ইলিশের নামে খাচ্ছেন বিষ!

0
258

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: দেখতে হুবহু ইলিশ মাছের মতোই। রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্রেতারা পদ্মার ইলিশ বলে ক্রেতার কাছে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

বেশ বড় ও চকচকে রুপালি রং দেখে ক্রেতারাও খুশি মনে কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। তবে রান্নার পর পদ্মার ইলিশের স্বাদ তো দূরের কথা খেতে একেবারেই বিস্বাদ, উটকো গন্ধ।

ক্রেতারা জানেন না ইলিশ মাছের নামে গাঁটের টাকা খরচ করে তারা কিনে খাচ্ছেন বিষ। দেশের বাজারে এ মাছটি চন্দনা বা চাদিনা নামে বিক্রি হচ্ছে। এক শ্রেণির মুনাফা লোভী ব্যবসায়ী সমুদ্র ও আকাশ পথে আমদানি করে প্রতিদিন দেশের বাজারে বিক্রির জন্য ইলিশ মাছের নামে নিয়ে আসছে বিষ।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) মাহবুব কবীর মিলন মঙ্গলবার নিজ দফতরে আলাপকালে জানান, হুবহু ইলিশ মাছের মতো দেখতে একই মাছ কলম্বো সাদ ও গিজার্ড সাদ নামে আমদানি করা হচ্ছে। দেশীয় বাজারে চান্দিনা বা চাদিনা নামে বিক্রি হওয়া এ দুটি মাছে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হেভি মেটাল উপাদান পাওয়া গেছে।

বাজার থেকে ক্রেতারা টাকা দিয়ে প্রকারান্তরে বিষ কিনে খাচ্ছেন। তিনি জানান, স্বাভাবিক মাত্রায় মাছে (এমজি/কেজি) লেড এর পরিমাণ শূন্য দশমিক ৩ ভাগ হলেও ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় ৫ গুণ বেশি সীসা (১ দশমিক ৫৫৯ ও ১ দশমিক ৬৯৯ (এমজি/কেজি) পাওয়া গেছে।

এছাড়া দ্বিগুণের বেশি ক্যাডমিয়াম (সিডি) পাওয়া গেছে। তিনি জানান, মাছের নামে বিষ আমদানি বন্ধে আমদানিকৃত মাছের চালান ল্যাবরেটরি টেস্টের ফলাফল ছাড়া খালাস না করতে অনুরোধ জানিয়ে কাস্টমসকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বাংলাদেশ ফুড সেইফটি অথরিটি)।

আগামী দু’ একদিনের মধ্যে ল্যাবরেটরি চালান ছাড়া আমদানিকৃত মাছ খালাস বন্ধ হয়ে যাবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমার, ফিলিপাইন ও ওমান থেকে আমদানিকৃত কথিত এ ইলিশ মাছ দেশের বাজারে আসছে। মিয়ানমার থেকে আনা মাছ টেকনাফে ভ্যাট কাষ্টমস্ কমিশনার কার্যালয় ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা মাছ চট্টগ্রাম ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আসছে।

বেশি মুনাফাজনক হওয়ায় এ মাছ দেদার আমদানি হচ্ছে। শুধু হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতি মাসে ১ টন মাছ আমদানি হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নববর্ষের প্রথম দিন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ল্যাবরেটরি টেস্ট ছাড়া মাছের চালান বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দর ও টেকনাফে ভ্যাট কমিশনারকে চিঠি দেয়ার পর মৎস্য আমদানিকারকরা একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এ ধরনের চিঠি দেয়ার এখতিয়ার আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব কবির মিলন বলেন, খাদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো জনহিতকর সিদ্ধান্ত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিতে পারে। সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তাদের অনুরোধ আমলে নিয়ে কাজ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here