সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে এখনও চলছে জুয়া

0
195

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে জমজমাট শিলং তীরের জুয়ার আসর এখনো বন্ধ হয়নি।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও রেলওয়ের জিআরপি থানা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিরব ভূমিকা পালন করছেন।

তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থান রেলওয়ে স্টেশনে প্রকাশ্যে জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কোন প্রকার প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

তবে প্রকাশ্যে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে থাকা এস আই নুর মোহাম্মদ তার অফিসের সামনে চালিয়ে যাচ্ছেন এ তীর খেলার রমরমা বাণিজ্য। আর তাতে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন জিআরপি পুলিশ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলওয়ে স্টেশনে তীর খেলার ভয়ংকর চিত্র।

অথচ বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে মন্ত্রনালয় স্টেশন ও সেখানকার যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত করে রেখেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা নামের দুটি বাহিনী। কিন্তু সেই দুটি বাহিনী কি করছেন নিরাপত্তার কাজ? সেই ব্যাপারে অনেক প্রশ্ন অসংখ্য যাত্রী’সহ সিলেটবাসীর।

গণতন্ত্রের মানষকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথের উন্নয়ন ও যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে রেলওয়ের নিরাপত্তার জন্য সরকারের ভূমিকা অপরিসীম। তাছাড়া আগামী ৩০ জানুয়ারী পূণ্যভুমি সিলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসছেন।

তাই সিলেট জুড়ে সকল প্রকার নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন দিয়ে যাচ্ছেন অধিক গুরুত্ব। তারা কাজ করে যাচ্ছেন আন্তরিকতার সাথে। সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসের সামনে চলছে জমজমাট শিলং তীরের জুয়ার আসর।

আর সেই আসরের পাশে রয়েছে জিআরপি থানা। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অফিস থেকে বের হলেই দেখছেন তীরের বোর্ড। সিলেটের সকল স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও রেলওয়ে স্টেশনে কেন প্রকাশ্যে শিলং তীরের জুয়ার বোর্ড চলছে?

এর কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয় এলাকাবাসী। সেখানকার তীরের ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলী (বাস টার্মিনাল) ফাঁড়ি পুলিশ অবগত রয়েছে বলে জানা গেছে। রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে প্রকাশ্যে শিলং তীরের জমজমাট জুয়ার আসর সম্পর্কে কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের।

বরং নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে থাকা এস আই নুর মোহাম্মদ নির্বিঘ্নে ও সাহসীকতার সাথে চালিয়ে যাচ্ছন ঐ তীরের জমজমাট আসর। একদিকে তিনি প্রতিদিন ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী থেকে অবৈধ ভাবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন!

অপর দিকে রেলওয়ে স্টেশনে তীরের বোর্ড বসিয়ে ইনকাম করছেন আরো হাজার কয়েক টাকা। ফলে কোটিপতির শীর্ষে চলে গেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে থাকা এস আই নুর মোহাম্মদ। যা দুদক’সহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্টান তদন্ত করলেই এর হিসাব বের হয়ে আসবে।

এ বিষয়ে প্রথমে নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে থাকা এস আই নুর মোহাম্মদের বক্তব্য মোবাইলে ফোনে জানতে চাইলে তিনি ক্ষেপে উঠেন। রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে হেটে হেটে তাঁকে তীরের বোর্ড দেখানোর নির্দেশ দেন। তাছাড়া তিনি প্রতিবেদককে তাঁর ক্ষমতা ও শক্তির ব্যাপারে হুমকি প্রদর্শন করে বলেন, তাঁর কাছে সাংবাদিকদের কোন টাইম নেই।

তীরের মতো পাথর উত্তোলন করছি, আরো করবো, তাতে তোমার কি আসে যায়। আমি উপরমহলকে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে চীফ ইন্সপেক্টরের (সিআই) দায়িত্ব পালন করছি। অপরদিকে একইভাবে ক্ষোভ ঝাড়লেন জিআরপি থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, আপনারা শুধু পুলিশের দোষ দেখেন, কিন্তু আমরা সাংবাদিকদের দোষ দেখেও না দেখার বাহানা করি।

এ ব্যাপারে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ কমান্ডেন্ট ইকবাল হোসেন বলেন, শিলং তীরের মতো অনৈতিক কাজের সাথে যারা সম্পৃক্ত, তাদের সবাইকে বেঁধে স্থানীয় থানায় সোপর্দ করুন। নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে থাকা এস আই নুর মোহাম্মদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক অফিসিয়ালি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুরমার ডাক ২৪ ডট কম

(Visited 10 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here