জৈন্তাপুরে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

0
249

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেটের জৈন্তাপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নিয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের জমি দাতাকে বাদ দিয়ে প্রয়াত এক ব্যাক্তির নাম দাতা সদস্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ দিনের এই জটিলতা নিরসনে অনেকটা উদাসীন সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ।

জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার ৩নং চারিকাটা ইউনিয়নের থুবাং গ্রামে অবস্থিত বাউরভাগ উত্তর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয় লোকজনের সার্বিক সহযোগিতায় এই বিদ্যালয়টি যখন প্রথম প্রতিষ্ঠা লাভ করে তখন আব্দুল মালিক নামের এক ব্যাক্তি স্বেচ্ছায় ৩৩ শতক জমি দান করেছিলেন।

০১/১২/১৯৮২ সালে আব্দুল মালিক সাব-রেজিস্টার অফিসের মাধ্যমে বাউরভাগ উত্তর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে জমি দান করেন।সেকাল থেকে আইনগতভাবে আব্দুল মালিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য হওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা গোপন থেকে যায়। আব্দুল মালিক তার জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান সুদূর প্রবাসে।

দীর্ঘকাল পর দেশে ফেরার পর তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য থুবাং গ্রামের প্রয়াত ব্যাক্তি পরিমল শর্মা। এখানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিঠিতে বার বার দায়িত্ব পালন করেন এমন কিছু লোকজন ও প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমলেই নিতেও ইচ্ছুক নয়।

তাছাড়া তারা পরিমল শর্মাকেই দাতা সদস্য হিসেবে সব সময় স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক কেউ যখন পাত্তা দিচ্ছেন না তখন নিরুপায় হয়ে একজন প্রকৃত জমি দাতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আব্দুল মালিক বিগত ২৩/০৭/২০১৭ ইং তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য। স্থানী লোকজনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, সহকারী শিক্ষা অফিসার একদিন বিদ্যালয়ে এসে পরিচালনা কমিটির এবং এলাকার কিছু মুরব্বীগনের সাথে কথা বলে চলে যান।

সেখানে তিনি অভিযোগকারী জমি দাতা আব্দুল মালিকের কোন কথাও শুনতে রাজি হননি। একজন দাতা সদস্যের বৈধতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ত্রুমেই দীর্ঘ হচ্ছে। অথচ শিক্ষা বিভাগ আইনগতভাবে যে ব্যাক্তি দাতা সদস্য হওয়ার যোগ্য তাকে বৈধতা দিয়ে দিলেই সমাধান হয়ে যায়।

কিন্তু তা না করে বিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগেী স্থানীয় একটি মহল বাধ্য হয়ে এমন বে-আইনী সিদ্ধান্তকে কিভাবে মেনে নিচ্ছেন প্রশাসন এমন প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে। একজন সরকারী কর্মকর্তা যে কোন ক্ষেত্রে সরকারী নীতিমালার আলোকে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রের নাগরিকগণ।

বাউরভাগ উত্তর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার উপর কথা হলো জৈন্তাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল জলিলের সাথে। তিনি বলেন, আমি বাউরভাগ এলাকার অনেক প্রবীন মুরব্বীগণের সাথে আলাপ করে জানতে পেরেছি পরিমল শর্মা ই জমি দাতা।

তবে তিনি একটি কথা স্বীকার করেছেন পরিমল শর্মার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত জমি দাতা হিসেবে কোন প্রমানপত্র উপস্থাপন করেন নি। পক্ষান্তরে অভিযোগকারী আব্দুল মালিকের দানপত্রে দেওয়া ৩৩ শতকের একটি দলিল আমাদের বিদ্যালয়ের ফাইলে রয়েছে। তিনি একজন ভূয়া দাতা সদস্যের পক্ষপাতিত্ব করতে গিয়ে আবারও বলেন, আব্দুল মালিক স্কুলে জমি দিয়েছেন সত্য, কিন্তু ৩০/৩২ বছর চলে গেলো একদিনও তিনি এই দাবী নিয়ে আসেননি, এখন কেন আসছেন।

অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো: বশির উদ্দিনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি এবং এটি অত্যন্ত দু:খজনক। একজন প্রকৃত ভূমি দাতাকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো উচিত। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না কি কারণে জমি দাতা নয় এমন ব্যাক্তিকে দাতা সদস্য করা হয়েছে।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here