কুচাই এলাকার আতংক পাথর মজুদ ও ক্রাশার মেশিন

0
296

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: দক্ষিণ সুরমার কুচাই এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। এলাকায় সুরমা নদীর ডাইকে গড়ে উঠেছে জমজমাট পাথর মজুদ ও ক্রাশার দিয়ে পাথর ভেঙ্গে ব্যবসা।

বড় বড় ট্রাক পাথর লোড নিয়ে ডাইকের উপর দিয়ে যাতায়াতের কারণে যে কোন সময় এ এলাকার সুরমা নদীর ডাইকটি ধ্বসে পড়তে পারে আশংকায় আতংক বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

বড় বড় ট্রাক যাতায়াতের ফলে এলাকার পরিবেশ হয়ে পড়েছে হুমকির মুখে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুচাই এলাকার সুরমা নদীর ডাইক কেটে গোলাপগঞ্জের সরফ উদ্দিনের ১টি ক্রাশার, গোলাপগঞ্জের আলিম উদ্দিন ৩টি ক্রাশার, কুনু মিয়ার ১টি ক্রাশার, ছাতকের নাসির মিয়ার ১টি ক্রাশার ও উস্তার মিয়ার ১টি ক্রাশার মেশিন চলছে।

এখানে কাজ করছেন নারী-পুরুষ শ্রমিক। বড় বড় ট্রাক বোঝাই হচ্ছে পাথর। এবং পিডিবির ইলেক্ট্রিক লাইন টানানো রয়েছে তার সাথে সংযোগ রয়েছে বড় সানগান ও বাল্ব। নদীর পারে বড় বড় ট্রাক যাওয়া আসার জন্য নদীর ডাইক কাটা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। এই এলাকার পরিবেশ এমন মনে হবে কোন পাথর কোয়ারী।

জানা যায়, মোগলাবাজার থানা ও পরিবেশ অধিদপ্তর, কুচাই ইউপি চেয়াম্যান কালামসহ সংশ্লিষ্ট অধিপ্তরের সাথে রফাদফার মাধ্যমে চালিয়ে আসছেন এই এলাকায় ডাইকের উপর অবৈধ পাথরের ব্যবসা। ওই এলাকা ঘনবসতি, মসজিদ, মাজার এবং কুচাই ইছরাব আলী স্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে। দক্ষিণ কুশিঘাট এলাকার বাসিন্দারা এই ডাইকের উপর দিয়ে কুচাই বাজারে বাজার সদাই করতে যাতায়াত করেন কয়েক যুগ থেকে।

এবং ওই এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও ওই ডাইকের উপর দিয়ে যাওয়া আসা করতেন। বর্তমানে পাথর খেকোদের কারণে ধূলোবালি ও ক্রাশারের শব্দে পরিবেশ এমন যা এ ডাইকের উপর দিয়ে যাওয়া আসা দূরুহ হয়ে পড়েছে। এমনকি ক্রাশার মেশিনের শব্দে ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যঘাত ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে কুনু মিয়া বলেন, ডাইকের পাশে নদীর তীরে থাকা কিছু জায়গার মালিকের কাছ থেকে ৫ বছরের জন্য জায়গা লিজ নেন। প্রতি বছরের জন্য জায়গার মালিককে দিতে হয় ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা থেকে ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা দেয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘটনাস্থলে আসলে ২০,০০০/- হাজার থেকে ২৫,০০০/- হাজার টাকা দেয়া হয়।

মোগলাবাজার থানাকে সিজনে ৪০,০০০/- হাজার থেকে ৫০, ০০০/- হাজার টাকা, এবং কুচাই ইউপি চেয়াম্যান কালাম এলাকার উন্নয়নের কথা বলে বিভিন্ন সময় ৩০,০০০/- হাজার থেকে ৪০,০০০/- টাকা দেয়া হয়। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ এলাকায় আগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এবং দক্ষিণ সুরমা ইউএনওকে অবহিত করা হয়েছে। শীঘ্রই ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে জানতে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তোফা বলেন, ছয় মাস আগেও ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ক্রাশার মেশিন জব্দ করা হয়েছিল।

এবং ওই এলাকার সুরমা নদীর ডাইকের উপর পাথর মজুত বন্ধ করা হয়েছিল। আবার শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে কুচাই ইউপি চেয়াম্যান আবুল কালাম বলেন, আমি ওই এলাকা থেকে কোন টাকা নেই নাই, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

লাইসেন্সে ব্যবসার জন্য দেওয়া হয়েছে কিন্তু ক্রাশার পরিচালনার জন্য দেওয়া হয়নি। এ অবৈধ ব্যবসা বন্ধে আমি সিলেট জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ করা হয়েছে। সবুজ সিলেট

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here