দুইজনই ’ভয়ঙ্কর’ বন্ধু, কিন্তু বলি হচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা

0
1325

সিলেটের সংবাদ ডটকম: তাঁরা দুইজনই ’ভয়ন্কর’ বন্ধু ছিলেন। দুজনের বাড়ি টিলাগড়ে। টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের যে গ্রুপ গড়ে উঠেছে, তাঁর নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরা দু’জন মিলে।

একসাথে তাঁরা ছাত্ররাজনীতিও করেছেন। তবে সাম্প্রতিককালে এই দুই বন্ধর মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব। আর এই দুই দ্বন্দ্বে প্রাণ হারাচ্ছে একের পর এক সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মী।

এরা দুজন হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রনজিত সরকার। জানা গেছে, একসময় হাতে হাত রেখেই টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন আজাদ-রণজিত।

তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বাবলা চৌধুরী ও যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের গ্রুপ। এর বাইরেও ক্যাম্পাসভিত্তিক একটি গ্রুপ টিলাগড়ের বাইরে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশীর্বাদ নিয়ে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছিল। ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় একক আধিপত্য ছিল রণজিত-আজাদ গ্রুপের।

কিন্তু টিলাগড় এলাকার আরেক বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমানের আশীর্বাদ পেয়ে আসাদ-বাবলা গ্রুপও চাঙা হয়ে ওঠে। তবে তারা সে অবস্থা ধরে রাখতে পারেনি। কর্মীদের মধ্যে বিরোধের জেরে একসময় দুর্বল হয়ে আসে বাবলা-আসাদ গ্রুপ।

একক নেতৃত্ব পেয়ে আলাদা দুটি বলয় গড়ে ওঠে আজাদ ও রণজিতের। নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন এ দুগ্রুপের নেতারা। বাইরে এ দুই নেতা আন্তরিকতা দেখালেও মূলত প্রভাব ধরে রাখতেই এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে একের পর এক সংঘর্ষে জড়ায় বিবদমান গ্রুপ দুটি। এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে গত চার মাসে টিলাগড় এলাকায় খুন হয়েছেন তিন ছাত্রলীগকর্মী।

সর্বশেষ রবিবার রাতে খুন হন তানিম খান। নগরীর টিলাগড় এলাকায় তাকে খুন করে ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপ। সতীর্থ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আজাদুর রহমান আজাদের নির্দেশে তানিম খুন হয়েছে। খুনের ঘটনায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মধ্যে আজাদুর রহমানের ভাতিজাও আছেন বলে তারা দাবি করেন।

তানিম হত্যার পর ছাত্রলীগের একটি পক্ষ আজাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতি আর এমসি কলেজে প্রভাব বিস্তার করতেই আজাদুর রহমান আজাদের নির্দেশে এসব খুনের ঘটনা ঘটছে। সাবেক এ দুই ছাত্রনেতার দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত টিলাগড় এলাকায় অবস্থিত দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমসি কলেজ ও সরকারি কলেজ। তাদের মিত্রতা ও শত্রুতা নিয়ন্ত্রণ করে কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিকে।

এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে এ নেতারা ব্যবহার করছেন ছাত্রলীগকে। গত কয়েক বছরে আজাদ-রণজিত দ্বন্দ্বই পরিচয় হয়ে উঠেছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ ছাত্রলীগের। কলেজ ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চলছে অপরাধচর্চা। নিজ সংগঠনের কর্মীকে খুন ও পঙ্গু করে দেওয়ার মতো অভিযোগ তো আছেই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কথায় কথায় অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগও আছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

তাদের কারণে অন্তত দুদফা বাতিল করতে হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। এসব ঘটনায় দুয়েকটি মামলা হলেও আসল হোতারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। বিচার প্রলম্বিত করে কৌশলে বাকিদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, টিলাগড় এলাকায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে অস্থির স্থানীয় বাসিন্দারাও।

নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন তারা। গত ৪ জানুয়ারি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান তারা। এদিকে একের পর এক হত্যাকান্ড হলেও বিচার হয়নি একটিরও। ২০১০ সালে পলাশ হত্যাকাণ্ডের বিচার না পেয়ে আজও হতাশ তার পরিবার।

এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এমএ ওয়াহাব বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে। আমরা দোষিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকি। বাকিটা আদালতের ব্যাপার। অস্ত্রধারীদের ছবি প্রকাশ হলেও তাদের আটক করা হচ্ছে না কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

(Visited 8 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here