গালকাটা কয়েস ও তার পরিবারের জীবন কাহিনী (পর্ব ১)

0
975

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: সিলেট নগরীর সোনারপাড়ার (ছাপরবন্ধ) এলাকার ফয়েজ-উল-কয়েস উরফে গালকাটা কয়েস ও তার পরিবার সম্পর্কে জেনে নিন অজানা কাহিনী।

প্রথমে জেনে নিন কয়েসের বাবা নুরুউদ্দিন, কয়েসের চাচা (জামায়াত নেতা) আলাউদ্দিন, কয়েসের ফুফু খাতুন বিবি ও সায়রা খাতুনের ইতিহাস। নুরুউদ্দিনের মা (মানে কয়েসের দাদী) ছিলেন হামিদা খাতুন, দাদা ছিলেন আব্দুল করিম।

আব্দুল করিম ও হামিদা খাতুনের বসবাস ছিলো ২১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সুজ্জাদুর রহমান সুজ্জাদের পিছনের বাড়ি। নুরুদ্দিন ছিল ভবঘুরে। আর আলাউদ্দিন ছিলো মাদ্রাসা লাইনের ছাত্র। নুরুউদ্দিন তার মা-বাবার টাকা সব সময় চুরি করে আড্ডা মেরে উড়িয়ে দিতেন।

নুরুদ্দিনের বড় বোন খাতুন বিবিকে হামিদা খাতুন জীবিত থাকাবস্হায় নয়াসড়কের চাঁন মিয়ার কাছে বিয়ে দিয়ে দেন। এরপর যখন নুরুদ্দিনের মা মারা যান তখন নুরুদ্দিনের (কয়েসের দাদী) হামিদা খাতুনের কাছ থেকে তার ছোট মেয়ে সায়রা খাতুনকে সায়রা খাতুনের ফুফু ছাফরবন্ধ পাড়ার ফাতেমা পিরানী নিয়ে যান।

বলা বাহুল্য নুরুদ্দিন ও আলাউদ্দিন তখন বেকার ছিলেন। এরপর নুরুউদ্দিনের মামারা নুরুদ্দিন ও আলাউদ্দিনকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাড়ি বিক্রি করে ফেলেন। তখন নুরুদ্দিন তার বড় বোনের বাসার কাছে বারুতখানায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। আর টিলাগড়, মিড়াপাড়া, শিবগঞ্জ, নয়াসড়কসহ বিভিন্ন কাঠ মিস্ত্রির সাথে জোগালী হিসেবে কাজ করতে থাকেন।

এদিকে কয়েসের চাচা আলাউদ্দিন বন্দরবাজারের মশরাফিয়া হোটেলের সামনে আম্বিয়া মিয়ার দোকানে কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন। তার কয়েক বছরের মাথায় আলাউদ্দিন তৎকালীন জামায়াত শিবিরের সাথে যুক্ত হয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডভাবে জামায়াতের রাজনীতি শুরু করেন। তখন তিনি ছিলেন মৌলভীবাজারের কুসুমবাগ এলাকায়।

এদিকে নুরুউদ্দিন অনুমানিক ১৯৭২ সালে দিকে গোলাপগঞ্জ থানার ভাদেশ্বরের মোকামবাজারের পুববাগে খেলাতুন নেছাকে বিয়ে করেন। ফয়েজ-উল-কয়েস, শিপা বেগম, রেজাউল হোসেন রাজু, সাজাউল ইসলাম সাজু। অভাব আর অনটনে কষ্ট করে চলতো নুরুদ্দিনের সংসার।

মাঝে মধ্যে নুরুউদ্দিন ফুফু ফাতেমা পিরানীর কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে কোন রখম দিন কাটাতে থাকেন। এরি মধ্যে নুরুদ্দিন একদিন টাকা না পেয়ে ফাতেমা পিরানীর কোরআন শরীফ থেকে ১০০ টাকা চুরি করে চলে যায়। এসব ঘটনা এলাকার লোকজন জেনে ফাতেমা পিরানীকে বলেছিলেন তাদেরকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য।

তখন তিনি বলেছিলেন আমি মারা যাওয়ার পর যদি আসবে এর আগে না। এদিকে ফাতেমা পিরানী নুরুউদ্দিনের আরেক বোন সায়রা খাতুনকে বিয়ে দিয়ে জামাইসহ বাড়িতে থাকার জন্য জায়গা দান করেন। পরবর্তীতে ঐ ছোট বোনের জামাই নুরুদ্দিন ও আলাউদ্দিনকে বাড়িতে আনার জন্য ফাতেমা পিরানীর কাছে অনুরোধ করনে।

এরি মধ্যে ফাতেমা পিরানী মারা যান। তখন নুরুদ্দিন ও আলাউদ্দিন ফুফুর লাশ দেখতে (জায়গার লোভে) ছাপরবন্ধ পাড়ায় আসেন। তখন সায়রা খাতুনের স্বামী তাদেরকে বাড়িতে থাকার জন্য বললে এ সুযোগে তারা বাড়িতে থেকে যায়। নুরুউদ্দিন পরদিন তার পরিবার নিয়ে একেবারে চলে আসে। আর আলাউদ্দিন ছাপরবন্ধ পাড়ায় এসে বিয়ে করেন। চলবে……………………….. সুত্র:- https://www.facebook.com/সত্যি-কথা-কইয়া-দিমু-1553305958322…/

(Visited 14 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here