সিলেটে অবাধে চলছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা

0
755

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেটে অবাধে চলছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা।

সিলেট নগরীতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলে বাঁধা ধরা থাকলেও বিভিন্ন উপজেলা রুটে এ সবের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।

পুলিশের সামনে দিয়ে এ সকল অটোরিক্সা চলাচল করলেও তারা না দেখার ভান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশকে ম্যানেজ করেই এ সকল রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিক্সা চলাচল করছে। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে কথিত পুলিশ টোকেন কিংবা স্ট্যান্ড কার্ড।

একই কার্ডের এপাশ ওপাশে চিহ্নকে পুঁজি করে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অননুমোদিত এ সকল সিএনজি অটোরিক্সাগুলো। তবে পুলিশ বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলছে, এ ধরণের কোনো কিছু হতে পারে না। পুলিশ অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার।

বিভিন্ন সময়ে নাম্বারবিহীন গাড়ি আটক করলেও দেখা যায়, ওই গাড়ির বিপরীতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ব্যাংক চালান জমা দেওয়া আছে। তাই গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। জানা যায়, দক্ষিণ সুরমার সিলেট-জকিগঞ্জ রোডের ওভারব্রীজের নীচে ২০৯৭ শাখা নামের সিএনজি স্ট্যান্ড।

এই শাখায় মোট সিএনজির সংখ্যা ৭০টি, এর মধ্যে ৩০টি সিএনজি অটোরিক্সা রেজিষ্ট্রেশন বিহীন। এমনকি এই স্ট্যান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার সিএনজিও চলে ৪/৫টি। মাসিক ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পুলিশি চাঁদার মাধ্যমে ওভারব্রিজ থেকে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, ঢাকা দক্ষিণ রোডে অবাধে চলছে এসব রেজিষ্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা।

আর পুলিশের পক্ষ থেকে মাসিক চাঁদার বিপরীতে স্টিকার ও টোকেন সরবরাহ করা হয়। স্টিকার সিএনজি অটোরিক্সার গ্লাসে ও টোকেন গোপনীতার মাধ্যমে রাখা হয়। টোকেনে লেখা থাকে স্ট্যান্ডের নাম ও শাখা নাম্বার এবং টোকের বিপরীত সাইডে চাঁদার সংকেত চিহ্ন।

ওভারব্রিজ স্ট্যান্ড ২০৯৭ শাখার ম্যানেজার সেলিম আহমদ বলেন, ওভারব্রিজ থেকে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, ঢাকা দক্ষিণ রোডে চলে ৭০টি সিএনজি অটোরিক্সা।

এর মধ্যে রেজিষ্ট্রেশনবিহীন রয়েছে ৩০টি ও বিভিন্ন জেলার সিএনজি রয়েছে আরও ৪/৫টি। রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ও অন্যজেলার সিএনজি কিভাবে চলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রাফিক (টিআই), ট্রাফিক সার্জেন্ট, মোগলাবাজার থানা পুলিশ ও দক্ষিণ সুরমা থানা কর্তৃক ওভারব্রিজ থেকে শ্রীরামপুর বাইপাস পর্যন্ত সামাদ ও তার মাধ্যমে স্টিকার ও টোকেনে চলে এসব সিএনজি অটোরিক্সা।

আর স্টিকার ও টোকেনের বিপরীতে প্রতি গাড়ি থেকে মাসিক চাঁদা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা নেওয়া হয়। এবং শ্রীরামপুর বাইপাস থেকে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার পর্যন্ত মনাই নামের একজন আদায় করেন গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার থানার নামে চাঁদা। এ বিষয়ে মোগলাবাজার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার ইসলাম বলেন, ওভারব্রিজ এলাকা মোগলাবাজার থানার আওতাধীন নয়, আর এটা পুলিশের কাজ নয়।

যেহেতু এটা মোগলাবাজার থানা এলাকা নয় বা এটা ট্রাফিক পুলিশের কাজ তাই এ ব্যাপারে কোনো কিছু জানা নেই আমার। এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা অফিসার ইনচার্জ খায়রুল ফজল বলেন, দক্ষিণ সুরমা থানার নামে টাকা আদায়ের বিষয়টি মিথ্যা। তবে আগে যদি কেউ করে তা করে থাকে এটা আমার জানা নেই।

বর্তমানে এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। গোলাপগঞ্জ অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলী টাকা লেনদেনের কথা অস্বীকার করে বলেন, এসব অবৈধ কাজে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ কোনো সময় জড়িত নয়। তবে মাঝে মধ্যে এসব গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সী বলেন, বিয়ানীবাজার থানার নামে কোনো চাঁদা আদায় করা হয় না। হলে আমি জানতাম। যেহেতু আমি জানি না, তাই এটা নিশ্চিত থানার নামে কোনো টাকা আসে না।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারে না। যদি এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালানো হবে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুত্র:- সবুজ সিলেট

(Visited 26 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here