গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা গিলে খাচ্ছে বাড়ি ঘর, কাঁদছে মানুষ

0
189

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: কুশিয়ারা নদীর গর্ভে বিলিন হচ্ছেই গোলাপগঞ্জের বুধবারী বাজার, বাদেপাশা ও ঢাকাদক্ষিণ শরীফগঞ্জ ইউপি এবং বিয়ানীবাজার থানার গড়রবন্দ এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘর রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারসহ নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি অঞ্চল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন একেবারে উদাসীন।

এ যেন দেখার কেউ নেই। বিশেষ করে উপজেলার কুশিয়ারা নদীর কাছাকাছি বুধবারীবাজার ইউনিয়ন, ঢাকাদক্ষিণ, বাদেপাশা ও শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের শত শত গ্রামের হাজার হাজার পরিবারের ঘর-বাড়ি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চলাচলের রাস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে।

নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষজন মানবেতর হুমকীর মুখে জীবন-যাপন করছেন। কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গণ রোধকল্পে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ ও জন প্রতিনিধিগণ এগিয়ে না আসেন তবে ঐসব এলাকা ধীরে ধীরে নদীর পানির সাথে মিশে একাকার হয়ে যাবে। স্থানীয়রা নিজেদের বসতভিটা হাট বাজার রাস্তা সাময়িকভাবে রক্ষায় পদক্ষেপ নিলেও কতৃপক্ষের উদাসীনতায় ভাঙ্গন ঠেকানো যাচ্ছেনা।

বুধবারী বাজার ইউপির বৃহত্তর চন্দরপুরের অধিকাংশ বাড়ীঘর, রাস্তা, চন্দরপুর বাজারের একাংশ ও চন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ। মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে চন্দরপুর বাজার, বাজারের মসজিদ, আল উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, লামা চন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহু ঘরবাড়ী।

এখনই নদী ভাঙ্গনরোধে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে অবলীলায় ধ্বংস হয়ে যাবে অবশিষ্ট বাজার, চন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, লামা চন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়, বাজার মসজিদ, বাজার থেকে কালিয়াডহরের রাস্তা, লামা চন্দরপুরের বহু ঘরবাড়ী ও রাস্তা এবং চন্দরপুরের বহু ঘরবাড়ী ও রাস্তা। চন্দরপুর, লামা চন্দরপুর সহ বৃহত্তর চন্দরপুরের নদী ভাঙ্গনের জন্য মূল কারন হিসেবে রয়েছে নদীর বৃহৎ U আকৃতির লোপ (মোড়)।

যা কুশিয়ারার উৎসস্থল জকিগঞ্জ হইতে শেষ প্রান্ত মার্কূলী পর্যন্ত আর কোথায়ও নাই। সরেজমিন তথ্যে জানা যায়, ঢাকাদক্ষিন ইউপি’র ইসলামপুর গ্রামে শতাধিকের উপর পরিবারের বসবাস তারা সকলেই নদীভাঙ্গনের হুমকির স্বীকার তার মধ্যে প্রায় ১০/১৫ পরিবারের ঘরবাড়ীসহ চলাচলের রাস্তা নদীতে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে, ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পথে গ্রামের জামে মসজিদ ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পানি আগা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং বিয়ানীবাজার থানার গড়রবন্দ এলাকা। বাদেপাশা ইউপি’র আমকোনা গ্রামের হযরত আহমদ শাহ ও ফেছাই শাহ (রঃ) এর মাজারটি ও আমকোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী ভাঙ্গনের স্বীকার। মাজারের পার্শ্ববর্তী মোকামের খাদিম হাজী আর্জমন্দ আলীর অর্ধেকের বেশী বাড়ী-ঘর নদী গর্ভে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। তাই নয়!

ঐ গ্রামের প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গনের স্বীকার বলে জানালেন গ্রামের বাসিন্দা আছিরগঞ্জ বাজারের দোকান ব্যবসায়ী জামিল আহমদ ও বৃদ্ধ হাজী আকদ্দস আলী। তারা এহেন দূর্গতি থেকে মুক্তি চায়। চন্দরপুর গ্রামের আওলাদ হোসেন তার ৮ সদস্যের পরিবার নিয়ে নদী পাড়ে জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে বসবাস করছেন।সেই সংগ্রামের পর থেকে এ নদী ভাঙ্গন অবস্থা তবে ৫/৮ বছর থেকে অতিরিক্ত নদী ভাঙ্গনের স্বীকার তিনি।

