জাফলংয়ের পাথররাজ্যে অপকর্ম : আতাই-নান্নুর খুঁটির জোর কোথায়?

0
201

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেটের জাফলংয়ের পাথর রাজ্য এখন সব ধরণের অপকর্মের অভয়ারন্যে রুপ নিয়েছে। ঘটেছে এখানে একের পর এক শ্রমিকের প্রাণহানীর ঘটনা।

শতাধিক অভিযান চালিয়েছে টাস্কফোর্স। জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে যন্ত্রদানব বোমা মেশিন। এরপরও থামছেনা পাথর উত্তোলন। সম্প্রতি বেলাল ও ড. শহিদের পাথর কোয়ারীতে পৃথক দুর্ঘটনায় ২জন পাথর শ্রমিক নিহত হন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এনিয়ে গত দু’বছরে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতে টাস্কফোর্সের অন্তত শতাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত অসংখ্য বোমা মেশিন। কিন্তু অভিযানের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই যেন বাড়ছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন এবং শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা।

পাথর তুলতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে গত ১৪ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮ জন শ্রমিক। এরমধ্যে ২০১৭ সালে মারা গেছেন ৩৪ জন। কিন্তু চলতি বছরের দুই মাসেই ২৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে পাথর কোয়ারিগুলোতে।  টাকার লোভে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবে।

এখানকার উত্তোলিত পাথর টাকায় রপান্তর হয়ে বেশ কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, আমলা, পুলিশ, সাংবাদিকদের পকেটে যায়। যারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তাদের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিবেশ মামলা করে, মামলা হয় খনিজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এরপরও থামছেনা।

এনিয়ে ক্রাইম সিলেটের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তথ্য। জানা যায়, শম্পা রানী দাস নামের এক পাথর শ্রমিক নিহতের ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও পাথর ব্যবসায়ী নান্নু মিয়াকে ওইদিন আটক করে। মামলা হয়। কিন্তু রাতের আধারে মামলার বাদীনি নিহতের মাকে খোঁজে পাওয়া যায়না।

বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে। এদিকে রিলিফের প্রলোভন দেখিয়ে নারী শ্রমিককে ধর্ষনের মামলায় জেল হয় আতাই মেম্বারের। তিনি শম্পা রানী দাস নিহতের মামলার আসামীও। ওই মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আদালত মেম্বারসহ কয়েকজনকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এদিকে কবিরাজ নামে পরিচিত আরেক পাথর ব্যবসায়ীর নাম জাফলং বাসীর কাছে পরিচিত। তিনিও মামলায় জেল খাটেন।

এব্যাপারে পরিবেশকর্মী আব্দুল করিম কীম বলেন, সমাজের সবাই সচেতন হলে পাথর রাজ্যে আর প্রাণহানী ঘটবেনা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকল দপ্তরের মামলা তারা গিলে ফেলার মতো ক্ষমতা রাখে। স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলওয়ার বর্তমানে তাদের বিপক্ষে রয়েছেন।

এরপরও থানায় তাদের গুপ্তচর রয়েছে। যাদের কাছ থেকে আতাই-নান্নু সব সময় খোঁজ-খবর নিয়ে থাকে। গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলওয়ার হোসেন বলেন, পাথরখেকোসহ আতাই-নান্নুর বিরুদ্ধে প্রশাসন এ্যাকশনে রয়েছে। সুত্র:- আজকের সিলেট

(Visited 19 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here