জৈন্তাপুরে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির প্রশিক্ষণে অনিয়ম!

0
723

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় চলছে ৯০দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের উপজেলার বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ দেয়া হবে।

ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণকালীন সময় এক মাস পেরিয়েছে। তবে, এই এক মাসেই সময় মতো ক্লাস না হওয়া, প্রশিক্ষণার্থী অনুপস্থিত থাকা এবং নামেমাত্র প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নানা অনিয়মের চিত্র ধরা পড়েছে।

স্থানীয় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার তদারকি না থাকাসহ তার গাফিলতির কারণে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এমনকি অনিয়মের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ প্রশিক্ষণার্থীরাও।

গত সোমবার উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের এম আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১১টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি প্রশিক্ষকের।

কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় বসে রোদ পোহাচ্ছেন। কয়েকজন আবার এলোমেলো ভাবে গল্প করে সময় পার করছেন। কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনেও কথা বলছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রশিক্ষক প্রতিদিন দেরী করে আসেন।

প্রতিদিন এভাবে তাদের প্রশিক্ষকের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। তাছাড়া বিকেলের শিফটে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকেন। এছাড়া এক মাস পার হয়ে গেলেও তাদের পুরো সিলেবাস এখনও শুরুই হয়নি। একই ভাবে দরবস্ত, চারিকাটাসহ আরো কয়েকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে এমন অনিয়মের চিত্র ধরা পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এম আহমদ পাবলিক স্কুল ভেন্যুর এক প্রশিক্ষণার্থী জানান ‘আমাদের ভেন্যুর কোন নিয়ম-কানুন নেই। কোন দিন প্রশিক্ষক আসেন আবার কোন দিন প্রশিক্ষক নাই। এই ১ মাসে ১ দিনও কোন প্রশিক্ষক সঠিক সময়ে পাইনি। এতে আমাদেরও অভ্যাস হয়ে গেছে, যখন ইচ্ছে আসি আর স্বাক্ষর করে চলে যাই।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচিতে নিয়োগ প্রাপ্তির আগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয় সংশ্লিষ্ট যুব ও যুব মহিলাদের। তাদের কৃষি, সেচ, বন পরিবেশ, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা, সমবায়সহ স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়া হয়।

প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য- ওইসব বিভাগে তাদের চাকরি সংযুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যাতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়। কিন্তু প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে কেউই যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন না। বিধি অনুসারে কোন প্রশিক্ষণার্থী লাগাতার তিনদিন অনুপস্থিত থাকলে তাকে ড্রপ আউটের বিধান রয়েছে।

কিন্তু জৈন্তাপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এ ব্যাপারে রয়েছে উদাসিন। গত ১ মাসে একটিও ড্রপ আউট নোটিশ ক্লাশে যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক প্রশিক্ষণার্থীই ক্লাশে উপস্থিত না থেকে অন্য প্রশিক্ষণার্থী দ্বারা হাজিরা শীটে স্বাক্ষর করিয়ে থাকেন।

কেউ কেউ এমনও রয়েছেন যারা প্রশিক্ষণ শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ দিনও ক্লাশে উপস্থিত না থেকে হাজিরা শীটে উপস্থিতি দেখাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রশিক্ষণার্থী জানান, ‘যে সব প্রশিক্ষণার্থী ক্লাশে উপস্থিত না থেকে অন্যকে দিয়ে স্বাক্ষর করান। তারা কেউই বেকার নন।

তারা অন্যান্য পেশায় কাজ করে যাচ্ছেন। আর প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা দেবার প্রলোভন দেখিয়ে সহপাঠিকে দিয়ে শীটে স্বাক্ষর করিয়ে থাকেন। এ ব্যাপারে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবালের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ কারণে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here