আজ রাতেই হতে পারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি!

0
1613

সিলেটের সংবাদ ডটকম: সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির প্রায় ৭ মাস পর পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা হতে যাচ্ছে। আজ ১০ মে বৃহস্পতিবার রাতেই কমিটি ঘোষণা হতে পারে।

এমটাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সুত্রে জানা গেছে। তবে এ কমিটিতে থাকতে পারে চমক। কমিটিতে স্থান পেতে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।

ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত। শাহপরান ব্লক ছাত্রলীগ গ্রুপ থেকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী রশিদুল ইসলাম রাশেদ। সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন রাশেদ। এ গ্রুপ থেকে সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সহ-সভাপতি সুহেল আহমদ মুন্না এবং সহ-সম্পাদক ইশতিয়াক চৌধুরী আছেন সভাপতি পদের দৌড়ে।

তেলিহাওর গ্রুপ থেকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে আগ্রহী সাবেক সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন পারভেজ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাক্কুর আহমদ জনি। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পাওয়ার দৌড়ে আছেন সুরমা গ্রুপের মুহিবুর রহমান ও বিপ্লব দাস।

সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন মুহিব, বিপ্লব ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক। ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রীয় গ্রুপের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রণজিত সরকারের আশির্বাদপুষ্ট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য নাজমুল ইসলাম, কনক পাল ও অসীম কান্তি কর সভাপতি পদ পেতে আগ্রহী।

বিলুপ্ত হওয়া কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অসীম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন কনক। এদিকে, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলুর সমর্থনপুষ্ট সাজু আহমদও আছেন সভাপতি পদ পাওয়ার দৌড়ে।

সম্প্রতি বিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ১৫ ছাত্রলীগ নেতার মধ্যে সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন নাজমুল ইসলাম, জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান, ইশতিয়াক চৌধুরী ও মুহিবুর রহমান। উল্লেখ্য যে, বিলুপ্ত কমিটি কেন্দ্র থেকে গঠন করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর।

এর আগের বছর ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে সিপিবি-বাসদের বিভাগীয় সমাবেশে তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিরণ মাহমুদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগে জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। দলীয় সূত্র জানায়, সিপিবি-বাসদের সমাবেশে হামলার ঘটনা দেশ–বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।

ওই দিন রাতেই কেন্দ্র থেকে জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এ ঘটনার প্রায় এক বছর পর ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শাহরিয়ার সামাদকে সভাপতি ও এম রায়হান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০ সদস্যের নতুন কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আরও ১৩১ সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্র থেকে ১৪১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এ কমিটির মেয়াদ ছিল এক বছর। এ মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে অতিবাহিত হওয়ার পর ছাত্রলীগে বিভক্তি শুরু হয়। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগে থাকা কয়েকজন নেতার প্রভাবে অন্তত ছয়টি ভাগে বিভক্ত হয় ছাত্রলীগ।

এর মধ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের কর্মী জাকারিয়া মোহাম্মদ মাসুম (২৪) ‘টিলাগড় গ্রুপ’-এর কর্মীদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার মাস খানেক পর টিলাগড় এলাকায় দুই পক্ষে বিভক্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীর পক্ষের কর্মীদের হাতে নিহত হন ওমর মিয়াদ (২২)।

সর্বশেষ অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে গত বছর ৭ জানুয়ারি রাত পৌনে ৯টার দিকে টিলাগড় পয়েন্টে আজাদ গ্রুপের নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তানিম আহমদ খান।

তিনি ওসমানীনগর উপজেলার নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের ইসরাইল খানের ছেলে। এ হত্যাকাণ্ডের পর ২টি হত্যা মামলাগুলোয় অভিযুক্ত হন রায়হান। রায়হান হত্যা মামলাগুলোয় প্রধান আসামি হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

(Visited 19 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here