আজান শুনে ক্ষেপে গেলেন আ’লীগ নেতা আনহার চেয়ারম্যান : সিলেটজুড়ে তোলপাড় (ভিডিওসহ)

0
1993

সিলেটের সংবাদ ডটকম: আনহার মিয়া। বালাগঞ্জ উজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বোয়ালজুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

মধ্যবিত্ত পরিবারের আনহার এক সময় নিজ গ্রাম চান্দাইড়পাড়া স্কুলের পাশে চাচার দোকানে চা বিক্রি করতেন। এর পর কাজ শুরু করেন একটি ইন্সুেরেন্স কোম্পানীতে।

আর ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে কাজ করা কালিন সময়ে আওয়ামীলীগের একটি অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। রাজনীতির শুরুতেই বেশ উগ্র ছিলেন তিনি। তৎক্ষালিন যুবলীগ নেতা ফারুক মিয়ার আশির্বাদে দলে বেশ ভালো অবস্থান করে নেন।

এরপর বোয়ালজুড় ইউনিয়ন পরিষদের তৎক্ষালিন চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান (আখল মিয়া) আকম্বিক মৃত্যুবরণ করলে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার আচার আচরণে বেশ পরিবর্তন আসে। স্থানীয় মুরব্বিদের সাথে শুরু করেন দূর্ব্যবহার ফলে চেয়ারটি বেশীদিন ধরে রাখতে পারেন নি।

দীর্ঘদিন পর গত নির্বাচেন প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পার হন। এর পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। তার কবল থেকে এখন রক্ষা পাচ্ছেনা মসজিদ ও আজানও। আজান শুনলে তার মনে জ্বালাতন উঠে যায়। স্থানীয় মসজিদে আযান দেয়ায় ইমামকে ডেকে এনে শাসিয়েশেন তিনি।

এনিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। আনহার মিয়ার অভিযোগ, আজানের কারনে তিনি মিটিং করতে পারেন না। উনার মিটিংয়ের সময় নাকি আজান দিয়ে বাধাঁ প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে একটি অনুষ্টানে আজান ও ইমাম সম্পর্কে তার এমন আপত্তিকর ও ধর্মীয় অনুভূতিতি আঘাত হানার মত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আর এতে করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সমালোচনা চলছে। আর এতে করে বিব্রকত পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন দলটির নেতারা। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একাধিক দ্বায়িত্বশীল বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে বিব্রত এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজান নিয়ে এরকম মন্তব্য করা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না। ভিডিওটিতে দেখা যায়, স্থানীয় নতুন বাজারে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও আলোচনা সভা চলছিল। সভা চলাকালিন সময়ে পাশের মসজিদে যোহরের আজান দেন মসজিদটির ইমাম। এসময় আনহার মিয়া বলেন, ‘আদিলকিলামি করইন, কোনখান মিটিং মাটিং দেখলে তারা দেওয়ানা হইযায় আজান দেওয়ার লাগি।

কেনে আজান দুই মিনিট আগে দিল অখানর জওয়াপ দিত হইব। কেনে দুই মিনিট আগে আজান দিল, অনুষ্টান দেখলে দেওয়ানা হই যায়। এর পর তিনি মাইক হাতে নিয়ে বলেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যেকোন জাতীয় অনুষ্টানে আজান দিয়ে বাধা দেয়া হয়। এর কারন হচ্ছে অনুষ্টানে বাধাঁ দেয়া।

কোনো অনুষ্টান হলে এখানে আজানের প্রতিযোগীতা হয়। আমি মসজিদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, কেন দুই মিনিট আগে আজান দেওয়া হলো আমি বুঝলামনা। এসময় আনহার মিয়া জামাল নামে একজনকে মসজিদের ইমামকে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মুরব্বী বলেন, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিধর্মী হয়েও আজানের সময় তার বক্তব্য বন্ধ রাখেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও আনহার মিয়ার নেত্রী শেখ হাসিনাও যেখানে আজানকে সম্মান করেন সেখানে তার এরকম মন্তব্য ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে আঘাত করেছে।

যা আগামী নির্বাচনে আনহার মিয়া ও তার দলের জন্য ক্ষতির কারন হবে। বিষয়টি নিয়ে জানতে বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বোয়ালজুড় ইউপি চেয়ারম্যান আনহার মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

বালাগগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মফুর বলেন, আমি এলাকার বাহিরে আছি। তাই বিষয়টি জানিনা খোঁজ নিয়ে দেখিছি। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, আজান নিয়ে সে কি বলেছে আমি জানি না, খবর নিয়ে দেখতেছি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বলেন, আমি ভিডিওটি দেখিনি, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। সুরমা ভিউ ২৪

আজান শুনে ক্ষেপে গেলেন আ’লীগ নেতা আনহার চেয়ারম্যান

আজান শুনে ক্ষেপে গেলেন আ’লীগ নেতা আনহার চেয়ারম্যান

Posted by Sylheter Songbad on Thursday, March 29, 2018

(Visited 20 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here