ফের ঝুঁকিতে হাওরের ১৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল

0
182

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শনি, মাটিয়াইন ও মহালিয়া বৃহৎ এ তিন হাওরের ১০ ক্লোজার বাঁধের কোনটিতেই এখনো প্যালাসাইটিংয়ের কাজ শেষ হয়নি।

দু’একটি ক্লোজার বাঁধে নাম মাত্র বাঁশ বস্তা খুঁটি দিয়ে কাজ শুরু হলেও জিওটেক্সটাইল ব্যবহার না করায় হাওরের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধগুলো ঝুঁকিতেই রয়েছে।

এর ফলে এ তিন হাওরের বোরো ফসল চলতি মৌসুমের অনেকটা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল কিংবা আগাম বন্যার ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে স্থানীয় কৃষকরা আশংকা প্রকাশি করেছেন। এদিকে বিভিন্ন ক্লোজার বাঁধের প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও সদস্যগণ জানিয়েছেন হাওরের বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কার্যাদেশে জিওটেক্সটাইল ধরা নেই।

তাই তারা নির্মাণাধীন বাঁধে জিওটেক্সটাইল দিচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলায় ২৩টি ছোট বড় বোরো ফসলি হাওরে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে শনি, মাটিয়ান ও মহালিয়া এ তিনটি বৃহৎ বোরো ফসলি হাওর। উপজেলার ২৩ হাওরে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হলেও এ তিন হাওরেই কেবল বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর।

আর এ তিন হাওরে কমপক্ষে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে শনির হাওরে রয়েছে সাহেব নগর, রামজীবনপুর গ্রামের সামনে নতুন বাঁধ, লালুর গোয়ালা ক্লোজার বাঁধসহ ৩টি। মাটিয়ান হাওরে রয়েছে মেশিন বাড়ি, আলম খালী, বনুয়া, নানদিয়া, গুঙ্গিয়ার খাল ক্লোজার বাঁধসহ ৫টি ক্লোজার বাঁধ এবং মহালিয়া হাওরে রয়েছে পাইকরতলা, গুরমা ক্লোজার বাঁধসহ ২টি ক্লোজার বাঁধ।

সরেজমিন সোমবার দিনভর ৩ হাওরে উল্লেখিত বাঁধগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কোনোটির প্রকল্প’র পিআইসিরা বাঁধে যতসামান্য বাঁশ, খুঁটি-বস্তা দিয়ে প্যালাসাইটিংয়ের কাজ শুরু করছেন। এখনো কোনো একটি বাঁধের কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ করতে পারেনি কোনো পিআইসি। তাছাড়া ১০ বাঁধের মধ্যে কোনো একটি বাঁধেও জিওটেক্সটাইল ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

সেই সাথে বাঁধ নির্মাণে রয়েছে ধীর গতি। এভাবে ধীর গতিতে বাঁধের কাজ করলে আগামী পনের দিনের মধ্যে প্রকল্প পিআইসিরা বাঁধের কাজ শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়েও হাওরের পাড়ের হাজার হাজার কৃষক পরিবার শংকিত হয়ে পড়েছেন। অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সকল বোরো ফসলী বেড়ি বাঁধের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার কথা থাকলে দু’দফা সময় বাড়িয়েও বাঁেধর কাজ শেষ হয়েও হচ্ছেনা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে বাঁধের কাজ সমাপ্ত না করতে পারলে তা দিন দিন বাঁধ গুলো হুমকির মুখে পড়বে। মাটিয়ান হাওর উপ-প্রকল্পের বনুয়া (চিলান তাহিরপুর) ক্লোজার বাঁধ প্রকল্প কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, প্যালাসাইটিংয়ের কাজ শেষ করতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে।

মাটিয়ান হাওর পাড়ের রতনশ্রী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, হাওরের গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার বাঁধগুলোতে বেশী করে বাঁশ-বস্তা-খুঁটি দিয়ে কাজ করা দরকার। না হলে বৃষ্টির দিনে বাঁধ থেকে মাটি সরে যাবে। এতে বাঁধ আরো হুমকিতে পড়বে। শনির হাওর পাড়ের আনোয়ারপুর গ্রামের কৃষক ও সাবেক ইউপি সদস্য মিলন চন্দ্র তালুকদার জাহাঙ্গী বলেন, জেলার বোরো ফসল উৎপাদনের দিক দিয়ে শনির হাওর সম্ভবত প্রথম কিন্তু এ হাওরে কোনো ক্লোজার বাঁধে জিওটেক্সটাইল ব্যবহার হচ্ছে না।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস সোমবার জানান, তাহিরপুরে কোনো হাওরে ক্লোজার বাঁধে জিওটেক্সটাইল ধরা নেই। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সভাপতি পূর্নেন্দু দেব জানান, এ নিয়ে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলাপ করে ধেকব কী করা যায়।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রকল্প মনিটরিং কমিরটর উপদেষ্টা কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শুধু তাহিরপুরেই নয় জেলার সব হাওরের ক্লোজার বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই সব হাওরের ক্লোজার বাঁধে প্যালাসাইটিং ও জিওটেক্সটাইল দেয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর তাহিরপুর উপজেলায় শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া সমসা, চুনখলা হাওরসহ ২৩টি ছোট বড় হাওরে ৯৭টি বাঁধে ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। গত মাসের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবগুলো বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু মার্চ মাসের ১২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো একটি বাঁধের কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি কোন পিআইসিগণ।

(Visited 12 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here