আর মাত্র ক’দিন গেলে পরে সম্পূর্ণ বাড়ি নদীতে তলিয়ে যাবে। অন্যত্র সরে যাওয়ার কোন সামর্থ্যও নেই তার। এমনি দূরাবস্থার স্বীকার তার পার্শ্ববর্তী মোঃ ইমাম হোসেন, সারিফুল, তাহির উদ্দীন, ফইজ উদ্দীন, ডাঃ মোঃ আজির উদ্দীন, উদ্দীন ও দুলাল আহমদের পরিবার সহ প্রায় ৫০টি পরিবার রাক্ষুসে কুশিয়ারার ভাঙ্গনের স্বীকার।

৬ষ্ট শেণীর মোছাঃ তাহমিনা বেগম, আঁখী বেগম, চামেলী আক্তার, মোঃ নাসিম আহমদ, ৮ম শ্রেণীর সুমাইয়া বেগম ১০ম শ্রেণীর আবু সুফিয়ান সহ অনেক স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা তাদের এ নদী ভাঙ্গনের কঠোর কষ্টের কথা ব্যাক্ত করে বলে আমরা নদীতে ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়া বিদ্যালয়ে আসতে হয়।

আল এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া চন্দরপুর গ্রামের মোছাঃ মাছুমা বেগম বলেন আমরা কিলা লেখা পড়া খরতাম গিয়া স্কুলে নদীয়ে সারা বাড়ী, ঘর ভাঙ্গিয়া লইয়া যারগি। আমরা ইতা অবস্থা থাকি মুক্তি চাই। চন্দরপুর গ্রামের মোঃ শামসুল আলম কবু বলেন আমার ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত দেখেই আসছি এ নদী ভাঙ্গন অবস্থা কিন্তু ভাঙ্গনরোধে আজ পর্যন্ত কেউ কোন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়নি বলে তিনি জানান।

শুধু তাই নয় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ একর জায়গা নদী ভাঙ্গনে নিয়ে গেছে শতাধিক পরিবার এখনো নদী ভাঙ্গনে হুমকিস্বরুপ বসবাস করছেন। চন্দরপুর গ্রামের মোঃ শামসুল আলম কবু বলেন আমার ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত দেখেই আসছি এ নদী ভাঙ্গন অবস্থা কিন্তু ভাঙ্গনরোধে আজ পর্যন্ত কেউ কোন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়নি বলে তিনি জানান।

শুধু তাই নয় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ একর জায়গা নদী ভাঙ্গনে নিয়ে গেছে শতাধিক পরিবার এখনো নদী ভাঙ্গনে হুমকিস্বরুপ বসবাস করছেন। চন্দরপুর গ্রামের মোঃ শামসুল আলম কবু বলেন আমার ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত দেখেই আসছি এ নদী ভাঙ্গন অবস্থা কিন্তু ভাঙ্গনরোধে আজ পর্যন্ত কেউ কোন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়নি বলে তিনি জানান।

শুধু তাই নয় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ একর জায়গা নদী ভাঙ্গনে নিয়ে গেছে শতাধিক পরিবার এখনো নদী ভাঙ্গনে হুমকিস্বরুপ বসবাস করছেন। লামা চন্দরপুর গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন সেই স্বাধীনতার পর থেকেই আজ অবধি কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গনের স্বীকার আমার পরিবার সহ গ্রামের নদী পাড়ের মানুষ।

বর্তমানে আমার বাড়ী ঘর সহ আশপাশের পুকুর পাড় গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সকাল বেলায় হঠাৎ করে নদী ভাঙ্গনে তলিয়ে নিয়ে গেছে। তিনি প্রতিবেদককে জানান, আমাদের এমন দূরবস্থা দেখবে কে? আমরা সবাই নদী ভাঙ্গনের সাথে জীবন-মরণাপন্ন অবস্থায় যুদ্ধ করে বেচেঁ আছি।

ঘুমের মধ্যে কখন জানি নদীতে তলিয়ে নিয়ে যায় যায় অবস্থা।এমন অবস্থার একই রকম কথা ও জানালেন ঐ গ্রামের মোঃ মঞ্জুর রশীদ খাঁন। নদী ভাঙ্গনের যন্ত্রনার কষ্ট বুকে নিয়ে এ কথা জানালেন ঐ গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম উদ্দীন।

নদী ভাঙ্গনের অসহনীয় কষ্টের স্বীকার তারা হচ্ছে মোঃ সফিক উদ্দীন, রস্তুম আলী,লেইছ মিয়া, মানিক মিয়া, আবুল হোসেন,ছালেহ আহমদ, মোঃআনহার, আব্দুর রহমান, রহীম উদ্দীন, তাজ উদ্দীন, আজমত আলী, আব্দুল কাদির, রেনু মিয়া, রকিব আলী, আলাউদ্দীন, আরব আলী, মৃত মোশাররফ আলীর পরিবার ও দুদুমিয়া সকলেই।

