সিলেটে শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রেমের সমাপ্তি হলো হত্যা আর আত্নহত্যায়

0
2173

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেটে শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রেমে অবশেষে ফুটানো হলো না ফুল। হত্যা আর আত্নহত্যাতেই সমাপ্তি ঘটলো সেই প্রেমের।

শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রেমেরে সেই সমাপ্তির স্থান হলো সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার মেহেরপুর আবাসিক হোটেল। তারা হোটেলের দ্বিতীয় তলার ২০৬ নং কক্ষ থেকে লাশ হয়ে বের হলেন।

রোববার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ হোটেলের দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় পুরুষের আর বিছানার ওপর থেকে মহিলার লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতরা হলেন, সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট উজানীনগরের মিলন পালের মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা রুমি পাল (২৫)। আর ছেলে মিন্টু দেব (২৮) হলো একই উপজেলার জগন্নাথবাড়ি গ্রামের মতিলাল দেবের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের ম্যানেজার আব্দুল ওয়াদুদকে আটক করা হয়েছে।

জানা যায়- দীর্ঘদিন থেকে স্কুল শিক্ষিকা রুমি পালের সাথে জগন্নাথপুরের মিন্টু দেবের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বিষয়টি উভয় পরিবারের মধ্যে জানা থাকলেও বিয়েতে কেউ রাজি হচ্ছেন না। যার কারণে প্রায় সময়ই তারা সিলেটের বিভিন্ন স্থানে কাজের কথা বলে ঘুরে বেড়াতেন। রোববার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রুমি পাল ও মিন্টু দাস হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে।

ওই সময়ে হোটেলের দায়িত্বে ছিলেন ম্যানেজার আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি তাদের কাছ থেকে কোন ধরণের পরিচয়পত্র না রেখে হোটেলের কক্ষটি ভাড়া দেন। জানা যায়, হোটেলে ওঠার পর সন্ধ্যার দিকে স্কুল শিক্ষিকা রুমি পাল তাঁর দুলাভাইয়ের মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ পাঠায়।

তাতে সে উল্লেখ করে, হোটেলে মেহেরপুরের ২০৬ নাম্বার কক্ষে আমরা আছি। আমরা আত্মহত্যা করছি…। মেসেজটি পেয়ে দুলাভাই দ্রুত হোটেল মেহেরপুরে হাজির হন। তিনি হোটেলে এসে কর্তৃপক্ষকে রুমটি খোলার কথা বলেন। তখন তারা বলে রুমে তো মুসলিম দম্পতি রয়েছেন।

এভাবে রুমে ডাকা নিয়মের মধ্যে পড়েনা। পরে তিনি মোবাইল ফোনের মেসেজ দেখালে হোটেলের ম্যানেজার পুলিশকে বিষয়টি খবর দেন। এরপর রুমে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া মেলেনি। একপর্যায়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ফেলে। তখন রুমের ভিতরে মিন্টু দেবের মরদেহ রুমী পালের ওড়না দিয়ে ঝুলানো ছিলো।

আর রুমী পালের মরদেহ বিছানাতে ডান দিকে মুখ করে শোয়ানো ছিলো। সিলেট মহানগর পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলেন- পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে মিন্টু দেব রুমি পালকে হত্যা করার পর মিন্টু গলায় রশি বেঁধে আত্মহত্যা করেছে। রুমি পালের শরীরের আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ রুমি পালের লাশ বিছানার ওপর থেকে উদ্ধার করে। সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন বলেন- প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে রুমি পালকে হত্যা করার পর মিন্টু নামের ওই লোক গলায় রশি বেঁধে আত্মহত্যা করেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ হোটেলের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় আনা হয়েছে। আর তাদের দুজনের লাশ পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

(Visited 9 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here