ছাত্রলীগকে সরালেন কামরান, জামানের শোডাউনে উত্তাপ

0
8121

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: ছাত্রলীগকে সরিয়ে দিলেন কামরান। খালেদা জিয়া সিলেটে পৌঁছার একটু আগেই মাজার এলাকায় পোস্টারিং শেষ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা সরে যায়।

সার্কিট হাউজ এলাকায়ও ছিল ছাত্রলীগের অবস্থান। খালেদা জিয়াকে সিলেটে প্রতিহত করার প্রস্তুতিও নিয়েছিল ছাত্রলীগ। কিন্তু সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান তার আগেই তাদের সরিয়ে নেন।

এদিকে ছাত্রলীগের প্রস্তুতিতে সিলেটে ক্ষেপে উঠে বিএনপির তুখোড় নেতা অ্যাডভোকেট জামান গ্রুপের কর্মীরা। তারাও ছাত্রলীগকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে সিলেটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জামান বলয়ের কয়েকশ’ নেতাকর্মী বিকাল ৪টার দিকে অবস্থান নেন সিলেট নগর ভবনের সামনে।

এ সময় তারা খালেদা জিয়া, ইলিয়াস আলী ও অ্যাডভোকেট জামানের ছবি নিয়ে নগরীতে মিছিল শুরু করে। এই মিছিলের আগে সিলেট বিএনপিতে ধরপাকড় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে মাজার এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় কেবলমাত্র গুটি কয়েক নেতাকর্মী ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি।

অনেকেই আবার পুলিশের ভয়ে রাস্তার পাশে শান্তভাবে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু জামান গ্রুপের কর্মীরা যখন নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তখন বদলে যায় পরিবেশ। এই মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তাপও ছড়িয়ে পড়ে সিলেটের রাজপথে। নগরীতে জামানের নেতাকর্মীরা শোডাউন শুরু করলে বিএনপির অপর বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও শক্তি ফিরে আসে। তারাও মিছিল শুরু করে।

একই সময়ে আম্বরখানা এলাকা থেকে সিটি কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম ও সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামালের নেতৃত্বে মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিল দরগাহের মূল ফটকে এসে অবস্থান নেয়। আর ওদিকে- জামান বলয়েরও নেতাকর্মীরাও মিছিল নিয়ে যান।

দুটি মিছিলের কর্মীরাই দরগাহ এলাকার মূল ফটকের বাইরে অবস্থান নেন। তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়া বলে স্লোগান দিতে থাকে। আবার কখনো কখনো ইলিয়াস আলী ও জামানের নামেও তারা স্লোগান দেয়। এদিকে- জামানের মিছিলের পর পরই নগরীতে আরো কয়েকটি মিছিল বের হয়। আর নেতাকর্মীরা এসে রাজপথে অবস্থান নিতে থাকেন।

বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে সার্কিট হাউজ থেকে দরগাহ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে নেতাকর্মীরা এসে অবস্থান নেন। এ কারণে সন্ধ্যার একটু আগে যখন বেগম খালেদা জিয়া সার্কিট হাউজ থেকে বের হয়ে মাজারে যখন তখন তার গাড়ি বহর ভিড় ঠেলে এগিয়ে যেতে হয়েছেন।

এদিকে- গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ছাত্রলীগ সিলেট নগরীতে পোস্টারিং করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে।

পুলিশের সামনে এই মহড়া দেয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তারা বলেন- বিকালে ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রকাশ্য ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে জিন্দাবাজার এলাকায় মহড়া দিয়েছে। এভাবে শহরে মহড়া দেয়ার কারণে ভীতির সঞ্চার হয়েছে বলে জানান তারা। তবে- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান জানিয়েছেন- ছাত্রলীগ বের হয়েছিল।

তিনি তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছেন। এরপরও যদি বিএনপির পক্ষ থেকে মানুষের জানমালের ক্ষতি করা হয় সেটি বরদাস্ত করা হবে না। আওয়ামী লীগ শান্তি চায়। কখনো বিশৃঙ্খল অবস্থা চায় না বলে জানান কামরান। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ জানিয়েছেন- রোববার রাত থেকে পুলিশ সিলেটে গণগ্রেপ্তার চালিয়েছে।

তারা প্রতিটি উপজেলায় অভিযান চালিয়েছে। বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতিময় পরিবেশ বিরাজ করে। আর গতকাল সিলেট থেকে শেরপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতে চেয়েছিল।

কিন্তু পুলিশের বাধার কারণে তারা দাঁড়াতে পারেননি। পুলিশ লাঠিচার্জ চালিয়ে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে বলে জানান তিনি। সুত্র:- মানব জমিন

(Visited 15 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here