদিরকে গ্রেপ্তার করে। আইনি ঝামেলা এড়াতে শ্রমিক হতাহতের ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেয়া হয়। গর্তের মালিকরা ঝামেলা এড়াতে পুলিশকে না জানিয়ে রাতের আঁধারে লাশ নিয়ে যান।

এতে অকালেই ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। এসব অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। স্থানীয়রা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নি¤œ আয়ের মানুষ অর্থ উপার্জনের আশায় কাজের সন্ধানে এসে জীবনবাজি রেখে ঝুঁকিপূর্ণ এসব কাজ করেন। প্রকাশ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এসব কাজ চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন রয়েছে নিশ্চুপ।

তবে, পুলিশ বলছে কেউ অভিযোগ করে না। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেন জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ তোলে দেয়া হবে এবং একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। এব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী র্কমকর্তা জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরির্দশন করছি। এব্যাপারে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here