শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সাড়ে ৪ কোটি টাকার বাড়ি

0
728

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: রাজধানীর বছিলা রোডে সাত তলা বাড়ি বানাচ্ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন।

পশ্চিম ধানমন্ডির বি ব্লকের ৪ নং রোডের ২৬ নম্বর প্লটে নির্মাণাধীন বাড়িটিই তার। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্মাণাধীন এই বাড়িটি এখন যে অবস্থায় আছে জমিসহ সেটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা।

বাড়িটি সম্পন্ন করতে আরও লাগবে অন্তত ১ কোটি টাকা। বছিলা রোডের ওই বাড়িটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটি দুটি ইউনিটের। প্রতি ইউনিটে দুটি বেডরুম, একটি ডাইনিং রুম, দুটি বাথরুম এবং দুটি বারান্দা রয়েছে। সিঁড়িসহ লিফটের পজিশনও রয়েছে। একদম নিচতলায় গ্যারেজের জন্য জায়গা রাখা হয়েছে।

শুধুমাত্র দোতলায় দুটি ইউনিট সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি তলাগুলো খালি পড়ে আছে। কক্ষের দেয়াল তোলাসহ বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। মোতালেব হোসেনের প্লটটির উত্তর পাশেই বাস করেন একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আতাউল্লাহ। জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মোতালেব হোসেনের এই বাড়িটি ৩ কাঠা জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে।

২০০৪ সালে মোতালেব হোসেন ৩ কাঠা জমি কিনেছিলেন ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। তখন প্রতি কাঠা জমির দাম ছিল ৯০ হাজার টাকা। মোতালেব হোসেন, জামাল উদ্দিন এবং এক মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আতাউল্লাহসহ আরও কয়েকজন মিলে একই দাগে সর্বমোট জমি কিনেছিলেন ১৫ কাঠা।

এর মধ্যে মোতালেব হোসেন কিনেছিলেন ৩ কাঠা, আতাউল্লাহ ৪ কাঠা, জামাল উদ্দিনের ৪ কাঠা এবং বাকিরা মিলে আরও ৪ কাঠা জমি কিনেছিলেন। আতাউল্লাহ বলেন, ‘মোতালেব হোসেনের বাড়িটিতে ৭ তলা ফাউন্ডেশন দেওয়া হয়েছে। তিনি বাড়িটির নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন অন্তত এক বছর আগে।

বাড়িটিতে ইতোমধ্যে আনুমানিক খরচ হয়েছে দেড় কোটি টাকা। আরও অন্তত এক কোটি টাকা খরচ করতে হবে বাড়িটি সম্পন্ন করতে। স্থানীয়রা জানান, এই এলাকার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতিকাঠা জমি ৬০ লাখ টাকা। সে হিসেবে মোতালেবের ৩ কাঠা জমির দাম বর্তমানে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, মোতালেব প্রায়ই বাড়িটিতে আসতেন। নির্মাণকাজের খোঁজখবর নিতেন। তিনি কখনও প্রাইভেট কারে, কখনও রিকশায় চড়ে আসতেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে জানা গেছে, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে ১০ম গ্রেডে সরকারি বেতন পেতেন শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন।

তার মূলবেতন ২৮ হাজার ১০০ টাকা। বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে কেটে নেওয়ার পর বর্তমানে মাসে মোট ১৩ হাজার ৮৮ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। তার ব্যাংক লোন আছে ৬ লাখ টাকা। এ কারণে তার এমন কোটি টাকার ভবন নির্মাণ বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মোতালেব হোসেনের এত সম্পদের পেছনে বড় ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু তিনি সরকারি কর্মকর্তা, সেহেতু তার সম্পদের বিষয়ে ভালো করে তদন্ত করতে হবে। মন্ত্রণালয়কেই এ বিষয়ে কাজ করতে হবে। তাছাড়া একজন দুর্নীতিবাজ কখনোই এককভাবে দুর্নীতি করতে পারে না। তার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারে। এটা তদন্ত করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

(Visited 11 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here