নবীগঞ্জে ভাটি অঞ্চলে শতাধিক একর বোরো ফসল পানিতে

0
225

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: গত দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে আর উজান থেকে নেমে ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ভাটি অঞ্চলে শতাধিক একর বোরো ফসলের পাকা ধান। ভাটি অঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা ধান ডুবে গেছে।

তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে আরো প্রায় দুই হাজার একর পাকা ফসলের জমি। এতে দরিদ্র কৃষকদের চোখে মুখে দেখা দিয়েছে হতাশা।

এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও হঠাৎ বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়াতে কৃষকরা এখন বিষন চিন্তায় সারা বছর কি খাবে? তারা কিভাবে মহাজনের ঋণ শোধ দিবে? এই দুশ্চিন্তায় তাদের ঘুম নেই। অন্যদিকে বর্ষণের ফলে বিভিন্ন মৎস্য খামারে প্রায় লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

নবীগঞ্জের ১নং ভাকৈর ইউনিয়নের শৈলা রামপুর গ্রামে বিঞ্চু পাল, শ্রী মহাদেব চন্দ্র পাল, অমর আলী,সমর চন্দ্র পালের প্রায় সবটুকু জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। দুই একদিনের মধ্যে যদি বৃষ্টির পনি নেমে গেলে এসব ধান কাটা সম্ভব আর না হয় পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, মকার হাওর ও করগাও হাওরের ক্যানেলটি মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন-এর খননের ব্যবস্থা না করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে ধানের জমিতে পানি জমে থাকছে। ফলে একরের পর একর জমি পানিতে ডুবে যাচ্ছে। আর পানি পুকুরকে প্লাবিত করে মাছের সর্বনাশ ডেকে আনছে।

জমির বোরো ধানের উপর রামপুর গ্রামের কৃষকরা নির্ভরশীল হওয়ায় সারা বছরের খাবারের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসাবে রয়েছে মহাজন ও বিভিন্ন এনজিওর ঋণ। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী।

করগাও, শৈলা রামপুর,ভাকৈর,বোয়ালিয়া গ্রামের মানুষের এখন শুধু চোখে-মুখে তাদের দুশ্চিন্তার ছাপ। কিভাবে পাকা ধান ঘরে তুলবে সে চিন্তায় দিশাহারা চাষিরা। গত কয়েক দিনের ঝড় ও ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে অধিকাংশ জমির পাকা ধান। এ অবস্থায় উপজেলার শত শত চাষিদের মাঝে এখন চরম হতাশা বিরাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্থ চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর এলাকায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে এসব ফসল ঘরে তোলার সময় হলেও হঠাৎ করে ঝড়-বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমির ফসল তলিয়ে গেছে। পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শত শত হেক্টর জমির ফসল। চোখের সামনে এ ক্ষতি দেখেও কিছু করার নেই তাদের।

প্রতিদিনই ঝড়-বৃষ্টি লেগে থাকায় চাষিদের জন্য চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এলাকার অধিকাংশ চাষিরা বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও এবং সুদে কারবারীদের কাছ থেকে অধিক মুনাফায় টাকা এনে চাষাবাদে ব্যয় করেছেন। এ অবস্থায় তাদের শেষ অবলম্বন বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

বড় হাওরের কৃষক গোলাম হোসেন (৩০) ও আঃ মন্নান (৬৫) বলেন এই বৃষ্টি আর পানি যদি ছয় সাতদিন থাকে ‘এইবার ধানের ভাত খাওয়া যাইত না, এই ধান গরুরে খাওয়াইতে অইব’। আকরাম উল্লা বলেন ব্যাংকের ঋণ কিভাবে শোধ করবো এই চিন্তাই ঘুম আসে না। তিনি বলেন আমরা শ্রমিকের অভাবে অর্ধেক ধান কাটতে পারি নাই।

এবার যদি বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারি না এসর্বনাশ কিছুতেই পোষাতে পারবো না। উপজেলা কৃষি অফিসার দুলাল উদ্দিন জানান, এই কালবৈশাখী টানা বর্ষনে ঢলের পানিতে এ উপজেলায় হাওরাঞ্চলের পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়া কৃষকদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ উপজেলা শতাধিক একর জমির পাকা ধান ঝরাসহ তলিয়ে গেছে।

(Visited 9 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here