কালবৈশাখীর ছোবলে সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় নিহত ৬

0
142

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী বয়ে গেছে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।

ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার (৩০মার্চ) বিকেল থেকেই দেশের উত্তরাঞ্চলে কালবৈশাখীর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ায় রাস্তায় ভেঙে পড়ে গাছের ডালপালা।

এ সময় সর্বত্র যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে সিলেটের ওসমানীনগরে সাবিয়া বেগম (৩০), পাবনার ঈশ্বরদীতে শিলার আঘাতে জমেলা খাতুন (৫৫), দিনাজপুরের পার্বতীপুরের সৈয়দ আলী (৫৫), মাগুরা সদর উপজেলার আকরাম হোসেন (৩৫) নামে দুই কৃষক এবং হাসান আহমদ নামে দেড় বছরের এক শিশু মারা গেছে।

এ ছাড়া বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তারে জড়িয়ে যশোরের অভয়নগর উপজেলায় লাইজু খাতুন নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। সিলেট নগরী ও সুনামগঞ্জে ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিসেবা। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রাস্তায় ও রেললাইনে গাছ ভেঙে পড়ে অনেকক্ষণ বন্ধ ছিল সড়ক ও রেল যোগাযোগ।

জানা গেছে, সিলেটের ওসমানীনগরে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে এক নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে তাজপুর ইউনিয়নের দশহাল এবং উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর গ্রামে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা।

ঝড়ের সময় তাজপুর ইউনিয়নের দশহাল গ্রামে আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে আসা সাবিয়া বেগমের ওপর বাতাসে উড়ে আসা টিনের চাল পড়লে তার মৃত্যু হয়। তিনি পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের খালিছ মিয়ার স্ত্রী। এ ছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর রংবরং গ্রামের সুমন মিয়ার দেড় বছরের শিশু সন্তান হাসান আহমদ পুকুরের জলে ডুবে মারা যায়।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে কালবৈশাখীতে নগরীতে অসংখ্য গাছপালা, বিলবোর্ড ভেঙে পড়েছে ও ঘরের চাল উড়ে গেছে। সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো নগরী। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপিত হলেও লো-ভোল্টেজ ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ঝড়ের সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যে নগরীর কাজীবাজার ব্রিজে চটপটির ভ্যান উড়ে এসে যুবলীগ নেতা মোসাদ্দেক হোসেন মুসার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিকেলের কালবৈশাখীতে বিমান চলাচল, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বেশ বিঘ্ন ঘটে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকেল সোয়া ৪টা থেকে তিন ঘণ্টার জন্য সতর্কতা জারি করে বিমানবন্দরের আবহাওয়া অফিস। এ সময় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য বিমানবন্দর থেকেও ঢাকাগামী ফ্লাইটগুলো বন্ধ রাখা হয়।

এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম জানান, কক্সবাজার থেকে রিজেন্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এলেও ঝড়ো হাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ছাড়া ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটও বিলম্বে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে অবতরণ করে।

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here