তারাবিহ নামাজ নিয়ে কেন এই বাড়াবাড়ি ৮ রাকাত পড়লে ক্ষতি কি?

1
147

সিলেটের সংবাদ ডটকম: তারাবিহ নামাজ ৮ রাকাআত না ২০ রাকাআত এ নিয়ে একটি মহল শান্তির নগরী সিলেটকে অশান্ত করার পায়তারা শুরু করেছে।

সুন্নত এই নামাজ ২০ রাকাআত এবং ৮ রাকাআত পড়ার সপক্ষে যুক্তি রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮ রাকাআত ও ২০ রাকাআত পড়ার প্রচলন রয়েছে।

এ নিয়ে কোন বিরোধ নেই। মঙ্গলবার (২২ মে) সিলেটে ‘উলামা পরিষদ বাংলাদেশ ও তাওহীদি জনতা’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলা হয়েছে যারা ৮ রাকাআত পড়েন তাদের সকল কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে।

তাদের এই আল্টিমেটাম নিয়ে সুধীমহল প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এধরনের আল্টিমেটাম বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী। কারো ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জোর জবরদস্তি করার সুযোগ নেই। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম নামাজ। নামাজকে মুমিনের মেরাজ বলা হয়।

আর তারাবিহ তথা কিয়ামুর রমজান প্রসঙ্গে তো প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণাই দিয়েছেন যে, কিয়ামুর রমজান তথা তারাবিহ আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার বিগত জীবনে গোনাহ মাফ করে দেবেন। তারাবিহ নামাজের রাকাআত সংখ্যা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।

নামাজ আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সেতুবন্ধনের অন্যতম মাধ্যম। সুতরাং তারাবিহ নামাজ ১১ রাকাআত, ১৩ রাকাআত, ৮ রাকআত এবং ২০ রাকাআত নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই উত্তম। নামাজ যে যত বেশি পড়বে; তার ফায়েদা ও উপকারিতা এবং আল্লাহ সঙ্গে বান্দার সেতুবন্ধনও তত বেশি মজবুত হবে।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো তারাবিহ নামাজ নয়, কেউ কেউ ফরজ নামাজই আদায় করে না; নামাজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কারো কোনো চিন্তা-ফিকিরও নেই; বরং তারাবিহ নামাজ ৮ রাকাআত পড়া জরুরি নাকি ২০ রাকাআত পড়া জরুরি, তা নিয়েই বেশি ব্যস্ত মানুষ।

পবিত্র কাবা শরিফ, মসজিদে নববি, রিয়াদের সবচেয়ে বড় মসজিদ কিং ফয়সাল মসজিদসহ বিশ্বের অনেক দেশ ও মসজিদে ২০ রাকাআত তারাবিহ পড়া হয়ে থাকে। আবার একই শহরের অন্য মসজিদে ৮ রাকাআত তারাবিহ পড়া হয়ে থাকে, সেখানে কোনো মত বিরোধ নেই। পবিত্র বায়তুল্লাহ ও মসজিদে নববিতে কেউ ২০ রাকাআতে অংশ গ্রহণ করছে; আবার কেউ কেউ ৮ রাকাআত পড়ে তারাবিহ থেকে বিরত থাকছে।

এটা নিয়ে সেখানেও কোনো দ্বিধা-বিভক্তি নেই। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে ৮ রাকাআত এবং ২০ রাকাআত নিয়েই চলছে বেশ বাড়াবাড়ি। এ অবস্থায় যারা সাধারণত নামাজ পড়তে অনাগ্রহী, তারা হতাশা এবং দুটানায় নামাজই ছেড়ে দেয়ার অবস্থা। যা সাধারণ মানুষকে নামাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

প্রথমত ফরজ নামাজ আদায় করা। অতঃপর কিয়ামুর রমজানসহ অন্যান্য নামাজে নিজেদেরকে তৈরি করে নেয়া। তারাবিহ নামাজ ২০ রাকাআত এবং ৮ রাকাআত নিয়ে বাড়াবাড়ি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যেহেতু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিমামণ্ডিত পবিত্র রমজান মাসে তারাবিহ নামাজ আদায় করেছেন, সেহেতু তারাবিহ নামাজ আদায় করা মুসলিম উম্মাহর জন্য সুন্নাত।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৩ দিন সাহাবাদেরকে নিয়ে জামাআতের সঙ্গে তারাবিহ নামাজ আদায় করেছেন। আর অন্যান্য দিনগুলোতে একা একা আদায় করেছেন। সাহাবায়ে কেরামও একা একা আদায় করেছেন।

কারণ তারাবিহ নামাজ উম্মতে মুহাম্মদির ওপর ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধারাবাহিকভাবে রমজানের বাকী দিনগুলোতে জামায়াতের সহিত তারাবিহ নামাজ আদায় করেননি।

অতঃপর ১৪ হিজরি সনে খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করেছেন।

(Visited 506 times, 1 visits today)

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here