দ্বিতীয় মেয়াদেও রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন আবদুল হামিদ

0
236

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে সব মহলেই চলছে জোর আলোচনা।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয় মেয়াদে আবদুল হামিদকেই পছন্দ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের।

বিশ্বস্ততার জায়গা থেকে বিকল্প কাউকে ভাবছে না দলটি। বিষয়টি চূড়ান্ত বলেই মতপ্রকাশ করেছেন দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক।

ফলে স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করলেও রাষ্ট্রপতি পদের জন্য এটা করবে না আওয়ামী লীগ। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল ৫ ফেব্রুয়ারি। এদিন সকাল দশটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটা থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রপতি সরাসরি ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৩ এপ্রিল তার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্পিকার হিসেবে দু’বার দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত করে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। তবে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রার্থীদের কাছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হবে না।

আওয়ামী লীগের জাতীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের শেষের দিকে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষ পানি ঘোলা করার চেষ্টা করে। সে সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয় রাষ্ট্রপতিকে। তাই নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি নিয়ে বড় কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না আওয়ামী লীগ।

তারা মনে করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পরীক্ষিত। অনেক জাতীয় বিষয়ে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। রাজনৈতিক ও জাতীয়ভাবে তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা আছে। সব মতের নেতাদের কাছে প্রিয় ব্যক্তিও তিনি। গত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো কালিমা নেই।

এমন বিশ্বস্ত রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে আনার কোনো যুক্তি দেখছে না আওয়ামী লীগ। তাছাড়া সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতি পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘একাদিক্রমে হউক বা না হউক- দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।

সেহেতু আইনি ক্ষেত্রেও আবদুল হাদিমকে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে রাখার পক্ষে আওয়ামী লীগের সমর্থনের মাত্রা জুগিয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান সরকারে অনেক বিতর্কিত মন্ত্রী আছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।

সংসদে একাধিক এমপি আছেন যারা বিতর্কিত। এতকিছুর পরও তারা বহাল আছেন। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে তাই তাদের পদত্যাগ করানো হয়নি। সেখানে আবদুল হামিদের মতো জনপ্রিয় ও সমাদৃত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে এই পদে আনবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- এটা মনে করি না।

৫টি কারণে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে নিয়ে বেশি আলোচনা চলছে। কারণগুলো হচ্ছে-:- এক. ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ভালোভাবেই সামলেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ওই নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। শুরু হয় দেশজুড়ে অস্থিরতা ও তাণ্ডব।

পেট্রোল বোমসহ বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে অনেক মানুষ দগ্ধ এবং হতাহত হন। দেশের অস্থিরতা দেখে আ.লীগ মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথাও বলছিল। এসব পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সামাল দেন রাষ্ট্রপতি। দুই. উচ্চ আদালত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করায় সরকার এবং বিচার বিভাগের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক প্রধান বিচারপতি (এসকে সিনহা) সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এরপর মন্ত্রী ও আ.লীগ নেতারা সাবেক প্রধান বিচারপতির সমালোচনা শুরু করেন। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অস্থিরতা শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এ বিষয়টিও অতন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিন. ২০১৪ সালের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠতে পারে। সে রকম পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরীক্ষিত, আস্থাভাজন এবং সাহসী রাজনীতিবিদ মো. আবদুল হামিদকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিতে পারে ক্ষমতাসীন দলটি।

কেননা তিনি রাজনীতির মাঠে একজন পোড়খাওয়া লোক। একজন আইনজ্ঞ। তিনি জানেন কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। চার. সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে আবদুল হামিদের প্রতিই সরকারে বেশি ভরসা। কেননা তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর কেউ অসন্তুষ্ট ছিলেন না।

তিনি তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারনেও আওয়ামী লীগের গুড লিস্টের শুরুতে তিনি। পাঁচ. সুশীল সমাজের পছন্দে তালিকায়ও আবদুল হামিদ এগিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি সবার মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

সবার কাছে একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ হচ্ছেন টানা সাত বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হামিদ। বিগত পাঁচ বছরের তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নাম বা সমালোচনা ছিল না। এ কারনেই আওয়ামী লীগের তার ওপর বেশি আস্থা।

এসব কারণ বিবেচনা করে সরকার তাকে আরও এক মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপতি করার কথাই বেশি ভাবছে। সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের আলোচনা থেকেও বোঝা যাচ্ছে আবদুল হামিদই হচ্ছেন দ্বিতীয় মেয়াদে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

(Visited 1 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here