টাংগুয়ার হাওরে প্রকাশ্যে চলছে গাছ কাটা ও মাছ শিকার

0
240

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরে প্রতিদিনেই অবৈধ ভাবে প্রকাশ্যে দিন দুপুরে বেড় জাল,কোনা জাল দিয়ে মাছ ধরছে স্থানীয় জেলেরা।

আর হাওরের হিজল,করছ সহ বিভিন্ন গাছ কেটে নিচ্ছে স্থানীয় চোররা। যেন দেখার কেউ নেই।

অভিযোগ উঠেছে হাওর পাড়ের বাসীন্দাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তাদের কে গাছ কাটা,মাছ ও পাখি শিকার করার উৎসাহ প্রদান, ম্যাজিষ্ট্রেটের অভিযানের খবর অগ্রিম জানানো সহ সব ধরনের সহযোগীতা করছে কিছু সংখ্যাক কমিউনিটিগার্ড,আনসার সদস্য, এনজিও সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন অর্থের বিনিময়ে।

তারা স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে প্রতি নৌকা ৩-৫শত টাকার বিনিময়ে প্রতি রাতে প্রায় ২শত থেকে ৩শত মাছ ধরার নৌকা হাওরে প্রবেশ করার সুযোগ দেয়। এছাড়াও দিনের বেলার কোনাজাল,বেড়জাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য ১হাজার থেকে ২হাজার টাকা দিয়ে মাছ ধরছে প্রকাশ্যে।

আর জেলেরা কারেন্ট জাল সহ মাছ ও পাখি শিকার করার অন্যান্য যন্ত্রপাতি দিয়ে নিরাপদে দিনে ও রাত ভর মাছ ধরছে। হাওর থেকে ফিরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে চড়া দামে। এতে করে ধংশ হচ্ছে টাংগুয়ার হাওর।

জানাযায়, আর্ন্তজাতিক রামসার সাইট খ্যাত টাংগুয়ার হাওরের ১৮টি মৌজায় ৫২টি হাওরের সমন্বয়ে ৯৭২৭ হেক্টর এলাকায় ৮৮টি গ্রামে ৬১হাজার মানুষের বসবাস। পাড়ের বসবাসকারী এই সব মানুষ শুষ্কমৌসুমে(৬মাস) এক ফসলী বোরো জমি চাষাবাদ,বর্ষা মৌসুম (৬মাস) আর প্রায় সারা বছর মাছ শিকার ও শীত মৌসুমে পাখি শিকার করে।

পরে স্থানীয় বাজার ও এলাকার পাইকারদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করছে। আর পাইকাররা জেলেদের কাছ থেকে ক্রয় করে মাছে বরফ দিয়ে ও পাখি বস্তায় ভড়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা সহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা সদর,ভৈরব ও ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এতে করে প্রায় মাছ ও পাখি শুন্য হয়ে পড়েছে। আরো জানাযায়,টাংগুয়ার হাওর কে ১৯৯৯ সালে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষনা করা হয়। পরে ২০০০সালের ২০জানুয়ারী রামসার সাইট হিসাবে ঘোষনা করা হয়। ২০০৩সালের নভেম্বর থেকে ইজারা প্রথা বাতিল করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় হাওরের জীব বৈচিত্র্য রক্ষা ও রামসার নীতি বাস্থবায়নের উদ্যোগ নেয়।

এর পরও কোন প্রকার উন্নতি হয় নি। হাওর পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,হাওরে প্রতিদিন কোনা জাল,বেড় জাল দিয়ে প্রকাশে মাছ ধরছে জেলেরা দায়িত্বে থাকা লোকজনের সাথে টাকার বিনিময়ে আতাত করে। টাংগুয়ার হাওরের রক্ষকরাই এখন বক্ষক তাহলে টাংগুয়ার হাওর ঠিকে থাকবে কি করে।

১৯৯৯ সালে হাওরে ১৪১ প্রজাতির মাছ, ২শত প্রজাতির উদ্ভিদ, দু-শত ১৯ প্রজাতির পাখি, ৯৮ প্রজাতির পরাযায়ী পাখি, ১২১ প্রজাতির দেশিও পাখি, ২২ প্রজাতির পরাযায়ী হাঁস, ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রানী, ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১১ প্রজাতির উভচর প্রানী বিচরন করত ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-পালাও এসব এখন হুমকির মুখে।

সাদেক আলী,রফিকুল ইসলাম সহ উপজেলার সচেতন হাওর বাসীরা মনে করেন-হাওর পাড়ের বাসীন্দাদের বিকল্প কর্মসংস্থানে ব্যবস্থা করলে ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচার-প্রচারনা ব্যবস্থা করলে পর্যটন সমৃদ্ধ টাংগুয়ার হাওর তার ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে।

তা না হলে টাংগুয়ার হাওর দিন দিন মাছ,পাখি ও গাছ-পালা শূন্য হয়ে পড়ছে আরো শুন্য হয়ে পড়বে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-পর্যটন সমৃদ্ধ ঐতিয্যবাহী টাংগুয়ার হাওর মাছ,পাখি শিকার,গাছকাটা বন্ধ করে রক্ষা করার জন্য আমার উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাতœক চেষ্টা অব্যাহত আছে।

হাওর পাড়ের প্রতিটি গ্রামে সচেতনতার সৃষ্টির লক্ষ্যে সভা,সমাবেশ করতে হবে। টাংগুয়ার হাওরের ঐতিয্য রক্ষা করার জন্য আমাদের সবাইকেই ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ঐ এলাকার জনসাধারনের জন্য বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করাও এখন গুরুত্বপূর্ন বিষয়। টাংগুয়ার হাওরের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিষ্ট্রেট জানান,টাংগুয়ার হাওরে অবৈধ ভাবে মাছ ও পাখি শিকারের খবর পেলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তা প্রতিহত করা হয় তা অব্যাহত থাকবে। কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here