ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড ধূলিঝড় : ৬৮ জনের প্রাণহানি

0
124

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: পশ্চিম ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আকস্মিক ধূলিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ঘরবাড়ি। পরে প্রচণ্ড বৃষ্টিও হয়।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঝড়ে অন্তত ৬৮ জন মারা গেছে। কয়েক শতাধিক মানুষ আহত। এএফপির খবরে জানানো হয়, ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

বুধবার উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরাখন্ডে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ঝড়বৃষ্টিতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা প্রদেশেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দিল্লিতে ঝড়ে বিদ্যুৎবিভ্রাট ঘটে। বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানায়, ঝড়ে উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে আগ্রায় ৩৬ জন, বিজনরে ৩ জন, সাহারানপুরে ২ জন ও বেরিলিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধূলিঝড়ের কবলে পড়ে ভারতের রাজস্থানে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। গতকাল ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যের ভরতপুর জেলা। সেখানে ১২ জন মার যায়।

দুই ঘণ্টাব্যাপী প্রচণ্ড ধুলা আর ঝড়ে ধলপুরে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আলওয়ার জেলায় মারা গেছে ৪ জন। ঝুনঝুনু ও বিকানের জেলায় ১ জন করে মারা গেছে। ঝড়নয়াদিল্লিতে ঝড়ের সময় পুকুরে নেমেছে দুই শিশু। ছবি: এএফপিঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ার পাশাপাশি অনেক গাছ উপড়ে গেছে। ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।

বাড়ি ধসে পড়ে বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজস্থানের কর্মকর্তারা। হতাহত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ ও সেবা পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এক টুইট বার্তায় বসুন্ধরা রাজে বলেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা। পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। উত্তরাখন্ডের ডিজাস্টার মিটিগেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (ডিএমএমসি) বলছে, ঝড়ে কুমাউন জেলায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল খারাপ আবহাওয়ার কারণে ১৫টি ফ্লাইট বাতিল করে তারা। এর মধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও ছিল। ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ শহরে আঘাত হানে। এদিকে আকস্মিক ধূলিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা প্রদেশও।

পাঞ্জাবের মহালি, জিরাকপুর, লুধিয়ানা ও মুকটসার জেলা ধূলিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। রাস্তায় জান চলাচল ব্যাপক বাধাগ্রস্ত হয়। হরিয়ানা প্রদেশের পঞ্চকুলা, কারনাল, মহেন্দ্রনগর ও আমবালাতেও ধূলিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

(Visited 14 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here