কে হচ্ছেন ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি?

0
489

সিলেটের সংবাদ ডটকম ডেস্ক: টান টান উত্তেজনা নিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ  ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন। সিলেকশন না ইলেকশন, এ নিয়ে গত কদিন ধরে ছিল আলোচনা।

সবকিছু ঠিক থাকলে বিকাল ৩টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবারের সম্মেলনকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আবার সংগঠনের শীর্ষ পদ পেতে প্রার্থীরাও মরিয়া। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে ধরনা দেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চান শতভাগ ক্লিন ইমেজের একটি কমিটি। বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনুগত এবং কোনো ধরনের বদনাম নেই, যোগ্য ও মেধাবীদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার পক্ষে তিনি। ফলে গত এক মাস ধরেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

শীর্ষ পদের প্রার্থীদের দিয়ে প্রথমে সমঝোতা করার চেষ্টা করা হবে, না হয় স্বচ্ছ ব্যালটে ভোট। একটু পরের ঘোষণায় কে হচ্ছেন ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি? এ দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। কাউন্সিলরদের ভোটে, না সমঝোতায় হবে নতুন কমিটি- সে বিষয়টি গতকাল পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বলেছিলেন, যেভাবে হওয়ার সেভাবেই হবে। ইতিমধ্যে কে কে প্রার্থী তাদের তালিকা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি আছে। তালিকায় আসা আগ্রহীদের ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়।

সমঝোতা হলে এই কমিটির প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে। তা না হলে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর প্রাধান্য পেয়ে এলেও এবার এর বাইরে থেকে শীর্ষ পদে কেউ আসতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ছিলেন।

ওই কমিটির সভাপতি লিয়াকত শিকদার ঢাকা কলেজের এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।  সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আনতে সংগঠনের পরিশ্রমী, ত্যাগী, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে।

প্রার্থীদের ইমেজ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অবদান, কোটা সংস্কার আন্দোলনে ভূমিকা, পারিবারিক রাজনৈতিক মতাদর্শসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত কি-না তাও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কোনোভাবেই কমিটিতে অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই দেওয়া হবে না। এবারের সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ৫০ হাজার নেতা-কর্মীর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝড় বৃষ্টি মাথায় রেখেই মূল মঞ্চসহ সর্ব সাধারণের বসার স্থান ?

ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি গেটে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবী কর্মীও থাকবে। এবার লক্ষাধিক নেতা-কর্মীর সমাগম হবে বলে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ছাত্রলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। প্রতি বছরের মতো এবারও সম্মেলনের প্রথম দিনের প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নেতৃত্ব গঠনে কিছু নির্দেশনা দিয়ে যাবেন।

সেই নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী নেতা নির্বাচিত হবেন। ??একই সঙ্গে সোহাগ-জাকির কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করা হবে। এবার ছাত্রলীগ নেতাদের বয়সের ক্ষেত্রে তিন ক্যাটাগরিতে ফরম বাছাই করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৭ বছর, ২৯ বছর এবং ২৯ ঊর্ধ্ব বয়সী।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী যদি ২৭ বছর নির্ধারণ করে দেন তাহলে তার বেশি বয়সীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবেন। একইভাবে যদি ২৯ বছর নির্ধারণ করেন তাহলে তার বেশি বয়সীরা বাদ পড়বেন। সেভাবে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে ফরমগুলো। মূল সম্মেলন শুরু হবে বিকাল সাড়ে ৩টায়।

এর আগে বেলা ১২টা থেকে নেতা-কর্মীসহ সর্বসাধারণ সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবেন। সন্ধ্যায় কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। কনসার্টে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম ও নগরবাউল খ্যাত জেমস সংগীত পরিবেশন করবেন।

(Visited 20 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here