বিশ্বনাথে চালক বিসু হত্যা মামলা নিয়ে দুই থানার ঠেলাঠেলি!

0
179

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেটের বিশ্বনাথে অটোরিকশাসহ চালক বিসু মালাকার (৩২) নিখোঁজ থাকার পর দুইদিন পর জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে তার লাশ শুক্রবার (২ মার্চ) দুপুরে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সে উপজেলার মজলিস ভোগসাইল গ্রামের নিখিল মালাকারের ছেলে। তার লাশ উদ্ধার করা হলেও সিএনজি গাড়িটি উদ্ধার হয়নি। জগন্নাথপুর থানার এসআই ফাত্তাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের প্রাথমিক সুরতহালও করেন।

সুরতহালের সময় তার ডান পায়ের রগ কাটা ও বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। এরপর লাশটি ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জের হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার (৩ মার্চ) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের বাসিয়া নদীর শশ্মান ঘাটে লাশের দাহ সম্পন্ন করা হয়।

ছেলের খুনের ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে বিশ্বনাথ ও জগন্নাথপুর থানার ঠেলাঠেলিতে বিপাকে পড়েছেন নিহতের পিতা নিখিল মালাকার। বিসু মালাকার নিখোঁজের পর (১ মার্চ) বৃহস্পতিবার অটোরিকশার মালিক বিশ্বনাথের সরিষপুর গ্রামের গৌছ আলী (৩৬) বাদি হয়ে বিশ্বনাথ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডয়েরি নং-২১।

এদিকে, নিহতের বাবা, মা, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠছে। তাদের কান্না কেউ থামাতে পারছেনা। বিসু মালাকারের নিহতের সংবাদ শুনে তার আত্বীয়-স্বজনরা তাকে একনজর দেখতে ছুটে আসেন। শনিবার দিনভর বিশ্বনাথ উপজেলায় শুধু আহাজারি ও আত্মচিৎকারের আওয়াজ শোনা যায়।

নিহত বিসুর পরিবারকে শান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা।পরিবারের কান্নায় এবং তাদের স্বজনদের আহাজারিতে বিশ্বনাথের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নিহতের মায়ের অধিক শোকে পাথর হয়ে যেই তাদের বাড়িতে যাচ্ছে, তার দিকে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন।

কথা বলার ক্ষমতা তার নেই। নিহত বিসুর স্ত্রী, ভাই-বোনেরাও বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। তাদের পরিবারের কান্না থামাবে কে? বড় বিপাকে পড়েছেন ঐ পরিবারের সদস্যরা। তাদের কান্না থামানোর যেন কেউ নেই। নিখিল মালাকার সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার রাতে ছেলে খুনের ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় যাই।

এসময় থানার ওসি আমাকে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করার কথা বলেন। জগন্নাথপুর থানার ওসির কথামতো মামলা করতে তিনি বিশ্বনাথ থানায় আসেন। কিন্তু বিশ্বনাথ থানায় গেলেও ওসি একইভাবে বলেন তিনি জগন্নাথপুর থানায় গিয়ে মামলা করতে। এভাবেই ছেলে খুনের মামলা করতে গিয়ে দুই থানার ঠেলাঠেলিতে পড়েন নিখিল মালাকার।

এভাবে আমার ছেলে খুন হবে কখনও কল্পনা করেনি। এবিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, জগন্নাথপুর থানা এলাকা থেকে বিষু মালাকারের লাশ উদ্ধার করেছে ওই থানার পুলিশ।

ক্রাইমসিনও জগন্নাথপুর থানা এলাকায়। সুতারাং ওই থানাতেই মামলা করতে হবে। জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, নিহত বিষু মালাকারের বাড়ি বিশ্বনাথ এলকায় এবং সেখান থেকেই সে নিখোঁজ হয়েছে। ঘটনার শুরুটা যে স্থান থেকে সেখানেই মামলা করা উচিত বলে তিনি জানান।

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here