‘টিলাগড় থেকে সাবধান ও কিছু কথা’

0
1855

কামাল হোসেন খান: প্রিয় টিলাগড়। এখানে আমার জন্মস্থান নয়। তবে ২৯ বছর থেকে এই টিলাগড়ে বসবাস করছি। কৈশোর থেকে আজ অবধি টিলাগড়েই আছি।

জন্মস্থানের চেয়ে কোন অংশে কম মায়া নয়। রাজনৈতিক, সামাজিক সম্প্রীতির এক বন্ধনে সবাই আবদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে টিলাগড়ের রয়েছে বিশাল ভূমিকা।

সিলেটের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজ, সরকারী কলেজ, শিশু বিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ টিলাগড়ে অবস্থিত। শিক্ষা বিস্তারের চারণভূমি এই টিলাগড় প্রতিটি গনতান্ত্রিক আন্দোলনে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।

সিলেটের কৃতি সন্তানেরা যারা আজ জাতীয় পর্যায়ে গিয়েছেন, তারা টিলাগড় এমসি কলেজ থেকে রাজনীতি করে আজ জাতীয় পর্যায়ে। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, বিয়ানীবাজার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল খালিক মায়নের মত মানুষ এই টিলাগড়ের বাসিন্দা ছিলেন।

সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এই টিলাগড়ের বাসিন্দা। এই এলাকার মানুষের স্নেহ ভালোবাসা ও সহযোগীতায় অনেক রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্য অন্যতম আজাদুর রহমান আজাদ ও রঞ্জিত সরকার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই দুই সৈনিক রাজনীতির জন্য বিসর্জন দিয়েছেন জীবনের অনেক কিছু।

আওয়ামী লীগের চরম দু:সময়েও টিলাগড় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে প্রমানিত হয়েছে। কিন্তু এই ঘাঁটির মধ্য কোথায় যেন বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। খুন খারাবির জন্য সমগ্র সিলেট তথা জাতীয় দৈনিকের ও টিভি চ্যানেলের শিরোনাম হয়ে যাচ্ছে টিলাগড়। ঐতিহ্যবাহী টিলাগড়ের ঐতিহ্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

সিলেটের মানুষ টিলাগড় নিয়ে টিজ করে। ফেসবুকে ভাইরাল করা হচ্ছে ‘সাবধান সামনে টিলাগড়’ বলে ব্যাঙ কার্টুন দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতায় তা সহ্য করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু টিলাগড় এলাকার বাসিন্দাদের হৃদয় ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে।

এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আমাদের প্রিয় দুই নেতা আজাদ ভাই রঞ্জিত দা’র কাছে আকুল আবেদন, একমাত্র আপনারাই পারেন এই টিলাগড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে।

এলাকার মানুষ আপনাদের দিকে চেয়ে আছে, আপনাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখে- মেয়র হবেন, এমপি হবেন। আপনারা মূল দলের রাজনীতি করেন, কিন্তু আপনাদের দেখেই তো ছাত্রলীগ, যুবলীগ করে তরুণ সমাজ। হাজারও কর্মি আপনাদের পেছনে।

আর যাতে কোন মায়ের বুক খালি না হয়, আর যাতে রক্তে রঞ্জিত না হয় টিলাগড়, আর যাতে কেউ টিলাগড় নিয়ে টিজ না করে, আপনারা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে বৃহত্তর টিলাগড়ের ভালোবাসার ঋন পরিশোধ করবেন। এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ আপনাদের দিকে চেয়ে আছে।

লেখক: কর্ণধার, নির্বান সিলেট ও সাবেক সভাপতি, শাপলা সংঘ,  টিলাগড়।

(Visited 18 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here