যা থাকছে দুই প্রার্থীর ইশতেহারে

0
1008

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাই যেনো সিলেটবাসীর নিয়তিতে পরিণত হয়েছে।

পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে সিলেট উন্নীত হলেও দৃশ্যত পৌরসভার আঙ্গিক থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না।

প্রতিবছরই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে নতুন আশায় বুক বাঁধেন নগরবাসী। মেয়র প্রার্থীদের ইশতেহারে উন্নয়নের স্বপ্ন বুনেন তারা।

কিন্তু বিগত ২ নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়রদের কাছ থেকে কাগুজে উন্নয়ন পেলেও বাস্তবে তা অনেকটা দূরে। চলমান উন্নয়ন ছাড়া ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান অনেকটাই ব্যর্থ বলে নগরবাসীর অভিমত।

তবে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বর্তমান ও সাবেক মেয়র দাবি করছেন, ইশতেহার বাস্তবায়নে কোনো ধরণের গাফিলতি নেই। সূত্র মতে, গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই মেয়র প্রার্থীর একজন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, ছিলেন ১৪ দল সমর্থিত। অপরজন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম ও দ্বিতীয় নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। এরআগে তিনি ছিলেন পৌরসভার চেয়ারম্যান। সিসিকের তৃতীয় নির্বাচনে নগরবাসী পান নতুন মেয়র। বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী আসীন হন নগর পিতার আসনে।

কামরান ও আরিফ উভয়েই নির্বাচনের আগে ইশতেহার ঘোষণা করে জনগণকে দিয়েছিলেন প্রতিশ্রুতি। মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত মেয়র আরিফ ও সাবেক মেয়র কামরান কেউই তাঁদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। যদিও মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আরিফ আর কামরানের ছিলো গত নির্বাচনে তৃতীয় ইশতেহার।

গত নির্বাচনে কামরানের ২০ দফা এবং আরিফুল হকের ছিলো ১১ দফা ইশতেহার। কামরান পরাজিত হওয়ায় ইশতেহার বাস্তবায়ন করা না লাগলেও আরিফ তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করেন নগরবাসী। এরআগে দুইরের নির্বাচিত সাবেক মেয়র কামরানও ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাই বলা যায় ‘সিসিক নির্বাচন আসলেই প্রতিশ্রুতির ঝড় ওঠে, বাস্তবায়নে ব্যর্থই থেকে যান মেয়র। বর্তমান মেয়র আরিফুল হকের ১১ দফা ইশতেহার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে কার্যকর হয়নি একটি দফাও।

তাঁর ১১ ইশতেহারে সিলেটকে সাইবার সিটি হিসেবে গড়ে তোলা, পানীয় জলের সমস্যার সমাধান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, যানজট ও পরিবহণ সংকট দূরীকরণ, শিক্ষা ও উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নগরী গঠন ও প্রবাসী সেবাকেন্দ্র স্থাপন।

ইশতেহারে বলা হয়, আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হলে তার কর্মজীবন ও বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও নগরবিদদের সমন্বয়ে সিলেট নগরীর জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন।

কিন্তু বাস্তবে তাঁর একটি দফাও সম্পূর্ণরূপে আলোরমুখ দেখেনি। কামরানের আমলেও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি অস্পূর্ণ কাজ সম্পর্ণ করার লক্ষ্যে গত নির্বাচনে ২০ দফা ইশতেহার পেশ করেন।

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নগরীতে আরো স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা, যুব সমাজকে তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ, স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরো বাড়ানো ও নিশ্চিত করা, নগরীতে সকাল-বিকাল ভ্রমণ ও পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ, রাস্তাঘাট ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার, ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রশস্তকরণ ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এলইডি লাইট স্থাপন, নগরীর ব্যস্ততম বিভিন্ন মোড়ে ওভারব্রিজ নির্মাণ, ভূমিকম্পের ডেঞ্জারজোনে অবস্থিত সিলেটে যে-কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমাল রক্ষায় দ্রুত উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সকল ছড়া-খাল উদ্ধার ও খনন, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, পানীয় জলের মাসিক চার্জসহ সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য সেবা অটোমেশন ও অনলাইনকরণ, কেন্দ্রীয় শহিদমিনার এলাকা সম্প্রসারণ, নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজারে অবস্থিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের পর কারাগারের জায়গায় একটি আধুনিক পার্ক স্থাপন, ফ্লাইওভার ও লিংক রোড নির্মাণ, মাস্টার প্ল্যন অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন এলাকার সীমানা সম্প্রসারণ এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারীমুক্ত সিলেট মহানগরী গড়ে তোলা। কামরানের ইশতেহারে বিগত সময়ে তার মাধ্যমে নগরীতে সম্পাদিত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথাও তুলে ধরা হয়ছিল।

এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময়ে তিনি অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। অনেক কাজ এখন বাস্তবায়নাধীন। তাই অসম্পন্ন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে আবারো তাকে বিজয়ী করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ করেছিলেন। ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি নগরবাসীর সাথে কোনো ছলনা করিনি।

আমার সাথে নিষ্ঠুরতা করা হয়েছে। আমি ঠিকই ১১ দফা ইশতেহার বাস্তবায়ন করতাম। কিন্তু আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ২৭ মাস কারাভোগ করতে হয়েছে। এরপরও আমি অল্প সময়ে ১১ দফা ইশতেহারের প্রত্যেকটির কাজ করেছি। কোনো কাজ ৬০-৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

বাকি কাজ আগামীতে নির্বাচিত হয়ে করবো। পাশাপাশি নতুন ইশতেহার দিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন আমার রয়েছে। এ ব্যাপারে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর আমি প্রথম মেয়র নির্বাচিত হই। সুতরাং বুঝতে হবে আমি শূণ্য থেকে কাজ শুরু করেছি। দ্বিতীয়বার মেয়র হওয়ার পর আমি আগামী ৫০ বছরের একটি উন্নয়ন পরিকল্পনার ম্যাপ তৈরি করি।

ওই পরিকল্পনাই বর্তমান সিটি কর্পোরেশন চলছে। অতীতে দুইবার নির্বাচিত হওয়ার পর সকল প্রতিশ্রুতি কী বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন জানতে চাইলে কামরান বলেন, যেহেতু আমি শূণ্য থেকে শুরু করেছিলাম সেহেতু সব বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে অধিকাংশই বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলাম।

অসম্পূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। নগরবাসীর সেবা করা আমার ভাগ্যে থাকলে হয়তবা আগামীতে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। কামরান বলেন, যত দৃশ্যমান কাজ তার সবই আমি মেয়র থাকাবস্থায় হয়েছে। যেমন, এখন যে নগরভবন হচ্ছে তা আমি মেয়র থাকতে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও অধিকাংশ বড় বড় উন্নয়ন কাজ আমি দায়িত্বে থাকতে হয়েছে। অনেক প্রকল্প দায়িত্ব পালনকালে পাস করা হয়। যা এখন বাস্তবায়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের শুরুতে অনেক এলাকা অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ওই সব এলাকা যেসকল ওয়ার্ডে অধিনে অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট, কালভার্ড, ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করিয়েছি। দৈনিক সিলেট

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here