বড়লেখায় তিন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সৎ শাশুড়িসহ আটক ৩

0
870

সিলেটের সংবাদ ডটকম: েবড়লেখায় তিন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ তিন মহিলাকে আটক করেছে। তারা হচ্ছে-মাজেদার সৎ শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম (৫৩), চাচি শাশুড়ি আলিফজান বিবি (৪৫) ও জা সামিয়া বেগম (২১)।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ভোলাকান্দি গ্রামের একই পরিবারের ৩ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ তাদের বসতঘর থেকে উদ্ধার করে।

নিহতরা হচ্ছেন- কাতার প্রবাসী আকামত আলীর স্ত্রী মাজেদা বেগম (২৫), মেয়ে লাবণী বেগম (৫) ও ছেলে ফারুক আহমদ (৩)। নিহত মাজেদার বাবার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার সাদিপুর গ্রামে। বুধবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের নিকট পুলিশ লাশ হস্তান্তর করেছে।

পুলিশ ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, কাতার প্রবাসী আকামত আলীর স্ত্রী বসতবাড়ির প্রায় ১শ’ গজ অদূরে মিস্ত্রি দিয়ে ঘর নির্মাণ করাচ্ছেন। প্রতিদিন তিনি মিস্ত্রিদের সাহায্য সহযোগিতা করতেন। মঙ্গলবারও তিনি বসতঘর ও নির্মাণাধীন স্থানে যাওয়া আসা করছিলেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দিবাংশু নামে মিস্ত্রি সিমেন্টে নিতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করে।

দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে দরজার ফাক দিয়ে মাজেদাসহ মেয়েকে ঝুলন্ত দেখে লোকজনকে জানায়। খবর পেয়ে ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক আহমদ ও আওয়ামী লীগ নেতা মোক্তার আলী পুলিশে খবর দেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত লাশ ও মেঝে থেকে শিশুপুত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক আহমদ জানান, তিনি বিকেল ৫টার দিকে খরব পেয়েই ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তা নিশ্চিত নন। ধারণা করছেন বিকেলের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। বড়লেখা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই অমিতাভ দাস তালুকদার জানান, মা ও মেয়ের ঝুলন্ত ও শিশুপুত্রের লাশ মেঝ থেকে উদ্ধার ও সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ তিনটি মর্গে প্রেরণ করেন।

বুধবার সন্ধ্যায় নিহত মাজেদার মামা সেলু মিয়ার নিকট ৩ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে বড়লেখা থানার এসআই জাহাঙ্গির আলম জানান, ঘটনাটি রহস্যময়। সুরতহালের সময় নিহতের শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ধারনা করা হচ্ছে- তিনজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রবাসী স্বামীর সঙ্গেও কিছুদিন ধরে মনোমালিন্য ছিল মাজেদা বেগমের। তা ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটলেও বাড়ির অন্যান্যদের আচরণ ছিল সন্দেহজনক। তিনজন মানুষ মারা গেলেও বাড়ির কেউ লাশের দায়িত্ব নেয়নি। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত মাজেদার সৎ শাশুড়ি, চাচি শাশুড়ি ও এক দেবরের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here