গোলাপগঞ্জে ১২ মাসে ১৩ খুন

0
228

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গত এক বছরে ঘটেছে ১৩টি লোমহর্ষক খুনের ঘটনা।

এসব ঘটনার পর উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। মা-বাবার হাতে প্রতিবন্ধী শিশু খুন, ছেলের হাতে মা খুন, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, দেবরের হাতে ভাবি খুন, মাদ্রাসা ছাত্র হত্যা, সিএনজি অটোরিকশা চালক হত্যা, তরুণ ব্যবসায়ী দিপু হত্যার ঘটনা অন্যতম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারি মাসে দেবরের হাতে পরকীয়ার বলী হন জনি রানী দাস নামে এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি নিহত গৃহবধূর পিতা সজল কান্তি দাস গোলাপগঞ্জ থানায় রঙ্গেস দে ও শিল্পী রানী দেবকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পৌর শহরের মৌলভীরপুল নামক এলাকায় ডাকাতের হামলায় ব্যবসায়ী জুনেদ আহমদের মা নাজমা বেগম (৬৫) মৃত্যুবরণ করেন। একইভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার পৌর এলাকার কদমতলীর একটি বাসায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুশফিকুর রহমান লুকুছ (৬০) ডাকাত চক্রের দেয়া খাবারের সঙ্গে মেশানো বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলার লক্ষণাবন্দে মাজহারুল ইসলাম দিলু মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে পপি বেগম (১৭) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করে। আপন খালাতো ভাই লিটনকে বিয়ে না করতে পারায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে।

১১ মার্চ উপজেলার ভাদেশ্বরের পূর্বভাগ নায়াগ্রাম এলাকার হারিছ আলীর ছেলে ভারসাম্যহীন তারেক আহমদ রহস্যজনকভাবে খুন হন। মৃত্যুর পর তার আপন ভাই সাদেক আহমদ ও ছালেহ আহমদসহ পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ওই সময়ই নিহত তারেক আহমদের দুই সহোদর সাদেক আহমদ (৩৫) ও ছালেহ আহমদকে (৩০) আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। ১২ এপ্রিল মাদকাসক্ত ছেলে রুবেল আহমদ (২৫) তার আপন মা হাওয়ারুন্নেছাকে (৭৫) ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

২৩ জুন উপজেলার শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের রাস্তার পাশে ইমাম হোসনকে পূর্বশত্রুতার জেরে নৃশংসভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নরুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ২৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

৫ আগস্ট উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে গৃহকর্তা কামরুল ইসলাম (২০) শিশু গৃহকর্মী খাদিজা বেগমকে (১০) শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। ১ সেপ্টেম্বর রাতে খুন হন উপজেলার ফুলবাড়ি আজিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী, লক্ষ্মীপাশা কোনাচর গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে নূরুল আলম (১৭)।

ঈদের দিন সকালে স্থানীয় জনতা খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় কোনাচর দিঘিরপার গ্রামের কাশেম আহমদ (৩০) নামের যুবককে। ২ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে খুন হন উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউপির নিমাদল গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের স্ত্রী পারভীন বেগম (২০)। সুত্র:- যুগান্তর

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here