হাজারো কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ফেরারি সিলেটের ক্রাশার মিল ব্যবসায়ীরা

0
600

সিলেটের সংবাদ ডটকম: ঐতিহ্য হারিয়ে পথে বসতে শুরু করেছেন সিলেটের পাথর ব্যবসায়ীরা।

হাজারো কোটি টাকার ব্যাংক ঋণের বুঝা মাথায় নিয়ে ফেরারি হয়ে ঘুরছেন অনেক পাথর ব্যবসায়ী ও ক্রাশার মিল মালিক। লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এর একমাত্র কারণ হলো সম্প্রতি দেশে চালু হওয়া ওভারলোডিং ব্যবস্থা। এ ওভারলোডিংয়ের কারনে গাড়ির যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অন্যান্য জেলার লোকজন এখন সিলেট থেকে পাথর ক্রয় করছেন না।

ফলে বিপাকে পড়েছেন সিলেটের পাথর ব্যবসায়ী ও ক্রাশার মিল মালিক-শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার এমন অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক মোঃ রাহাত আনোয়ারের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সিলেট বিভাগ ক্রাশার মিল মালিক ও পাথর ব্যবসায়ী পরিবহণ মালিক/শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, দেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারী হলো সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ, গোয়াইনঘাটের জাফলং, লোভাছড়া ও বিছানাকান্দির পাথরগুলো গুণগত মান দেশ সেরা। স্থানীয় প্রশাসন এসব পাথর কোয়ারি থেকে নিয়মিত আদায় করছেন রয়ালটি।

ফলে সরকার প্রতি বছর পাচ্ছেন অর্ধশত কোটি টাকার মতো রাজস্ব। সিলেটের পাথর দিয়ে বর্তমানে তৈরী হচ্ছে পদ্মা সেতু’সহ সরকারী বিভিন্ন বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প। অতীতেও ঐসব এলাকার পাথর লেগেছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজে। ফলে সিলেটের পাথর ক্রয়ে ক্রেতারা আগ্রহী।

পাথর ব্যবসায়ীরা আরো উল্লেখ করেন, পাথর কোয়ারীগুলোর সাথে জড়িত ব্যবসায়ী, ক্রাশার মিল মালিক ও শ্রমিকরা পথে বসতে শুরু করেছেন। সবার মাঝে নেমে এসেছে হতাশা। বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক লক্ষাধিক মালিক-শ্রমিক। বিশেষ করে ক্রাশার মিল মালিকরা প্রায় হাজার কোটি টাকার অধিক ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সেই টাকাগুলো পরিশোধ করতে পারছেন না।

ফলে আটকে পড়েছে ব্যাংকগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকা। এমন অবস্থার কারণ উল্লেক করে ব্যবসায়ীরা জানান, ট্রাক গাড়িতে ওভারলোডের পরিমাণ কম করে নির্ধারণ করায় মালামালের ভাড়া অধিক ও তার বেশি হারে বেড়ে গিয়েছে। যার ফলে সিলেট থেকে পাথর নেওয়া একটি নির্মাধানীন প্রতিষ্টানের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বহুল হয়ে দাড়িয়েছে।

কারণ অতীতে যে পাথর ঢাকা জেলায় ট্রাক ভাড়া’সহ প্রতি ফুট ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রয় করা হতো, সেই পাথর এখন প্রতি ফুট ২০৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ বিদেশী পাথর প্রতি ফুট ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে।

তাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বিশেষ বিবেচনায় ৬ চাকার ট্রাকগাড়ি ওজন’সহ ৩২ টন ও ১০ চাকার ট্রাক গাড়ির ওজন’সহ ৪২ টন করে ওভারলোডের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী’সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আরো বলেন, ওভারলোড চালু করার আগে পাথর ব্যবসায়ী ও ক্রাশার মিল মালিকদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ কিংবা পরামর্শ রহস্যজনক কারনে গ্রহণ করা হয়নি। অথচ ভারত, ভিয়েতনাম, চীন ও ওমান থেকে নৌ পথে এলসির মাধ্যমে যে পাথর এনে অল্প মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে তার গুনগত মান অত্যান্ত নি¤œমুখী।

সেই পাথর দিয়ে উন্নয়ন কাজ করার কিছুদিন পর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিচ্ছে ফাটলসহ নানা দূর্ঘটনা। তাই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, জাফলং, লোভাছড়া ও বিছনাকান্দি কোয়ারীর পাথর ধ্বংস করতে পরিকল্পীত ভাবে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করা হচ্ছে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট বিভাগ ক্রাশার মালিক ও পাথর ব্যবসায়ী পরিবহণ মালিক/শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডাক্তার আব্দুন নুর, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ট্রাক মালিক, পিকআপ এবং কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি সভাপতি সৈয়দ মকসুদ আহমদ, ধোপাগুল স্টোন ক্রাশার মিল মালিক ও পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী নাসির উদ্দিন, সৈয়দ সালেহ আহমদ শাহনাজ, হাজী শাইস্তা মিয়া, হাজী শানুর মিয়া, আব্দুল কাদির, মোঃ আজির মিয়া, মসরফ আলী, নুরুল আমীন, মোঃ মঈন উদ্দিন, আবু ইউসুফ বাবু, আব্দুল আহাদ, আব্দুল হক, মোঃ মোর্শেদ, মোজাম্মেল আলম সাদ্দাম, তুহিন চকদার, নিজাম উদ্দিন, মোঃ শাহাদত হোসেন, নুরুল আলম মাসুম, মোঃ ফরহাদ, মোঃ মনসুর, কাজী ফরহাদ, এখলাছুর রহমান, মঈনুল ইসলাম প্রমূখ।

(Visited 10 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here