বিশ্বনাথে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
245

সিলেটের সংবাদ ডটকম: যুক্তরাজ্য প্রবাসীর কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে সম্প্রতি ‘প্রাথমিক শিক্ষা সিলেট বিভাগের’ উপ-পরিচালক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পালেরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাহার উরফে এ.কে.এম হেকিম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করেছেন প্রবাসী আবদুর রউফ।

স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, দুদক সিলেট অঞ্চলের পরিচালক, সিলেট কর অফিস-৫’র কর কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছেন, ২০০৫ সালে প্রবাসী আবদুর রউফ দেশে বেড়াতে এলে উপজেলার রামপাশা গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের পুত্র আবুল কাহার উরফে এ.কে.এম হেকিম উদ্দিন প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে তার এক বাল্যবন্ধুর সুবাদে পরামর্শ দেন, জায়গা-জমি খরিদ করে বাসা না করে তিনি যেন ঐ টাকা ব্যবসাখাতে বিনিয়োগ করেন।

পরবর্তিতে ব্যবসার লাভের টাকা দিয়ে জায়গা-জমি ও বাসা বানাতে পারবেন। আলোচনা সাপেক্ষে উভয় পক্ষ অংশিদারী ভিত্তিতে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। ব্যবসার পুঁজি দিবেন প্রবাসী, ব্যবসার মালিকানাও থাকবে প্রবাসীর নামে। ব্যবসা পরিচালনা করবেন হেকিম উদ্দিন মাস্টার, আর এর বিনিময়ে তাকে ব্যবসার লাভের এক চতুর্থাংশ দিবেন প্রবাসী।

ব্যবসায় লাভ না হলে কোন অংশ দিতে হবে না। ২০০৬ সালের ফেব্রয়ারী মাসে ‘মেসার্স ইসলাম স্টোন ক্রাশার’ নামে ব্যবসা চালু করে ও রাহিমুল ইসলাম নামে একজনকে স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান প্রবাসী আবদুর রউফ। তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার পর হেকিম উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে দোকানের নাম পরিবর্তন করে ‘তানভীর স্টোন ক্রাশার’ নামে সাইন বোর্ড বসান আর স্টাফ হিসেবে নিজের স্ত্রীর বড় ভাই মনিরকে নিয়োগ দেন।

পরবর্তিতে প্রবাসী আবদুর রউফ দেশে আসলে হেকিম উদ্দিনের নামে খরিদকৃত ‘টিএএফই’ ট্রাক্টর প্রবাসীর নামে হস্তান্তর করতে গড়িমসি শুরু করেন। অবশেষে গ্রাম্য শালিসের চাপে পড়ে বিক্রয় রশিদ সম্পাদক চুক্তিতে হস্তান্তর করেন। কিন্তু ব্যবসার স্বার্থে ক্রয় করা প্রাইভেট কারের কোন হদিস পাননি প্রবাসী। ‘টিএএফই’ ট্রাক্টর ও ক্রাশার মেশিন ছাড়া ব্যবসায় প্রবাসী আবদুর রউফ কোন লাভ পাননি।

এমনকি হেকিম উদ্দিনের মাধ্যমে ব্যবসায় তার (প্রবাসী) বিনিয়োগ করা ৯৯ লাখ ১২ হাজার টাকার এক টাকাও নগদ ফিরে পান নি, সব টাকা হেকিম উদ্দিন মাস্টার আত্মসাৎ করেছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছেন প্রবাসী আবদুর রউফ। অথচ হেকিম উদ্দিন মাস্টার নিজ বাড়িতে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন।

যার বর্তমান বাজার মূল্যে প্রায় কোটি টাকা। এছাড়া হেকিম উদ্দিনের স্ত্রীর নামে কুমিল্লায় চাতল কল, ইট ভাটা, পরিবহন রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রবাসী। ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত ৯৯ লাখ ১২ হাজার টাকা ফেরৎ চাইলে প্রবাসী আবদুর রউফকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন আবুল কাহার ওরফে এ.কে.এম হেকিম উদ্দিন মাস্টার এবং প্রবাস থেকে ঢাকা বিমান বন্দরে নামার সাথে সাথে তাকে (প্রবাসী) খুন করবেন মর্মে হেকিম উদ্দিন স্ত্রীর বড় ভাই মনিরের মারফত হুমকি দিচ্ছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ রয়েছে।

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে এবং উক্ত ঘটনার জন্য হেকিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন প্রবাসী আবদুর রউফ। সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে আবুল কাহার উরফে এ.কে.এম হেকিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, বহুপূর্বেই উনি (প্রবাসী রউফ), উনার সবকিছু বুঝে নিয়েছেন। এতদিন পরে নতুন করে অভিযোগ কি কারণে জানিনা।

আমার বা আমার পরিবারের কারোও নামে কোটি টাকার এত সম্পত্তি নেই। তদন্ত করলে যে কেউই এর প্রমাণ পাবেন। অনুলিপি প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য নিদের্শ প্রদান করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here