এদিকে বুধবারীবাজার ইউপি’র লামাচন্দরপুর ও বৈঠাখাই অংশের মধ্যবর্তী আছিরগঞ্জ বাজারের পাশে প্রায় ১ একর জায়গা পরিমান কয়েক বছর থেকে ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদী এখনো ভাঙ্গা অবস্থা বিদ্যমান আছে। ফলে গ্রামের লোকজন হুমকিস্বরুপ বসবাস করছেন।

ঐ গ্রামের আব্দুল খালিক,আব্দুস সত্তার, এনু মিয়া , পাকী মেম্বার, মোঃ রুবেল, করিম, লতিফ মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল মন্নান, জিবার উদ্দীন, শাহান উদ্দীন, জসিম উদ্দীন সহ প্রায় শতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গনের দূর্গতিতে পতিত।

নদী ভাঙ্গনের করুণ দূর্গতির স্বীকার চন্দরপুর গ্রামের এমন কয়েক পরিবারের ব্যাক্তিদের নাম তারা হচ্ছেন স্বপন মিয়া, জড়াই মিয়য়া, হোসেন আহমদ, মস্তফা উদ্দীন, গিয়াস উদ্দীন, সুজেল, উনু মিয়া, সুমন আহমদ, আজির উদ্দীন, ফখরুল ইসলাম, খবু মিয়া, তেদন আলী, মসই মিয়া, ফয়জুল হক সহ শতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গনের সাথে সংগ্রাম করে বসবাস করছেন।

এদের ঘরবাড়ী অচিরেই নদীতে ভেঙ্গে নিয়ে যেতে পারে বলে দুঃখা ভারাক্রান্ত মন নিয়ৈ কথা বললেন দোকানদার সুজেল মিয়া। এসব পরিবারে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে নিয়ে গেলে তাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। তথ্যসুত্রে উল্লেখ্য যে, ১৯৫৯ ইংরেজীতে তদানীন্তন সরকার চন্দরপুর, শেরপুর ও ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর লোপ কেটে নদীকে সুনব্য করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং যথাসময়ে শেষোক্ত দুইটি লোপ কাটা হলেও প্রথমটি অর্থ্যাৎ চন্দরপুরেরটি কোন রহস্যজনক কারনে আজও কাটা হয় নি।

অতঃপর ১৯৮৪ ইংরেজিতে লামা চন্দরপুরের বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম আব্দুর রব খাঁন উক্ত লোপ কাটার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবরে আবেদন জানান। তার আবেদন আমলে নিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর ভাঙ্গন রোধে লোপ কাটিং এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি পূর্বক জরিপ কার্য পরিচালনা করে প্রাক্কলন তৈরি করেছিল।

কিন্ত কোন রহস্যজনক কারনে ফের লোপ কাটিং এর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অথচ এই লোপ এর জন্যই নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ছে। এই লোপ কাটা হলে বন্ধ হয়ে যেতো নদী ভাঙ্গনের গতি। কিন্তু বারবার কোন এক রহস্যজনক কারনে বন্ধ হয়ে যায় লোপ কাটিং এর কাজ।

এভাবে চলছে দীর্ঘ কয়েকটি বছর। নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায় বহু ঘরবাড়ী, রাস্তা, মসজিদ, বাজারের একাংশ, দোকান, মোকাম ইত্যাদি। ২০০০ ইংরেজি সালে যখন গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার (সিলেট-৬) আসনের এমপি ছিলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। তখন তিনি নির্বাচনী এলাকায় নদী ভাঙ্গন রোধের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন প্রসঙ্গে ২৫.০৪.২০০০ইং তারিখে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করেন।

সেই প্রকল্পে চন্দরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নাম থাকলেও অন্যান্য এলাকায় নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে কাজ হয়েছে কিন্ত চন্দরপুরে কোন কাজ হয়নি। অথচ কালিয়াডহরের সো-মিল থেকে লামা চন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ম্যাপ অংকন করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে সিলেট-৬ এর গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার আসনের এমপি ছিলেন ডঃ মকবুল হোসেন।

তিনি ২৮ জুন ২০০৩ ইং তারিখে জাতীয় সংসদে জরুরী জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার থানার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ৫টি স্থানে ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীর প্রতি দাবি উত্থাপন করেন।

স্থানগুলো হচ্ছে গোলাপগঞ্জ থানার বাঘা ইউনিয়নের মাদ্রাসা ঘাট, গোলাপনগর পুরান মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী এলাকা, বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চন্দরপুর, শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পানি আগা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং বিয়ানীবাজার থানার গড়রবন্দ এলাকা। কিন্তু এত উদ্যোগ স্বত্বেও নদী ভাঙ্গন রোধে কাজ হয়নি।

(Visited 8 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here