বিশাল হার টাইগারদের

0
44

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: লঙ্কানদের স্পিনে কূপোকাত করতে চেয়েছিল টাইগররা। উল্টো সেই কূপেই ডুবে মরলো। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সবকটি উইকেটই নিয়েছেন লঙ্কান স্পিনাররা।

চারবছর পর দলে ফেরা রাজ্জাক নির্ধারিত সময়ের আগেই ম্যাচ শেষ হওয়ার আভাস দিয়েছিলেন। তার সেই আভাস শেষ পর্যন্ত ফলে গেলো।

কিন্তু আড়াই দিনেই ম্যাচের রেজাল্ট চলে আসবে এটা কল্পনাও করতে পারেনি কেউই। তবে আড়াই দিনে যে শেষ হবে তা দ্বিতীয় দিন শেষেই আভাস মিলেছিলো। মিরপুরে বাংলাদেশকে ২১৫ রানে বিশাল ব্যবধান পরাজিত করে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ তে জিতে নিল লঙ্কানরা।

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার পাঁচদিনের ম্যাচ শেষ হল আড়াই দিনে। স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে সিরিজও নিজের করে নিয়েছে সফরকারী শ্রীলঙ্কা। মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে।

প্রথম দিনেই আবদুর রাজ্জাক ও তাইজুলের স্পিন বিষে নীল হয়ে ২২২ রানে গিয়ে থাকে লঙ্কানরা। এরপর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লঙ্কানদে স্পিন-পেস মিশেলে ১১০ রানে গিয়ে থামে। ১১২ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করে শ্রীলঙ্কা। সেখানে ভেল্কি দেখান মুস্তাফিজ ও তাইজুল ইসলাম। অবশেষে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ২২৬ রানে গিয়ে থামে।

তখন তারা বাংলাদেশের জন্য ৩৩৯ রানের টার্গেট নির্ধারণ করে দেয়। চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ কখনও তিনশ’র বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি। ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। আর ঘরের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে একবারই।

২০১৪ সালে মিরপুরেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতেছিল ৩ উইকেটে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নতুন ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশকে করতে হতো ৩৩৯ রান। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে তা আর সম্ভব হলো না। উল্টো তারা ১২৩ রানে অলআউট হলো। তিনশ’র ওপরে রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তামিমকে হারায় বাংলাদেশ।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান তামিম। দিলরুয়ান পেরেরার অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলে পা বাড়িয়ে দেন তামিম। বলে-ব্যাটে করতে পারেননি। প্যাডে আঘাত হানলে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেন তামিম। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

প্রথমের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই দলীয় ৪৯ রানে বাংলাদেশকে আরেকবার ঝটকা দেয় অভিজ্ঞ হেরাথ। এবার তার শিকার আগের বলে বিশাল ছক্কা হাঁকানো ইমরুল কায়েস। আগের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই উইকেটের পিছনে ডিকভেলার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল কায়েস।

ইমরুলকে হারিয়েই লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। লাঞ্চ থেকে ফিরেই সাজঘরে ফিরে যান মুমিনুল। হেরাথের বলে ডিকভেলাকে ক্যাচ দেন আগের টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই তারকা। মুমিনুলের বিদায়ের পর দ্রুত বিদায় নেন লিটন। বোলিংয়ে এসেই উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান আকিলা ধনঞ্জয়া। এই স্পিনারের কুইকার ডেলিভারি পিছিয়ে গিয়ে ডিফেন্স করেছিলেন লিটন। বাড়তি বাউন্সের জন্য ব্যাটে খেলতে পারেননি।

গ্লাভসে লেগে ক্যাচ যায় শর্ট লেগে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি কুশল মেন্ডিস। এক ওভার বিরতিতে দিয়ে টাইগার শিবিরে আবার আঘাত হানেন ধনঞ্জয়া। এই অফ স্পিনার ফিরিয়ে দিলেন মাহমুদউল্লাহকে। এগিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় প্রথম স্লিপে করুনারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

মাহমুদুল্লাহর পর সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর। হেরাথের বলে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বল মিস করেন মুশফিক। দ্রুত স্ট্যাম্প ভেঙে দেন ডিকভেলা। মোসাদ্দেকের পরিবর্তে মাঠে নেমে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হন সাব্বির। ধনঞ্জয়ার বলে ক্যাচ দেন শর্ট লেগে। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিলেন আব্দুর রাজ্জাক (২), মিরাজ (৭) ও তাইজুলরা (৬)।

ফলে ১২৩ রানেই থামে টাইগারদের ইনিংস। শ্রীলঙ্কার পক্ষে ধনঞ্জয়া ৫টি, হেরাথ ৪টি ও পেরেরা ১টি উইকেট লাভ করেন। দ্বিতীয় টেস্টে দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি অর্ধশত করায় প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান রোশাল সিলভা এবং পুরো সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের শিরোপাও তার হস্তগত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here