নেতাদের গ্রুপিং : রক্তাত্ত সিলেট, ক্ষতিগ্রস্থ ছাত্রলীগ

0
783

সজল দাস অনিক: পত্র-পত্রিকায় বা বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় যখন দেখি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রলীগের একজন কর্মী নিহত,তখন খুব খারাপ লাগে।

আবার যখন দেখি সিলেটে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত..তখনও খারাপ লাগে..কিন্তু সিলেটের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যাযজ্ঞের ঘটনা শুনে আমি আর অবাক হইনা আতংকিতও হইনা।

কারন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সিলেটে এখন খোলা বাজারের সস্তা পণ্যের সমতুল্য হয় গেছে।নিজ শহর সিলেটে ছাত্রলীগের দুপক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ধাওয়া পালটা ধাওয়া এক ধরনের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে এরকম খবর দেখে আগের মত আর আতংকিত হইনা।

কারন প্রতিনিয়ত এরকম খবর দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমিও ছাত্রলীগের রাজনীতি করি,যে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষের কল্যানের জন্য,মানুষের শান্তির জন্য নিজের জীবন আত্মত্যাগ করেছেন,বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনাও পিতার মত দেশের মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ছাত্রসমাজের ন্যায্য দাবি আদায় ও দেশের মানুষের বিপদেআপদে পাশে থাকার জন্য।শিক্ষা,শান্তি আর প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রমান দিয়েছে যে ছাত্রলীগ এদেশের মানুষের জন্য,দেশের জন্য সবসময় নিজের জীবন দিতে প্রস্তুত।

কিন্তু সিলেটের ছাত্রলীগ? নাকি সিলেট সিন্ডিকেট ছাত্রলীগ? একেকজন একেকরকম বলবেন এটাই স্বাভাবিক।যেমন বলতে পারেন সিলেটের রাজনীতিতে আমিও একটি বলয়ের সাথে সম্পৃক্ত। তবে আমি সিন্ডিকেট নেতাদের সাথে মিশে রাজনীতি করিনা।সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী খুন..সাধারণ মানুষ যখন খবরটা শুনলো তখন?

কিভাবে খুন হলো? কেউ আর তখন বলে না যে ছাত্রদল মেরেছে নাকি শিবিরে মেরেছে?সবাই এখন সরাসরি বলে দেয় যে ছাত্রলীগের গ্রুপিং খুন নাকি? দেখুন সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের কি অবস্থা? এর জন্য দায়ীটা কে? অনেকেই বলবেন এর জন্য দায়ী ছাত্রলীগ. আমি এই যুক্তির বিপক্ষে.. এর জন্য দায়ী ছাত্রলীগ কখনো হতে পারে না..এর জন্য দায়ী আমাদের সিলেটের গ্রুপ নিয়ন্ত্রণকারী আমার শ্রদ্ধেয় নেতারা।

একটা কথা বলে রাখি আমরা ছাত্রলীগের কর্মীরা গ্রুপিং করিনা, আমরা গ্রুপিংয়ের শিকার,তবে আমাদের নেতারা অন্য যে নেতাদের সাথে গ্রুপিং খেলায় লিপ্ত হন তখন আমরা আমাদের নেতাদের সাথে গ্রুপিং খেলায় অংশগ্রহণ করি. তখন ছাত্রলীগ করলেও প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ হলেও বলতে পারেন তাদেরো চিরশত্রু মনে করি।

তখন যে গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয় বলতে পারেন সেই গ্রুপিংয়ের বলি আমার মত ছাত্রলীগের কোননা কোন কর্মী।ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কোন কর্মী নিহত হলে আমি বা আপনারা প্রথমে শোকাহত-মর্মাহত হয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস,নিহতের ছবি প্রোফাইল বা কভার পিক করি এবং দুই একদিন নিহতের পরিবারে গিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেই।

এর চেয়ে বেশি কিছু নিয়।এর চেয়ে বেশি কি বা করার আছে আমাদের? কিন্তু একবার চিন্তা করুন গ্রুপিং রাজনীতির শিকার সেই কর্মীটি যদি আপনার আপন ভাই হয়? তখন কেমন লাগবে আপনার?

আর এখন আবার চিন্তা করুন সন্তানহারা মায়ের অবস্থাটাই ভা কি হবে? দুই দিন,সপ্তাহ, মাস,বা বছর অতিক্রম করার পর গ্রুপিং রাজনীতিতে বলি হওয়া সেই ছেলেটের খবর তার পরিবার ছাড়া আরো কারো মনে থাকবে না।

আমরা বড়জোর মৃত্যুবার্ষিকীতে শোকাবহ কোম স্ট্যাটাস দিয়ে দুই একদিনের জন্য আবারো তাকে স্মরণ করব পরে আবার ভুলে যাবো।কিন্তু তার পরিবার কি তাকে সারাজীবন ভুলতে পারবে? পারবে না।স্বজন হারার বেদনা একমাত্র তার পরিবারই বুঝে।

আপনার বা আমার উক্ত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ক্ষমতাটুকু আছে, অন্য কিছুই আমরা করতে পারবোনা।এভাবে দিনের পর দিন সিলেটে গ্রুপিং রাজনীতির শিকার হয়ে অকালে ঝড়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের কোননা কোন কর্মীর প্রাণ। তরুন প্রজন্ম কি এরপর থেকে এসব ঘটনা দেখে ছাত্রলীগের রাজনীতি করবে?

বা তরুন প্রজন্মকে কি তার পরিবার ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে দিবে? দিবেনা।এটা শতভাগ নিশ্চিত। নিজেদের সংগঠন আমরা নিজেরাই ধ্বংস করছি। বাইরের কেউ এর জন্য দায়ী নয়।

সুতরাং সময় থাকতে আমাদের সচেতন হয়ে এসব নোংরা গ্রুপিং রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। নাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।আমার লেখায় কোন ভুল ত্রুটি হলে আমাকে ক্ষমা করবেন। লেখক:- সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

(Visited 19 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here