যতই উপাধি পাই বেতালা হবো না : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

0
169

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাকে নিয়ে বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন হাজার বিশেষণ দিলেও আমার মাথা কখনও খারাপ হবে না।

আমি বেতালা হবো না এটা আমি বলে দিতে পারি। ওগুলো আমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। আমার চিন্তা একটাই দেশের মানুষ ভালো থাকুক।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম তার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। ফখরুল ইমাম তার সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, সেন্টার ফর লিডারশিপ, ২০১৭ তারা মানবতার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম প্রকাশ করেছে।

এখানে দ্বিতীয় হয়েছে ফ্রান্সিস পোপ আর তৃতীয় ধনকুবের বিল গেটস। তিনি দাবি করেন- সেন্টার ফর লিডারশিপ উল্লেখ করে সেবার জন্য শুধু টাকা নয়, প্রয়োজন সাহস ও মমত্ববোধ। যা শেখ হাসিনার মধ্যে রয়েছে। প্রশ্নকর্তা শেখ হাসিনাকে বিদেশের কে কখন কী উপাধি দিয়েছে তা সংসদে তুলে ধরেন।

এরপর তিনি বলেন, এতগুলো সম্মানসূচক কথা বলার পরে আমার তো মাথা ঠিক থাকতো না। এরপরই কি রামপাল বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে? এর জবাব দিতে গিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি উনার কথা দিয়ে এত আলো জ্বালাবার পর হঠাৎ সুইচটা অফ করে দিলেন কেন? (এ সময় হাস্য কলবর আর টেবিল চাপড়িয়ে সংসদের ফ্লোর মাতিয়ে তুলেন এমপিরা)।

শেখ হাসিনা বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজন তো বিদ্যুতের জন্য। দেশের জন্য। উন্নয়নের জন্য। দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য। তাদের জিজ্ঞাসা করে দেখেন বিদ্যুতে প্রয়োজন আছে কি-না। আমি এটুকুই বলতে চাই কী পাইনি তার হিসাব মিলাতে মন মোর নাহি রাজি। কী পেলাম, পেলাম না সেই হিসাব করি না।

আমি কাজ করি দেশের মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য। আমার দায়বদ্ধতা হচ্ছে ক্ষুধার্ত দারিদ্র্য মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। তিনি বলেন, যে যত বিশেষণ দিক আমার ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। আমি শুধু একটা চিন্তাই করি আমার মানুষ খেতে পারছে কি-না। চিকিৎসা পাচ্ছে কি-না।

প্রতিটি মানুষের ঘর আছে কি-না। আমি উচ্চবিত্তদের জন্য চিন্তা করি না। আমি তৃণমূলের মানুষদের চিন্তা করি। তিনি আরও বলেন, দেশে এমনই এক শ্রেণি আছে যারাভাবে আমি থাকলেই তাদের যত সমস্যা। আমাকে অনেকবার হত্যার পরিকল্পনা করা হলেও তবুও আমি মরি না। আল্লাহ কীভাবে জানি আমাকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসেন। মরতে তো একদিন হবেই।

সেটা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। ‘জন্মিলে মরিতে হবে/ অমর কে কোথা কবে/ চিরস্থায়ী কবে নীড়/ হায়রে জীবন নদী/।’ তাই কে কত বিশেষণ দিলে সেটা নিয়েও আমার কোনো চিন্তা নাই। আমি তো মনে করি একমুখে যখন বিশেষণও দিবে, আবার যদি একটু উনিশ থেকে বিশ হয় ওই মুখে গালিও দিবে। যে হাতে মালা দিবে সেই হাতে ঢিলও মারবে।

কাজেই হাজার বিশেষণ দিলেও আমার মাথা কখনও খারাপ হবে না।আমি বেতালা হব না এটা আমি বলে দিতে পারি। ওগুলো আমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। আমার চিন্তা একটায় দেশের মানুষ ভালো থাকুক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে আরেকটি শ্রেণির মানুষ আছে।

সমস্যাটা তাদের নিয়ে। গণতন্ত্রের ধারা চললে তাদের কিছুই ভালো লাগে না। যখন উন্নয়নের পথে দেশ এগিয়ে যায়, তারা উন্নয়নটা চোখে দেখে না। এরা চক্ষু থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধির। তাদের মাথায় একটা চিন্তায় থাকে- দেশে যদি অস্বাভাবিক সরকার থাকে, অসাংবিধানিক সরকার যদি আসে তারা মনে করে তাদের একটু গুরুত্ব বাড়ে।

কারণ তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে। পতাকা পাওয়ার ইচ্ছা আছে। তাদের গবেষণায় বাংলাদেশের কোনো উন্নয়নই চোখে পড়ে না। এ শ্রেণিটায় সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক। মানুষের অকল্যাণ করার জন্যই তারা সবচেয়ে ব্যস্ত।

পরবর্তী বাজেটের সময় এমপিওভুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত:- নজিবুল হক মাইজভান্ডারির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত নয় শিক্ষা যেন মানসম্মত হয় তার ব্যবস্থা করছি। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন সময় একেকজন একেক দাবি নিয়ে চলে আসছেন। আমরা তাদের আশ্বস্ত করছি। কিন্তু ওটা করতে গেলে বাজেটে কত টাকা আছে সেটা দেখতে হবে। কোন কোন স্কুল পাওয়া যোগ্য, ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কত। যেমন আমার কাছে একজন এল সেটা স্পিকার আপনার নির্বাচনী এলাকার।

সেই সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার শ্বশুরবাড়ি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, এখানে ঘাপলা হচ্ছে মাত্র দেড়শ’ ছাত্র-ছাত্রী। তারা এসেছেন সরকারিকরণের প্রস্তাব নিয়ে। সোজা কথা তারা আমারই আত্মীয়। তাই আমি বলে দিলাম যেখানে দেড়শ’ শিক্ষার্থী এটা আমরা কীভাবে সরকারিকরণ করব?

আত্মীয় এসে বললেই তো আমি করতে পারব না। যদিও আমি সেখানে নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলাম। কিন্তু একটা যৌক্তিকতা তো থাকতে হবে। আমার আত্মীয় হওয়ায় উনি আমার কাছে নিয়ে এলেন আর আমি সরকারিকরণ করে দিলাম এত বড় অন্যায় তো আমি করব না। তিনি আরও বলেন, একটা স্কুলে কত শিক্ষার্থী আছে। স্কুলের মান কি, শিক্ষক হিসেবে কি পর্যায়ে শিক্ষা দিচ্ছেন এগেুলো সব বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা গ্রহণ করেই কিন্তু সরকারি বা এমপিওভুক্তি আমরা করছি।

বাজেটের টাকা জনগণের টাকা। বাজেটের টাকা হেলাফেলা করে ফেলা দেয়ার জন্য না। এটা যেন যথাযথাভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হয় সেটাই আমরা চাই। সেজন্য কোন কোন স্কুল সরকারিকরণ ও এমপিওভুক্তি হয় সেটা নীতিমালা ভিত্তিতে করছি। এ ব্যাপারে পরবর্তী বাজেট আসলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here