নগরীর চঞ্চল রোডে ভাষা শহীদদের দেয়ালচিত্র বিকৃত করেছে দুর্বৃত্তরা

0
332

সিলেটের সংবাদ ডটকম: নগরীর রিকাবীবাজার থেকে সুবিদবাজারমুখী ডা. চঞ্চল রোডে ভাষা শহীদদের দেয়ালচিত্র বিকৃত করেছে দুর্বৃত্তরা।

এঘটনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সিলেটের সংস্কৃতি অঙ্গনে। সরেজমিনে দেখা যায় ‘ভাষাশহীদ’ শিরোনামে পাঁচ ভাষাশহীদ সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার ও শফিউলের ছবি আঁকা রয়েছে।

এর মধ্যে সালাম, শফিউল ও রফিকের মুখমণ্ডলে ধারালো কিছু দিয়ে ঘষে রং তুলে ফেলা হয়েছে। একই জায়গায় এর আগেও বঙ্গবন্ধুর তিনটি দেয়ালচিত্র বিকৃত করা হয়েছিলো। পরে দেয়ালচিত্রগুলোর স্থলে বঙ্গবন্ধুর তিনটি ম্যুরাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন।

সংস্কৃতিকর্মী ও আলোকচিত্রী কমলজিৎ শাওন বলেন, ‘অবশ্যই অসুস্থ চিন্তাচেতনার কোনো বিকৃত রুচির মানুষ নামের জানোয়ার এ কাজ করেছে। যারা এমন কাজ করে তারা সুস্থ-সুন্দর সংস্কৃতি চায় না। সোজা কথায় এরা মানুষ না।

দেয়ালচিত্র আঁকার কাজে নেতৃত্ব দেওয়া সিলেট আর্ট অ্যান্ড অটিস্টিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল গণি হিমন এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দেয়ালচিত্র বিকৃত করার ঠিক দুই সপ্তাহের মাথায় আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটল।

এটা খুবই হতাশাজনক। ’ তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি না হলে সারাক্ষণ পাহারা দিয়ে রাখা সম্ভব নয়। মানুষের বোঝা উচিত, এই দেয়ালচিত্রগুলো কারো বাসার বসার রুমে আঁকা হয়নি। পুরো নগরবাসীর জন্যই আঁকা হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, ‘আমার মনে হয়, যে বা যারা এ কাজ করছে তারা মানসিকভাবে অসুস্থ।

তিনি বলেন, ‘রাতের আঁধারে কেউ এ রকম কাজ করলে কী করার আছে? সারাক্ষণ তো পাহারা দিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বিষয়টি অবগত করে পুলিশকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর পুলিশকে চিঠি দিচ্ছি যাতে দেয়ালচিত্রগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারণ জেলা পুলিশ লাইনের বিপরীতে দেয়ালচিত্রগুলোর অবস্থান।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দেয়ালচিত্রগুলোর স্থলে আমরা ম্যুরাল তৈরি করছি। এগুলোও ঠিক করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত গৌরবগাথা তুলে ধরতে ডা. চঞ্চল রোডের পূর্ব পাশের দেয়ালে চলতি বছরের শুরুতে দেয়ালচিত্র আঁকা হয়।

তাতে ৯৬টি চিত্রের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত দীর্ঘ পথপরিক্রমার নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে বিনা পারিশ্রমিকে কাজটি করে সিলেট আর্ট অ্যান্ড অটিস্টিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

(Visited 22 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here