জৈন্তাপুরে সরকারি ছড়া দখল : জন দূর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ

0
138

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেটের জৈন্তাপুরে ভারত থেকে নেমে আসা সরকারি ছড়ার (খাল) গতিপথ পরিবর্তন করে ভূমি দখল ও জন দূর্ভোগ সৃষ্টি করছে ভূমি খেকো চক্র।

ছড়ার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬ শত পরিবারের লোকজন গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য্য পানি পাচ্ছে না। ছড়ার উপরি অংশের লোকজনের ফসল ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

প্রশাসনের কাছে আবেদন করে প্রতিকার হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে উপজেলার গোয়াবাড়ী এলাকাঘুরে দেখা যায়, মেঘালয় হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ছাছি ছড়া। এছড়ার পানি ব্যবহার করছে গোয়াবাড়ী এলাকার প্রায় ৯শত পরিবার।

ছড়াকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫শত একর পতিত ভুমিকে কৃষির আওতায় নিয়ে এসেছে ছড়ার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাসিন্ধরা। ভুমি খেকো চক্রের সদস্য তাদের স্বার্থের জন্য সরকারি ছড়ার ভূমি দখল এবং পরিকল্পিতভাবে কৃষির ফসল ধ্বংসের জন্য বাঁধ দিয়ে জমি দখলে নিয়েছে। ফলে কৃষকের ফসল ফিসারী ধ্বংসের পথে এবং ছড়ার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্ধরা পানি শূণ্যতায় ভোগছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোয়াবাড়ী গ্রামের মৃত কটন আলীর ছেলে গৌছ উদ্দিন (৬৫), তার ছেলে মাহিম আহমদ (৩২) ও রহিম আহমদ (২৭) গোয়াবাড়ী গ্রামের মধ্য দিয়ে ভারতের মেঘারয় হতে বহমান ছাছি ছড়ার ইউটানেল অংশে দুটি বাঁধ দিয়ে ছড়ার গতি পরিবর্তন করে সরকারি জমি দখল করছে।

অপরিকল্পিত এই বাঁধের ফলে বাঁধের উপরিংশের প্রায় ৫শত একর ভুমিতে কৃষকের ফসল সহ মৎস্য খামারের তলিয়ে যাচ্ছে এবং ছড়ার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬শত পরিবারের লোকজন পানির অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য্য পানি পাচ্ছে না। এলাকাবাসী গত ৪ জানুয়ারী জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন করে কোন প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন।

এলাকার লোকজন আরও জানান, গৌছ মিয়ার পরিবারের কাছে এলাকাবাসী অসহায়। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারেন না। জনসাধারণ পতিত ভূমিকে কৃষির আওতায় নিয়ে আসায় কারনে কৃষকরা লাভবান হবে দেখে তিনি পূর্বপরিকল্পনা করে গোয়াবাড়ী গ্রামের মধ্যে দিয়ে বহমান ছাছি ছাড়ায় ইউ টানেল অংশে দুটি বাঁধ দিয়ে ছড়ার ভুমি দখল করে রেখেছেন।

ছড়ার গতি পরিবর্তন করে পাহাড় অংশে একটি ছোট ড্রেইন নির্মাণ করেন। যার মধ্যে দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে হলে কৃষকের ফসলি জমি মৎস্য খামার তলিয়ে যাবে এবং কৃষক পরিবারগুলোর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হবে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত গৌছ মিয়ার সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরিন করিম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়ার পরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জৈন্তাপুরকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোন্তাসির হাসান পলাশ জানান, বিষয়টি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করা হয়েছে। বাঁধের কারনে জনসাধারণ ক্ষতির সম্মুখিনসহ পরিবেশের বিপর্যয় হবে বলে আশংঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বাঁধ দুটি ধ্বংস করে দিয়ে ছাছি ছড়াকে অবমুক্ত করা হবে।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here